রাজ্যের খবর

আর আগের স্থানে নাচবেন না শান্তিপুরের বামাকালী! এত বছরের ঐতিহ্যে হঠাৎ ছেদ কেন?

চোরবাগান বিপর্যয়ের ভয়েই কি বদলাল বিসর্জনের নাচের স্থান? মুখ খুললেন বামাকালী পুজো কমিটির উদ্যোক্তারা!

মাধব দেবনাথ, নদিয়া: শান্তিপুরের বিখ্যাত বামাকালীর নাম ও ঐতিহ্য ছড়িয়ে রয়েছে সমগ্র বাংলাজুড়েই। বিশেষ করে কালীপুজোর পর বিসর্জন শোভাযাত্রার সময় বামাকালীর এক নির্দিষ্ট জায়গায় নাচ দেখার জন্য প্রতি বছরই দূরদূরান্ত থেকে উপস্থিত হন হাজার হাজার মানুষ। বছরের পর বছর ধরে চলা সেই বহুল প্রচলিত প্রথায় এবার দেখা গেল বড়সড় রদবদল। এতদিন ধরে শান্তিপুরের অত্যন্ত সংকীর্ণ বড়বাজার এলাকায় যে প্রতিমার নাচ অনুষ্ঠিত হত, তা আর সেখানে হবে না। পরিবর্তে মন্দিরের অতি নিকটবর্তী সুবিশাল বেজপাড়া মাঠে এবার মা বামাকালীর এই ঐতিহ্যবাহী বিসর্জন নৃত্য অনুষ্ঠিত হবে।

সম্প্রতি কলকাতার চোরবাগানের মর্মান্তিক দুর্ঘটনাস্থলে পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জনের মৃত্যুর ঘটনার পর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় গুঞ্জন রটেছিল যে, ভিড়ের আশঙ্কায় তড়িঘড়ি স্থান পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে এই বিতর্ক ও রটনায় জল ঢেলে মুখ খুলেছেন পুজো কমিটির উদ্যোক্তারা। কমিটির সভাপতি সুখেন্দুবিকাশ চৌধুরী স্পষ্ট জানান, চোরবাগান বিপর্যয়ের সঙ্গে এই সিদ্ধান্তের দূরতম কোনও সম্পর্ক নেই এবং এটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এক অপপ্রচার। তিনি জানান, গত বছর কালীপুজোর পর থেকেই মূলত সাধারণ ভক্তদের সুরক্ষা ও ভিড় নিয়ন্ত্রণের সুবিধার্থে এই পরিবর্তন নিয়ে চিন্তাভাবনা চলছিল। এতদিন সংকীর্ণ বড়বাজারের রাস্তায় বিশালাকার এই প্রতিমাকে কাঁধে তুলে ৪০ জন বাহক যখন নাচতেন, তখন চরম যানজট তৈরি হত এবং অন্যান্য বিসর্জন শোভাযাত্রাও থমকে যেত।

পুজো কমিটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এবার বেজপাড়া মাঠে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ একসঙ্গে অত্যন্ত শান্তিতে ও নিরাপদে কাঁধে চড়া দেবীর এই অপরূপ নাচের মুহূর্ত প্রত্যক্ষ করতে পারবেন। মাঠ প্রাঙ্গণে পর্যাপ্ত আলো, পুলিশ-প্রশাসনের ব্যারিকেড, ফায়ার ব্রিগেড, অ্যাম্বুলেন্স এবং জরুরি চিকিৎসক দল প্রস্তুত থাকবে।

পাশাপাশি, সোশাল মিডিয়ায় দেবীর পুজো নিয়ে প্রচারিত নানা বিভ্রান্তিকর তথ্য ও বয়স নিয়ে ইতিহাস বিকৃতির অভিযোগেও সোচ্চার হয়েছেন পুজো কমিটির সদস্যরা। অনেকে এই পুজোকে ৩০০ বা ৫০০ বছরের পুরনো দাবি করলেও, উদ্যোক্তারা স্পষ্ট করেছেন যে যমুনা দেবীর স্বপ্নাদেশে শুরু হওয়া বামাকালীর পুজো এবার ৫৮তম বর্ষে পদার্পণ করতে চলেছে। চলতি বছর আগামী ৯ নভেম্বর রাতে বেজপাড়া মাঠেই হবে মা বামাকালীর বহুল প্রতীক্ষিত এই ঐতিহ্যবাহী নৃত্য অনুষ্ঠান, আর তারপর চিরাচরিত নিয়ম মেনে বড়বাজার ঘাটেই দেবীর নিরঞ্জন সম্পন্ন হবে।

Related Articles