কলকাতারাজ্যের খবর

কালীপুজোয় বাজি পোড়ানোর সময় বেঁধে দিল প্রশাসন, ফানুস ওড়াতে লাগবে লাইসেন্স

এবার ফানুস ও এয়ার বেলুন ওড়ানোর ক্ষেত্রেও নিয়ম মানতে হবে

Truth of Bengal: কালীপুজোর আগে বাজি ও ফানুস ব্যবহারে কড়া বিধিনিষেধের বার্তা দিল রাজ্য পুলিশ ও প্রশাসন। উৎসবের আনন্দে যাতে দুর্ঘটনা না ঘটে, পরিবেশ ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা যাতে বিঘ্নিত না হয়, তার জন্য একাধিক পদক্ষেপের কথা জানানো হয়েছে। এবার ফানুস ও এয়ার বেলুন ওড়ানোর ক্ষেত্রেও নিয়ম মানতে হবে। অনুমতি বা লাইসেন্স ছাড়া ফানুস ওড়ানো যাবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধনাথ গুপ্তা। কালীপুজোর প্রস্তুতি নিয়ে পুলিশ ও প্রশাসনের বৈঠকের পর নবান্নের সভাঘরে যৌথ সাংবাদিক বৈঠক হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রসচিব সংঘমিত্রা ঘোষ, রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধনাথ গুপ্তা, দমকলের ডিজি অনুজ শর্মা, কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দ-সহ সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা। বৈঠকে সবুজ বাজি ব্যবহারে জোর দেওয়ার পাশাপাশি বাজি পোড়ানোর সময়সীমা, সাইলেন্ট জোন, বাজি বাজার এবং ফানুস ব্যবহারের নিয়ম নিয়ে বিস্তারিত নির্দেশ দেওয়া হয়।

স্বরাষ্ট্রসচিব সংঘমিত্রা ঘোষ জানান, পরিবেশের কথা মাথায় রেখে সবুজ বাজি পোড়ানোর উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বাজি পোড়ানোর ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়সীমা মানতে হবে। কালীপুজোর দিন রাত ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত বাজি পোড়ানো যাবে। ছটপুজোর ক্ষেত্রে সকাল ৬টা থেকে ৮টা পর্যন্ত বাজি পোড়ানোর অনুমতি থাকবে। একইসঙ্গে বাজির শব্দের মাত্রা নিয়ন্ত্রণের বিষয়েও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বাজির শব্দের সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন মাত্রা যথাক্রমে ১২৫ ও ৯০ ডেসিবেলের মধ্যে রাখার কথা জানানো হয়েছে। হাসপাতাল, স্কুল, কলেজ এবং বৃদ্ধাশ্রমের মতো সাইলেন্ট জোনের ১০০ মিটারের মধ্যে কোনও শব্দবাজি ফাটানো যাবে না। এই এলাকাগুলিতে সবসময় নীরবতা বজায় রাখতে হবে। পুজো কমিটিগুলিকেও এ বিষয়ে সতর্ক করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রসচিব।

বাজি বাজার বসানোর ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট নিয়ম মানতে হবে। ফাঁকা জায়গায় বাজি বাজার করতে হবে এবং সেখানে অগ্নিনির্বাপণ ও জরুরি পরিষেবার ব্যবস্থা রাখতে হবে। বাজি উৎপাদন ও মজুতের জায়গাগুলিতে জোরদার নজরদারি চালানো হবে। নিয়ম ভাঙলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন দমকলের ডিজি অনুজ শর্মা। বাজি বাজারগুলিতেও চলবে নজরদারি। এদিকে ফানুস ও এয়ার বেলুন ওড়ানোর ক্ষেত্রেও সতর্কতা জারি করেছে রাজ্য পুলিশ। রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধনাথ গুপ্তা জানান, অনুমতি বা লাইসেন্স ছাড়া ফানুস ওড়ানোর কারণে অতীতে একাধিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। তাই এবার ফানুস ওড়ানোর ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নিয়ম মানতে হবে এবং যাঁরা ফানুস ওড়াবেন, তাঁদের লাইসেন্স নিতে হবে। তবে ফানুস বিক্রির ক্ষেত্রে আলাদা কোনও বিধিনিষেধের কথা সাংবাদিক বৈঠকে জানানো হয়নি।

কালীপুজোর আগে নিষিদ্ধ বাজির বিরুদ্ধে লাগাতার অভিযান চালানো হবে। উৎসবের দিনগুলিতেও পুলিশ ও প্রশাসনের নজরদারি থাকবে। চালু করা হবে কন্ট্রোল রুম, যেখানে বাজি সংক্রান্ত কোনও অভিযোগ থাকলে সাধারণ মানুষ জানাতে পারবেন। পাশাপাশি চলবে পুলিশি পেট্রোলিং। স্বরাষ্ট্রসচিব সংঘমিত্রা ঘোষের কথায়, “নিজের আনন্দ যেন অন্যের দুঃখের কারণ না হয়।” প্রশাসনের মতে, শুধু কড়াকড়ি করে উৎসবের সময় দুর্ঘটনা ঠেকানো সম্ভব নয়। তার জন্য সাধারণ মানুষের সচেতনতা সবচেয়ে জরুরি। তাই নিয়ম মেনে বাজি পোড়ানো, সাইলেন্ট জোনে নীরবতা বজায় রাখা এবং ফানুস ব্যবহারে সতর্ক থাকার বার্তা দেওয়া হয়েছে।