উত্তরপ্রদেশকে টেক্কা দেওয়ার চ্যালেঞ্জ! ১১ হাজার পুলিশের হাতে চাকরির চিঠি তুলে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী
"সরকার বদল না হলে এই চাকরি হত না!" নিয়োগ জট কাটার পরেই বিস্ফোরক দাবি শুভেন্দুর
Truth of Bengal: রাজ্যে বিজেপি সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর এই প্রথমবার রাজ্য পুলিশ বিভাগে মেগা নিয়োগের সূচনা হলো। কলকাতার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে এক বর্ণাঢ্য ও আবেগঘন অনুষ্ঠানে প্রায় ১১ হাজার নতুন রাজ্য পুলিশের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে নিয়োগপত্র তুলে দিলেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে কড়া ও স্পষ্ট ভাষায় মুখ্যমন্ত্রী জানিয়ে দেন, “আমার কোনও হাততালি বা পপুলারিজমের ক্রেডিট চাই না। আমি শুধু এটুকু বলতে চাই যে, গত সরকারের আমল পরিবর্তন না হলে এই স্বচ্ছ নিয়োগ কখনওই সম্ভব হত না।” দীর্ঘদিন ধরে আইনি জট ও জটিলতায় আটকে থাকা পুলিশ কনস্টেবল ও কর্মীর নিয়োগ মাত্র সাড়ে সাড়ে পাঁচ মাসের মাথায় সফল করে তোলার মাধ্যমে রাজ্য সরকার বুঝিয়ে দিল যে, সরকারি ক্ষেত্রে কর্মসংস্থানের নতুন যুগ শুরু হয়ে গেল। ‘মর্নিং শোজ দ্য ডে’ প্রবাদটি তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী পুলিশ প্রশাসনকে সম্পূর্ণ দুর্নীতিমুক্ত থাকার কড়া নির্দেশ দিয়েছেন। সেই সঙ্গে তাঁর অপ্রতিরোধ্য আত্মবিশ্বাসী ঘোষণা, “আগামী দুই বছরের মধ্যে পুলিশ বাহিনীর মোট সংখ্যার দিক থেকে উত্তরপ্রদেশ রাজ্যকেও পেছনে ফেলে দেবে বাংলা!”
নেতাজি ইন্ডোরের জনসমুদ্র থেকে পূর্ববর্তী সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দেগে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আগের সরকারের সময়ে ওবিসি সংরক্ষণ ও সার্টিফিকেটের জটে বছরের পর বছর ধরে রাজ্য পুলিশের নিয়োগ আটকে রাখা হয়েছিল। আদালতের সঙ্গে সরকারের অন্তহীন দড়ি টানাটানিতে বাংলার যুবসমাজ বঞ্চিত হচ্ছিল। কিন্তু আমরা দায়িত্ব নেওয়ার পরেই বিধানসভায় অধিবেশন বসিয়ে সেই ওবিসি জট চিরতরে মুক্ত করেছি। বিগত সরকারের আমলে হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে যে জনবিরোধী মামলা করে রাখা হয়েছিল, সেখান থেকেও আমরা সফলভাবে বেরিয়ে এসেছি। সরকার যদি এত দ্রুততার সঙ্গে দৃঢ় পদক্ষেপ না করত, তবে আজকের এই আনন্দের দিন আমরা দেখতে পেতাম না।” নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার ওপর সর্বোচ্চ জোর দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দেন, মৌখিক বা শারীরিক পরীক্ষা, কোথাও ন্যূনতম কোনও ত্রুটি বা স্বজনপোষণ থাকবে না। সম্পূর্ণ মেধা ও নিয়মের ভিত্তিতেই চাকরি হবে, এই বিশ্বাস সাধারণ মানুষের থাকা উচিত।
আগের সরকারের পুলিশ প্রশাসন পরিচালনার সমালোচনা করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, সেকালে সিভিক ভলান্টিয়ারদের ওপর অতিরিক্ত নির্ভর করে থানা চালানো হত। যদিও সিভিক কর্মীদের কাজের প্রশংসা করে এবং পুজোয় তাঁদের ভাতা আরও ২ হাজার টাকা করে বৃদ্ধির কথা ঘোষণা করে তিনি বলেন, “নিয়মানুবর্তিতা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পেশাদার প্রশিক্ষণ অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু অতীতে সিভিকদের ক্ষেত্রে কোনও ন্যূনতম পরীক্ষাও নেওয়া হয়নি।” তবে এখন থেকে প্রতি বছর নিয়ম মেনে নির্দিষ্ট শূন্যপদে স্বচ্ছতার সঙ্গে পুলিশে নিয়োগ করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। সরকারি চাকরিতে মেধা ও যোগ্যতাই যে একমাত্র মাপকাঠি হবে, তা পুনর্ব্যক্ত করে শুভেন্দু বাবু পুলিশ বাহিনীতে চাকরির ঢালাও পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। তিনি ঘোষণা করেন, আগামী জানুয়ারি মাসেই ফের রাজ্যে নতুন করে পুলিশে বড় নিয়োগ করা হবে। পাশাপাশি, ডিসেম্বরের মধ্যে ৪ হাজার শূন্যপদের পরীক্ষার ফলপ্রকাশ, পাবলিক সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে ৬৫০ জন পুলিশের ক্লার্ক নিয়োগ এবং ৩০০ জন সাব-ইন্সপেক্টর (SI) নির্বাচনের সুখবরও দিয়েছেন তিনি।






