কলকাতা

স্বাস্থ্যসাথী উপভোক্তা তালিকা যাচাইয়ে জোর, গরমিল চিহ্নিত করতে উদ্যোগী প্রশাসন

বাড়ি বাড়ি গিয়ে উপভোক্তাদের তথ্য যাচাই করতে গিয়ে পুরনো তালিকার সঙ্গে বাস্তবের একাধিক অসংগতি সামনে আসছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর

জ্যোতির্ময় দত্ত, নবান্ন: স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের উপভোক্তা তালিকায় স্বচ্ছতা ও নির্ভুলতা নিশ্চিত করতে তৎপর প্রশাসন। বাড়ি বাড়ি গিয়ে উপভোক্তাদের তথ্য যাচাই করতে গিয়ে পুরনো তালিকার সঙ্গে বাস্তবের একাধিক অসংগতি সামনে আসছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর। কোথাও কার্ডধারীর বর্তমান অবস্থান জানা যাচ্ছে না, কোথাও আবার নথিভুক্ত নামের সঙ্গে বাস্তবের তথ্যের মিল খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে প্রকৃত উপভোক্তাদের চিহ্নিত করতে তালিকা পুনরায় যাচাইয়ের উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, যাচাই প্রক্রিয়ায় ৩০ লক্ষেরও বেশি উপভোক্তার তথ্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আয়ুষ্মান ভারত-সহ স্বাস্থ্যবিমা সংক্রান্ত বিভিন্ন কার্ডের তথ্য যাচাইয়ের সময় এই অসংগতি সামনে এসেছে বলে জানা যাচ্ছে। তবে কতজনের নাম প্রকৃতপক্ষে বাদ দেওয়া বা সংশোধন করা প্রয়োজন, তা বিস্তারিত যাচাইয়ের পরেই স্পষ্ট হবে।

বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, সরকারি স্বাস্থ্যবিমা প্রকল্পের উপভোক্তা তালিকা নিয়মিত যাচাই করা হলে প্রকৃত সুবিধাপ্রাপকদের চিহ্নিত করা সহজ হয়। পাশাপাশি, ভুয়ো বা অপ্রাসঙ্গিক তথ্য থাকলে তা সংশোধনের সুযোগও তৈরি হয়। এর ফলে সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রকল্পের পরিষেবা আরও কার্যকর করে তোলা সম্ভব। প্রশাসনিক স্তরে এখন মূল লক্ষ্য, তালিকায় থাকা প্রত্যেক উপভোক্তার তথ্যের সত্যতা যাচাই করা এবং প্রকৃত প্রাপকের কাছে স্বাস্থ্যবিমার সুবিধা পৌঁছে দেওয়া। কোথায় কী ধরনের গরমিল রয়েছে, তার পূর্ণাঙ্গ চিত্র সামনে এলে পরবর্তী পদক্ষেপ স্থির করা হবে বলে সূত্রের খবর।

স্বাস্থ্যসাথীর মতো জনকল্যাণমূলক প্রকল্পে তথ্যের স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং যোগ্য উপভোক্তাদের পরিষেবা নিশ্চিত করা—এই দুই বিষয়ই এখন প্রশাসনের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। যাচাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সেই লক্ষ্য পূরণে আরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।

Related Articles