রাজ্যের খবর

“বিচার চাওয়ার প্রশ্নে কোনও আপস নেই, যা দরকার, সব করব”- সন্দীপ ঘোষের জামিনে বার্তা অভয়ার বাবার

সন্দীপ ঘোষের জামিনের খবর সামনে আসতেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন নির্যাতিতার বাবা

Truth of Bengal: আর জি কর মেডিক্যাল কলেজের আর্থিক দুর্নীতি মামলায় হাসপাতালের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের জামিন মঞ্জুর করেছে সুপ্রিম কোর্ট। শুক্রবার বিচারপতি এম এম সুন্দরেশ এবং বিচারপতি প্রসন্ন বি ভারালের ডিভিশন বেঞ্চ এই নির্দেশ দেয়। দীর্ঘদিন ধরে জেলবন্দি থাকলেও মামলার বিচারপ্রক্রিয়া অত্যন্ত ধীর গতিতে এগোচ্ছে বলে পর্যবেক্ষণ আদালতের। আর সেই রায়ের পরেই ফের আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দিলেন অভয়ার বাবা শেখর দেবনাথ। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, বিচার না পাওয়া পর্যন্ত লড়াই থামবে না।

সন্দীপ ঘোষের জামিনের খবর সামনে আসতেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন নির্যাতিতার বাবা। প্রয়োজনে আবারও রাস্তায় নেমে আন্দোলন করার কথা জানিয়েছেন তিনি। শেখর দেবনাথের কথায়, “প্রয়োজনে আন্দোলন করতে হবে। বিচার চাই। লড়াই চলবে।” বর্তমানে রাজ্যে বিজেপি সরকার এবং অভয়ার মা রত্না দেবনাথ ওই দলেরই বিধায়ক। সেই পরিস্থিতিতে আন্দোলনে নামলে সরকারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে শেখর দেবনাথ বলেন, “সরকারে থাকলে কী হয়েছে? বিচারের জন্য যা দরকার, সব করব।” অর্থাৎ, ন্যায়বিচারের দাবিতে কোনও আপস করতে তিনি রাজি নন বলেই স্পষ্ট করেছেন অভয়ার বাবা।

২০২৪ সালের অগস্টে আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে এক তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ ও খুনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়ে তীব্র আন্দোলন শুরু হয়েছিল। সেই সময় হাসপাতালের নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। পাশাপাশি, তৎকালীন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে আর্থিক দুর্নীতি এবং প্রভাব খাটিয়ে বেআইনি কাজের অভিযোগ সামনে আসে। দুর্নীতির অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়। পরে হাসপাতালের ধর্ষণ-খুনের ঘটনায় তথ্যপ্রমাণ লোপাটের অভিযোগে সন্দীপ ঘোষ এবং টালা থানার তৎকালীন ওসি অভিজিৎ মণ্ডলকে গ্রেফতার করে সিবিআই। যদিও এই অভিযোগগুলির বিচারপ্রক্রিয়া পৃথক আইনি পথে এগিয়েছে।

সন্দীপ ঘোষ দীর্ঘদিন ধরে জেলবন্দি ছিলেন। তাঁর জামিনের আবেদন কলকাতা হাই কোর্টে খারিজ হওয়ার পর সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন তিনি। শুক্রবার সেই মামলার শুনানিতে শীর্ষ আদালত জানায়, সন্দীপ ঘোষ দু’বছরেরও বেশি সময় ধরে বন্দি রয়েছেন। অথচ মামলায় তালিকাভুক্ত ১৪৭ জন সাক্ষীর মধ্যে এখনও পর্যন্ত মাত্র সাতজনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পূর্ণ হয়েছে। বিচারপ্রক্রিয়ার এই দীর্ঘসূত্রিতার বিষয়টি বিবেচনা করেই জামিন মঞ্জুর করেছে আদালত।

Related Articles