ইন্দ্রনীল গ্রেফতার হতেই সিঙ্গুরে রণক্ষেত্র! গলায় জুতোর মালা পরিয়ে বিজেপির বিক্ষোভ
এক বিক্ষোভকারীর মুখে ইন্দ্রনীলের ছবি সেঁটে এবং গলায় জুতো ঝুলিয়ে স্লোগান দিতে দেখা যায় তাঁদের
Truth of Bengal: প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের গ্রেফতারির পর এবার সিঙ্গুরে তাঁর বাগানবাড়ি ঘিরে শুরু হল রাজনৈতিক বিক্ষোভ। বৃহস্পতিবার ইন্দ্রনীলের বাগানবাড়ি ‘মোহর’-এর সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখান বিজেপি কর্মীরা। এক বিক্ষোভকারীর মুখে ইন্দ্রনীলের ছবি সেঁটে এবং গলায় জুতো ঝুলিয়ে স্লোগান দিতে দেখা যায় তাঁদের। দুর্নীতির টাকায় বিলাসবহুল বাগানবাড়ি তৈরির অভিযোগ তুলে প্রাক্তন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে সরব হন বিজেপি কর্মীরা। একই সঙ্গে এই দুর্নীতিতে আরও অনেকে জড়িত বলে দাবি করে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তাঁরা। বুধবার দুর্গাপুজোর পাস বিলি সংক্রান্ত মামলায় সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে ইডির দফতরে হাজিরা দিয়েছিলেন চন্দননগরের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক ইন্দ্রনীল সেন। সেখান থেকে বেরনোর পরই তাঁকে গ্রেফতার করে কলকাতা পুলিশ। পুলিশ সূত্রে খবর, তদন্তে অসহযোগিতার অভিযোগেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে আদালতে হাজির করানো হলে তাঁর ১০ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়।
ইন্দ্রনীলের গ্রেফতারির পরেই সিঙ্গুরের বাগডাঙ্গা ছিনামোর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় তাঁর বাগানবাড়ি ‘মোহর’-এর সামনে বিক্ষোভ দেখান বিজেপি কর্মীরা। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, ওই বাগানবাড়ির জন্য এলাকার নিকাশি ব্যবস্থা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। এমনকি পঞ্চায়েতের টাকায় নিয়মবহির্ভূতভাবে রাস্তা তৈরি করা হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে।বিজেপির সিঙ্গুর মণ্ডল সভাপতি উজ্জ্বল খামারু অভিযোগ করেন, প্রাক্তন মন্ত্রীর প্রভাবের কারণে এলাকার মানুষ মুখ খুলতে পারতেন না। তাঁর দাবি, বাগানবাড়ির জমি পেতে বাগডাঙ্গা ছিনামোর গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধানের সাহায্য নেওয়া হয়েছিল। পঞ্চায়েতের অর্থে রাতারাতি বেআইনিভাবে রাস্তা তৈরি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
উজ্জ্বল খামারুর আরও দাবি, বাগানবাড়ি তৈরির কারণে এলাকার কৃষিজমির জল বেরনোর পথ বন্ধ হয়ে গিয়েছে। বর্ষার সময় আশপাশের জমিতে জল জমে থাকে, যার ফলে সমস্যায় পড়তে হয় স্থানীয় বাসিন্দাদের। তাঁর অভিযোগ, দুর্নীতির টাকায় অট্টালিকা তৈরি হয়েছে, আর তার মাশুল গুনছেন সাধারণ মানুষ। স্থানীয়দের একাংশের আরও অভিযোগ, ওই বাগানবাড়িতে আমোদ-প্রমোদের ব্যবস্থা করা হত। বাগানবাড়ির জমি পেতে সিঙ্গুরের প্রাক্তন বিধায়ক তথা মন্ত্রী বেচারাম মান্নার ঘনিষ্ঠ এক তৃণমূল নেতা সাহায্য করেছিলেন বলেও দাবি করেছেন তাঁরা। যদিও এই অভিযোগগুলির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য জানা যায়নি।
অন্যদিকে, ইন্দ্রনীল সেনের বিরুদ্ধে ইউনেস্কোর নাম ভাঙিয়ে দুর্গাপুজোর পাস বিক্রির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। রাজ্যের প্রাক্তন তথ্য ও সংস্কৃতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে এই মামলায় এর আগেও একাধিকবার ইডি জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। তাঁর একাধিক ঠিকানায় তল্লাশিও চালানো হয়েছিল। দুর্গাপুজো ও লক্ষ্মীপুজো মিটতেই বুধবার ফের তাঁকে তলব করা হয়। পুজোর পাস সংক্রান্ত মূল অভিযোগটি কলকাতা পুলিশের কাছে দায়ের করেছিলেন জয়দীপ মুখোপাধ্যায় নামে এক ব্যক্তি। বউবাজার থানায় তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতেই এফআইআর দায়ের করা হয়। পরে এই মামলায় তদন্ত শুরু করে ইডিও।






