রাজ্যের খবর

“মমতার সঙ্গেই ছিলাম, মমতার সঙ্গেই থাকব!”, ঋতব্রত শিবির ছেড়ে কালীঘাটমুখী এই তৃণমূল বিধায়ক

"মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দেওয়া টিকিটেই জিতেছি!", দলবদলু তকমা ঝেড়ে ফেলে বোমা ফাটালেন বিধায়ক

Truth of Bengal: রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর ভাঙনের মুখে পড়া তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ সমীকরণে ফের এক বড়সড় নাটকীয় মোড়। এবার বিরোধী শিবিরের মোহভঙ্গ হয়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগত শিবিরে ফিরে আসার বার্তা দিলেন মধ্যমগ্রামের ‘বিদ্রোহী’ বিধায়ক রথীন ঘোষ। আমডাঙার বিধায়ক কাশেম সিদ্দিকীর ‘ঘরে ফেরা’র পর রথীন ঘোষের এই স্পষ্ট অবস্থান বদল নিয়ে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে বঙ্গ রাজনীতিতে।

রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর তৃণমূল কংগ্রেস বিভক্ত হয়ে দুটি পৃথক শিবিরে রূপ নিয়েছিল। যেখানে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ৬৫ জন বিধায়ককে নিয়ে এক বিদ্রোহী গোষ্ঠী আত্মপ্রকাশ করে এবং সেই সংখ্যাগরিষ্ঠতার নিরিখে বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা নির্বাচিত হন ঋতব্রত। তবে এই দলে নাম থাকা সত্ত্বেও বর্তমানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আহ্বানে সাড়া দিয়ে একের পর এক বিধায়ক ফের কালীঘাটমুখী হতে শুরু করেছেন।

সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে রথীন ঘোষ অত্যন্ত ক্ষোভ ও স্পষ্টতার সঙ্গে জানান, “ঋতব্রত তৃণমূল বলে আলাদা কোনও দল বা শিবিরের অস্তিত্ব আমি স্বীকার করি না। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় কেবল বিধানসভার বিরোধী দলনেতা হিসেবে দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। আমি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখেই মূলধারার রাজনীতিতে এসেছি এবং প্রথম থেকেই তাঁর সঙ্গেই ছিলাম। মমতার দেওয়া প্রতীকে লড়াই করেই আমি বিধায়ক হয়েছি। তৃণমূল ছেড়ে যাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। দল যে আন্দোলন ও নির্দেশ দেবে, আমি তৃণমূল কর্মী হিসেবে সবসময় মমতার পাশে দাঁড়িয়ে তা পালন করব।”

রথীন ঘোষের এই মন্তব্যকে স্বাগত জানিয়ে কালীঘাটপন্থী প্রবীণ তৃণমূল নেতা বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায় তোপ দেগে বলেন, “ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের পেছনে কোনও বাস্তব রাজনৈতিক সংগঠন বা জনগণের সমর্থন নেই। বিলম্বে হলেও এখন সবাই সেটা হাড়ে হাড়ে উপলব্ধি করতে পারছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সবসময়ই সবাইকে একসঙ্গে চলার আহ্বান জানিয়েছেন। ঋতব্রতর সঙ্গে থাকার অর্থ হলো গদ্দারি বা বেইমানি করা। রথীনবাবু নিজের ভুল বুঝতে পেরে সত্যটি উপলব্ধি করেছেন।”

কাশেম সিদ্দিকী ও রথীন ঘোষের মতো হেভিওয়েট বিধায়কদের একের পর এক অবস্থান বদলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিধানসভায় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিদ্রোহী শিবিরের ভিত্তি নড়ে উঠতে শুরু করেছে। অন্যদিকে, দলের এই প্রত্যাবর্তনের ধারায় কালীঘাট শিবিরের শক্তি যে আবার নতুন করে পুনরুজ্জীবিত হচ্ছে, তা বলাই বাহুল্য।

Related Articles