ভোটগণনার শুরুতেই ঝোড়ো ব্যাটিং! নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে এগিয়ে বিজেপি
শুভেন্দু-হুমায়ুনের ছেড়ে দেওয়া আসনে কার জয়জয়কার? গণনার প্রথম ঘণ্টাতেই সাফ চিত্র!
Truth of Bengal: কড়া নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে অবশেষে শুরু হল বহুল চর্চিত নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনের ভোটগণনা। নিটোল সুরক্ষা বলয়ে মোড়ানো গণনাকেন্দ্রে কমিশন অনুমোদিত কার্ড ছাড়া কারও প্রবেশের জো নেই। আর গণনা প্রক্রিয়ার শুরুতেই প্রকাশিত পোস্টাল ব্যালটের ফলাফলে প্রাথমিক ঝোড়ো ইনিংসে বাকি সমস্ত রাজনৈতিক দলকে অনেকটাই পিছনে ফেলে বড় ব্যবধানে এগিয়ে গিয়েছেন বিজেপি প্রার্থীরা। নন্দীগ্রামে হাসিরানি রথ এবং রেজিনগরে শাখারভ সরকার শুরুতেই লিড নিয়ে পদ্ম শিবিরকে উৎসবের মেজাজে ভাসিয়েছেন।
বাংলার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নন্দীগ্রাম আসনটির গুরুত্ব অপরিসীম। চলতি বছরের সাধারণ বিধানসভা নির্বাচনে এই আসনটিতে বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছিলেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কিন্তু তিনি একই সাথে ভবানীপুর ও নন্দীগ্রাম, দুটি আসন থেকেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয় পান। ফলে সাংবিধানিক নিয়ম মেনে তাঁকে নন্দীগ্রাম আসনটি ছেড়ে দিতে হয়, যা এই হাইভোল্টেজ উপনির্বাচনের জন্ম দেয়।
অন্যদিকে, রেজিনগর ও নওদা, দুই আসনে জিতে চমক দেখালেও নিয়ম মেনে রেজিনগর আসনটি ছাড়তে বাধ্য হন ‘আম জনতা উন্নয়ন পার্টি’র প্রতিষ্ঠাতা হুমায়ুন কবীর। তবে ভোটের দিনেই এলাকাগুলোতে আভাস মিলছিল যা, গণনার সকালে তা যেন বাস্তবে রূপ নিল। রেজিনগরে ভোট শেষ হওয়ার আগেই হতাশাগ্রস্ত হয়ে ভোটকেন্দ্র ছেড়েছিলেন হুমায়ুনের দলের কর্মী-সমর্থকেরা, আর আজ সকালে গণনাকেন্দ্রেও দেখা মিলল না তাঁদের প্রার্থীর।
পোস্টাল ব্যালট গণনা শুরুর প্রথম এক ঘণ্টার প্রাথমিক ট্রেন্ড অনুযায়ী, নন্দীগ্রামে বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথ ১ হাজারের বেশি ভোট পেয়ে অনেকটা এগিয়ে গেছেন। সেখানে তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান পেয়েছেন মাত্র ১৮টি ভোট। এছাড়া ঋতব্রত শিবিরের তৃণমূল ৮টি, আইএসএফ ৭টি এবং বামেরা পেয়েছে মাত্র ৩টি ভোট।
একইভাবে রেজিনগর আসনেও দাপট বজায় রেখেছেন বিজেপি প্রার্থী শাখারভ সরকার। তিনি ইতিমধ্যেই ১০৩৩টি ভোট নিজের ঝুলিতে পুড়েছেন। বিপরীতে মমতা শিবিরের তৃণমূল ১০৯টি এবং কংগ্রেস পেয়েছে ৯৩টি ভোট। যে হুমায়ুন কবীরের ছেড়ে দেওয়া আসন ঘিরে এত লড়াই, তাঁর দল আম জনতা উন্নয়ন পার্টি আটকে গেছে মাত্র ৬৫টি ভোটে। প্রথম ঘণ্টার এই চমকপ্রদ ইঙ্গিত শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত ফলাফলে কতটা ছাপ ফেলে, এখন সেদিকেই নজর গোটা রাজ্যের।






