দেশ

নভেম্বরের পুরভোটেও মিলবে না জোড়াফুল প্রতীক! সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে মাথায় মমতা তৃণমূলের

সুপ্রিম কোর্টে ঝুলেই রইল জোড়াফুলের ভাগ্য! প্রতীক ফিরে পেতে কমিশনকে চার মাসের ডেডলাইন শীর্ষ আদালতের

Truth of Bengal: আসন্ন সাত পুরসভার হাইভোল্টেজ নির্বাচনের ঠিক মুখে সুপ্রিম কোর্টে মারাত্মক ধাক্কা খেল কালীঘাট তৃণমূল কংগ্রেস! রেজিনগর ও নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনের পর এবার নভেম্বরের পুরভোটেও নিজেদের ঐতিহ্যবাহী ‘জোড়াফুল’ প্রতীক হাতছাড়া হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হলো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের। সোমবার দলের নাম ও জোড়াফুল ‘প্রতীক-যুদ্ধ’ মামলার শুনানি শেষে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ নির্বাচন কমিশনকে (ECI) চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য চার মাসের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে। ফলে আগামী ২৫ নভেম্বরের পুরভোটে কালীঘাট কিংবা ঋতব্রত, কোনও শিবিরই যে জোড়াফুল চিহ্ন নিয়ে লড়তে পারছে না, তা একপ্রকার নিশ্চিত হয়ে গেল।

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের পর শাসক দলে অভূতপূর্ব ভাঙন ধরে এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মূল স্রোত ভেঙে তৈরি হয় ‘কালীঘাট তৃণমূল’ ও ‘ঋতব্রত তৃণমূল’। দুই গোষ্ঠীর আইনি লড়াইয়ের মাঝে সম্প্রতি নির্বাচন কমিশন সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের নাম ও জোড়াফুল প্রতীক সাময়িকভাবে ‘ফ্রিজ’ বা বাজেয়াপ্ত করেছিল। সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল, কে আসল তৃণমূল এবং কোটি কোটি টাকার দলীয় তহবিলের মালিক কে, তা আইনি প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এই নাম ও চিহ্ন কেউ ব্যবহার করতে পারবে না। কমিশনের এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে তড়িঘড়ি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

সোমবার শীর্ষ আদালতে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে মামলার শুনানি শুরু হলে কালীঘাট তৃণমূলের পক্ষের প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিব্বল ও কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্রুত নিষ্পত্তির আবেদন জানান। তবে আদালত দুই পক্ষের অবস্থান জানতে চাইলে ঋতব্রত শিবিরের আইনজীবী মুকুল রোহাতগি কমিশনে নিজেদের বক্তব্য পেশের জন্য অতিরিক্ত ৬ সপ্তাহের সময় চান। আদালত নির্দেশ দেয়, ১ মাসের মধ্যে দুই পক্ষের লিখিত বক্তব্য ও হলফনামা শুনবে কমিশন, এবং পরবর্তী ৩ মাসের মধ্যে কমিশনকে নাম ও প্রতীক সংক্রান্ত চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করতে হবে।

শীর্ষ আদালতের এই চার মাসের ডেডলাইনের অর্থ দাঁড়াল, আসন্ন পুরসভা ভোট ও উপনির্বাচনে কোনও দলই জোড়াফুল প্রতীক ব্যবহার করতে পারবে না। বিষয়টি সামনে আসতেই তৃণমূলের বর্ষীয়ান বিধায়ক কুণাল ঘোষ বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনকে তীব্র আক্রমণ করে বলেন, “আসন্ন পুর নির্বাচন হতে চলেছে ইমানদার বনাম গদ্দারের লড়াই! বাংলার মানুষ চেনেন আসল তৃণমূল কে এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই যে সত্যের প্রতীক, তা সবাই জানে। ষড়যন্ত্র করে প্রতীক ফ্রিজ করানো হলেও গদ্দারদের শেষ পর্যন্ত কোনও জায়গা বঙ্গ রাজনীতিতে হবে না।” আদালতের এই সিদ্ধান্তে রাজ্যজুড়ে রাজনৈতিক পারদ এক ধাক্কায় চড়ে গেল।

Related Articles