আরও ৫টি মামলায় গ্রেফতারের আতঙ্ক! হাইকোর্টে ছুটলেন নন্দীগ্রামের জেলবন্দি কংগ্রেস প্রার্থী
২০০৭ সালের খুনের মামলা থেকে অস্ত্র আইন! জেলবন্দি মিলন প্রধানকে ঘিরে ভোটের মুখে তোলপাড় নন্দীগ্রাম
Truth of Bengal: আসন্ন নন্দীগ্রাম বিধানসভা উপনির্বাচনের আগে রাজনৈতিক নাটকীয়তা ও আইনি লড়াই গড়াল সরাসরি কলকাতা হাইকোর্টে। নন্দীগ্রাম ও খেজুরি এলাকায় খুন ও বেআইনি অস্ত্র সংক্রান্ত চারটি মারাত্মক পুরনো মামলায় বর্তমানে জেল হেফাজতে রয়েছেন নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান। একের পর এক মোট পাঁচটি মামলায় পুনরায় গ্রেফতারির প্রবল আশঙ্কায় এবার আদালতের দ্বারস্থ হলেন কারাবন্দি এই হেভিওয়েট নেতা। সোমবার কলকাতা হাইকোর্টে নতুন মামলায় রক্ষাকবচের আবেদন জানিয়ে আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তাঁর আইনজীবী অয়ন ভট্টাচার্য। মামলার সমস্ত প্রাথমিক বক্তব্য শুনে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য মামলা দায়ের করার সুনির্দিষ্ট অনুমতি দিয়েছেন। মঙ্গলবার এই গুরুত্বপূর্ণ মামলার শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে।
গত শুক্রবার চণ্ডীপুর এলাকা থেকে নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে হঠাৎই গ্রেফতার করে পুলিশ প্রশাসন। পুলিশি সূত্রে জানানো হয়েছে, ২০০৭ সালের ঐতিহাসিক নন্দীগ্রাম আন্দোলনের সময় একটি নৃশংস খুনের ঘটনায় সরাসরি নাম জড়িয়েছিল মিলনের। তাছাড়াও নন্দীগ্রাম ও খেজুরি থানায় খুন ও অস্ত্র আইনে একাধিক মামলা ঝুলছিল তাঁর বিরুদ্ধে। দীর্ঘ প্রায় দুই দশক অর্থাৎ ১৯ বছর ধরে ঝুলতে থাকা সেই পুরোনো জামিন-অযোগ্য গ্রেফতারি পরোয়ানা কার্যকর করতেই তাঁকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। সোমবার হাইকোর্টে মিলনের আইনজীবী জোরালো সওয়াল করে বলেন, তাঁর মক্কেলকে ইতিমধ্যেই একটি মামলায় গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং আরও পাঁচটি বিচারাধীন মামলায় তাঁকে পুনরায় গ্রেফতার করার চক্রান্ত চলছে। আগামী ৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হতে চলা নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে তাঁর মক্কেল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, তাই এই রাজনৈতিক আবহে ওই ৫টি মামলায় তাঁকে আইনি রক্ষাকবচ দেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
উল্লেখ্য, উপনির্বাচনের মনোনয়ন পর্ব থেকেই নন্দীগ্রামে নজিরবিহীন জটিলতা তৈরি হয়েছে। প্রতীক বিভ্রাটের জেরে মমতার শিবিরের তৃণমূল প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে হঠাৎই নবান্নে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং পরবর্তীকালে নিজের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেন। এই অভূতপূর্ব ঘটনার পরেই শুক্রবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেন, তাঁর নবগঠিত দল ‘মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’ নন্দীগ্রামে কংগ্রেস প্রার্থীকে পূর্ণ সমর্থন জানাবে। তবে রাজনৈতিক সমীকরণের চমকপ্রদ মোড়ে মমতা সমর্থনের কথা ঘোষণা করার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নাটকীয়ভাবে গ্রেফতার হন কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান।
পরদিন অর্থাৎ শনিবার হলদিয়া মহকুমা আদালতে পেশ করা হলে বিচারক তাঁকে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত ১৪ দিনের জেল হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এরপর রবিবার মিলনের বিরুদ্ধে আরও একটি নতুন অভিযোগ দায়ের হওয়ায় তাঁর মাথার ওপর মোট পাঁচটি ঝুলে থাকা মামলার খাঁড়া তৈরি হয়েছে। উপনির্বাচনের প্রচার পর্ব চলাকালীন প্রার্থীর এহেন আইনি সংকট ও কলকাতা হাইকোর্টের মঙ্গলবারের সম্ভাব্য শুনানি সমগ্র নন্দীগ্রামের নির্বাচনী রাজনৈতিক মানচিত্রকে চূড়ান্ত উত্তেজনার চূড়ায় পৌঁছে দিয়েছে।






