কলকাতা

“আবর্জনা বইছি, আর নয়!” চোরবাগান বিপর্যয়ে নাম না করে মমতা জমানাকে তুলোধনা শুভেন্দুর

চোরবাগান কাণ্ড থেকে শিক্ষা! তিলোত্তমার সমস্ত পুজোয় এক ঝটকায় বন্ধ ভিআইপি পাস, জারি নজিরবিহীন নির্দেশ

Truth of Bengal: মহাসপ্তমীর সন্ধ্যায় উত্তর কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীন মণ্ডপে ১৯ জন দর্শনার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় এবার তীব্র সুর চড়ালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রবিবার ভবানী ভবন থেকে আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠকে এই রক্তক্ষয়ী বিপর্যয়ের জন্য সরাসরি মণ্ডপের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা অস্থায়ী হোমগার্ডদের গাফিলতিকে কাঠগড়ায় তোলেন তিনি। একইসঙ্গে নাম না করে পূর্বতন তৃণমূল সরকার তথা আগের শাসনকালকে বিঁধে তাঁর হুঙ্কার, “আবর্জনা বয়ে চলেছি, তবে আর নয়! এবার কঠোর অ্যাকশন হবেই।”

ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, শনিবার সন্ধ্যায় চোরবাগান মণ্ডপে হঠাৎই প্রাবল্য নিয়ে বৃষ্টি নামলে দায়িত্বপ্রাপ্ত অস্থায়ী হোমগার্ডরা নিজেদের ভিজতে না দেওয়ার জন্য ভিড় নিয়ন্ত্রণের দড়ি ছেড়ে ভেতরে পালিয়ে যান। ফলে নিমেষের মধ্যে সেই দড়ি ভেঙে হাজার হাজার মানুষের উপচে পড়া ঢল নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ে এবং চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়, যার মর্মান্তিক পরিণতিতে ১৯টি তরতাজা প্রাণ পিষে শেষ হয়ে যায়। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, পূর্ববর্তী তৃণমূল সরকারের আমলে নিয়োগ পাওয়া এই অস্থায়ী হোমগার্ডদের অদক্ষতা ও কাজের মানসিকতা বোঝাতেই ‘আবর্জনা’ শব্দটি প্রয়োগ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।

এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে শহরের সমস্ত বড় দুর্গোৎসব মণ্ডপে এক ঐতিহাসিক ও অভূতপূর্ব সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন, এখন থেকে সমস্ত বড় পুজোয় ভিআইপি পাসের সুবিধা সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। সাধারণ দর্শনার্থী থেকে শুরু করে হেভিওয়েট ব্যক্তিত্ব, সকলকেই একটিই সাধারণ লাইনে দাঁড়িয়ে মণ্ডপে প্রবেশ করতে হবে।

এর পাশাপাশি, এই ভয়াবহ বিপর্যয়ের শোকের আবহে রাজ্যের বিজয়া সম্মিলনীর অনুষ্ঠানেও বড়সড় কাটছাঁট করার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী ২৬ অক্টোবর রাজ্যের উদ্যোগে যে বিজয়া সম্মিলনী হওয়ার কথা ছিল, তা সম্পূর্ণ আড়ম্বরবর্জিতভাবে পালন করা হবে। সেখানে সমস্ত পুজো কমিটিকে ডেকে নিহতদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে এবং আহতদের হাতে তুলে দেওয়া হবে সরকারি আর্থিক সাহায্য।

Related Articles