পুলিশে ৬০ হাজারের বেশি শূন্যপদ, দ্রুত নিয়োগে জোর রাজ্য সরকারের
সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, রাজ্যে পুলিশের মোট অনুমোদিত পদ ১ লক্ষ ৬৬ হাজার ৩০১টি।
জ্যোতির্ময় দত্ত, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের অনুমোদিত পদের এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি শূন্য। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, রাজ্যে পুলিশের মোট অনুমোদিত পদ ১ লক্ষ ৬৬ হাজার ৩০১টি। কর্মরত রয়েছেন ১ লক্ষ ৫ হাজার ৩৭৪ জন। ফলে শূন্যপদের সংখ্যা ৬০ হাজার ৯২৭। এই বিপুল ঘাটতি মেটাতে দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার উপর জোর দিচ্ছে রাজ্য সরকার।
বর্তমানে রাজ্যে ৬৬৮টি থানার মাধ্যমে প্রায় ৯.৯৩ কোটি মানুষের নিরাপত্তার দায়িত্ব সামলাচ্ছে পুলিশ। কর্মরত পুলিশকর্মীর হিসাবে প্রতি জনের উপর গড়ে প্রায় ৯৪৩ জন নাগরিকের নিরাপত্তার দায়িত্ব রয়েছে। ফলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ দমন, তদন্ত এবং ট্র্যাফিক নিয়ন্ত্রণের মতো কাজে বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে দুর্গাপুজোর আগে নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে ১১ হাজার নবনিযুক্ত পুলিশকর্মীর হাতে নিয়োগপত্র তুলে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আগামী দু’বছরের মধ্যে পুলিশবাহিনীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর লক্ষ্যের কথা জানান। তাঁর দাবি, বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে প্রতি লক্ষ জনসংখ্যায় পুলিশের সংখ্যা ১০৫। জাতীয় গড় ১৫৫ এবং উত্তরপ্রদেশে এই হার প্রায় ২০০। আগামী দু’বছরের মধ্যে এই পরিসংখ্যানে উল্লেখযোগ্য উন্নতি ঘটাতে চায় রাজ্য সরকার।
নিয়োগের বিষয়ে একাধিক পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। কলকাতা পুলিশের ৩০০ জন সাব-ইনস্পেক্টর ইতিমধ্যেই নির্বাচিত হয়েছেন বলে তিনি জানান। ডিসেম্বরের মধ্যে কলকাতা পুলিশের আরও ৪ হাজার কনস্টেবল নিয়োগের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে রাজ্য পুলিশের আরও ৯ হাজার শূন্যপদে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের কথা জানিয়েছে সরকার। পাবলিক সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে ৬৫০ জন পুলিশ ক্লার্ক নিয়োগেরও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তবে শুধু কর্মীসংখ্যা বাড়ানোই নয়, প্রশিক্ষিত ও দক্ষ পুলিশবাহিনী গড়ে তোলার উপরও গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, সিভিক ভলান্টিয়ারদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে প্রশিক্ষিত পুলিশকর্মীদের বিকল্প নেই। সেই কারণে নিয়োগের পাশাপাশি আধুনিক প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তিনির্ভর পরিকাঠামো এবং পুলিশকর্মীদের কাজের পরিবেশ উন্নত করার পরিকল্পনাও নেওয়া হচ্ছে।
প্রশাসনিক মহলের মতে, দীর্ঘদিনের শূন্যপদ পূরণ করা গেলে থানাগুলির উপর কাজের চাপ কমবে। তদন্তের গতি বাড়ার পাশাপাশি অপরাধ দমন ও জননিরাপত্তা ব্যবস্থাও আরও শক্তিশালী হতে পারে। তবে ঘোষিত সময়সীমার মধ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়া কতটা সম্পন্ন হয়, এখন সেদিকেই নজর থাকবে।
সরকারের সামনে এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ, দ্রুত নিয়োগের পাশাপাশি স্বচ্ছতা বজায় রেখে উপযুক্ত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নতুন পুলিশকর্মীদের কাজে যুক্ত করা। তা সফল হলে রাজ্যের পুলিশি ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসতে পারে।



