দশমীর সকালেই বাবুঘাটে খোদ মুখ্যমন্ত্রী! বিসর্জনের প্রস্তুতি দেখতে গিয়ে কী নির্দেশ দিলেন শুভেন্দু?
"ডিজে বাজানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ, সনাতনীরাই ধরবেন কাঠামো!" প্রতিমা বিসর্জনে নজিরবিহীন কড়াকড়ি প্রশাসনের
Truth of Bengal: সিঁদুর খেলা ও আনন্দ-বেদনার এক অদ্ভুত মিশ্রণে আজ বিজয়া দশমী। বাপের বাড়ি ছেড়ে উমার সুদূর কৈলাসে ফিরে যাওয়ার এই বিদায়বেলায় গোটা রাজ্য জুড়ে বইছে বিষাদের সুর। তবে উৎসবের শেষলগ্নেও কোনও রকম অপ্রীতিকর পরিস্থিতি বা বিশৃঙ্খলা এড়াতে এবার প্রথম থেকেই সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করেছে রাজ্য প্রশাসন। উত্তর কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীন মণ্ডপের মর্মান্তিক পদপিষ্টের বিপর্যয় থেকে শিক্ষা নিয়ে বিসর্জনের দিন কলকাতার গঙ্গার ঘাটগুলিতে নেওয়া হয়েছে নজিরবিহীন ও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। আর সেই সমস্ত বন্দোবস্ত স্বচক্ষে খতিয়ে দেখতে এদিন সকালেই বাবুঘাটে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
এদিন সকালে বাবুঘাট, বাজে কদমতলা ঘাট ও জাজেস ঘাট পরিদর্শন করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন কলকাতা পুলিশের কমিশনার অজয় কুমার নন্দা এবং কলকাতা পুরসভার প্রশাসক স্মিতা পাণ্ডে-সহ প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। ঘাটগুলির প্রস্তুতি খতিয়ে দেখে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে, নিরাপত্তা, পরম্পরা ও ঐতিহ্যকে পুরোপুরি বজায় রেখেই প্রতিমা বিসর্জনের কাজ সম্পন্ন করা হবে। যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রতিটি ঘাটে সজাগ রয়েছে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (NDRF) ও বিশেষ টিম। পাশাপাশি, গঙ্গাদূষণ ও পরিবেশ দূষণ ঠেকাতে পুরসভার পক্ষ থেকেও বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে।
প্রশাসনের তরফে জারি করা কঠোর নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, বিসর্জনের সময় গঙ্গার ঘাটগুলিতে কোনোভাবেই ডিজে (DJ) বাজানো যাবে না। ভিড় সামলাতে এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে আকাশপথে ড্রোন উড়িয়ে নজরদারি চালাবে কলকাতা পুলিশ। এছাড়া ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও পবিত্রতা রক্ষা করতে শুধুমাত্র সনাতনীরাই মূর্তির কাঠামো স্পর্শ করবেন বলে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিসর্জন পর্ব মিটে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই গঙ্গার ঘাটগুলি পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করার কাজও শুরু করে দেবে পুরসভা। চোরবাগানের ছায়া কাটিয়ে শান্তি ও শৃঙ্খলার সঙ্গে মায়ের বিসর্জন সম্পন্ন করতে সমস্ত মহলের প্রতি কড়া বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।






