রাজ্যের খবর

ঘুষ নিতে গিয়ে ধরা পড়ে বিপাকে ইঞ্জিনিয়ার! বাড়ি থেকে ১ কোটি ৩২ লক্ষ সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত

গ্রেফতারের পর হুগলির চুঁচুড়ায় সুমনের বাড়িতে টানা দু’দিন তল্লাশি চালান দুর্নীতিদমন শাখার আধিকারিকরা

Truth of Bengal: হুগলি জেলা পরিষদের সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার সুমন দাসকে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতারের পর এবার তাঁর সম্পত্তির উৎস নিয়েও তদন্ত শুরু করল রাজ্য পুলিশের দুর্নীতিদমন শাখা। তদন্তকারীদের দাবি, গত পাঁচ বছরে সুমন ও তাঁর পরিবারের সম্পত্তির পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। গ্রেফতারের পর হুগলির চুঁচুড়ায় সুমনের বাড়িতে টানা দু’দিন তল্লাশি চালান দুর্নীতিদমন শাখার আধিকারিকরা। মঙ্গলবার ও বুধবারের সেই অভিযানে সম্পত্তি, বিনিয়োগ এবং আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত মোট ৭৩টি নথি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বলে তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর।

প্রাথমিকভাবে নথিগুলি পরীক্ষা করে তদন্তকারীদের দাবি, সুমন ও তাঁর পরিবারের নামে প্রায় ১ কোটি ৩২ লক্ষ টাকার সম্পত্তির হদিশ মিলেছে। গত পাঁচ বছরে সেই সম্পত্তির পরিমাণ দ্রুত বেড়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। তবে এই সম্পত্তি বৃদ্ধির উৎস কী, তা এখনও নিশ্চিত নয়। সুমনের আয়, পরিবারের আর্থিক লেনদেন এবং বিনিয়োগের হিসাব আরও বিশদে যাচাই করা হচ্ছে। সুমনের বিরুদ্ধে অভিযোগ, এলাকার সরকারি কাজের বরাত বা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক প্রক্রিয়া এগিয়ে দেওয়ার নামে ঠিকাদারদের কাছ থেকে টাকা চাইতেন তিনি। সম্প্রতি হুগলির পোলবার এক ঠিকাদার তাঁর বিরুদ্ধে ঘুষ চাওয়ার অভিযোগ জানান। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই ঠিকাদার পঞ্চায়েত প্রকল্পের অধীনে প্রায় ১ কোটি টাকার একটি সরকারি রাস্তা নির্মাণের কাজ পেয়েছিলেন।

২০২৩ সালে কাজের আদেশনামা জারি হয় এবং ২০২৫ সালের শেষদিকে কাজ শেষ হয়। অভিযোগকারীর দাবি, টেন্ডারের সময় জমা দেওয়া অর্থ ফেরত পেতে গিয়েই ঘুষের দাবি ওঠে। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই গত মঙ্গলবার ফাঁদ পাতেন দুর্নীতিদমন শাখার আধিকারিকরা। পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০ হাজার টাকা সুমনের কাছে পাঠানো হয়। ওই নোটগুলিতে আগে থেকেই বিশেষ রাসায়নিক লাগানো ছিল। অভিযোগ, টাকা গ্রহণের পর সুমনকে হাত ধুতে বলা হলে হাত থেকে বেগুনি রং বেরোয়। এরপর তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনাস্থল থেকেই গ্রেফতার করা হয়।

Related Articles