“জোড়াফুল গেছে, এবার ফুটবলও চুপসে যাবে!”, বাংলায় এসে মমতাকে নাম নিশানা মুছে দেওয়ার হুঁশিয়ারি হিমন্তের
"মমতাকে ভুলে যান, এবার শুভেন্দুই রাজ্যের উন্নয়ন করবেন!" হুঙ্কার অসমের মুখ্যমন্ত্রীর
Truth of Bengal: নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে নিজের হাতে আঁকা ঐতিহাসিক ‘ঘাসের ওপর জোড়াফুল’ প্রতীক হাতছাড়া হয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। এর পরই নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচনের জন্য কালীঘাট শিবিরকে ‘ফুটবল পায়ে খেলোয়াড়’ এবং বিদ্রোহী ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরকে ‘খাম’ প্রতীক বরাদ্দ করেছে কমিশন। এই প্রতীক বদলকে কেন্দ্র করে শনিবার বঙ্গে এসে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র কটাক্ষে বিঁধলেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। তিনি স্পষ্ট জানান, জোড়াফুল তো আগেই গিয়েছে, এবার নতুন পাওয়া ফুটবল প্রতীকও পাংচার হয়ে ‘চুপসে’ যাবে!
শনিবার রাজ্যে এক রাজনৈতিক কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজনীতির ময়দান থেকে অতীত হয়ে গিয়েছেন, তিনি আর ফিরবেন না। ওঁকে এবার ভুলেই যান। মমতাকে নিয়ে বেশি চিন্তাভাবনা করলে আপনাদের রক্তচাপ মিছিমিছি বাড়বে। এবার বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীই রাজ্যের প্রকৃত উন্নয়ন করবেন, আর মমতা বসে বসে দেখবেন উন্নয়ন কাকে বলে!” নতুন প্রতীককে নিশানা করে তিনি আরও যোগ করেন, “জোড়াফুল তো সিন্দুকে ঢুকেছে, আর দু’দিন পর এই ফুটবল খেলোয়াড় প্রতীকও ধোপে টিকবে না, ফুটবল পুরোপুরি চুপসে যাবে।”
অসমের মুখ্যমন্ত্রীর এহেন আক্রমণাত্মক বক্তব্যের জবাবে পাল্টা ক্ষুরধার জবাব দিয়েছেন তৃণমূল বিধায়ক তথা মুখপাত্র কুণাল ঘোষ। কুণাল চাঁচাছোলা ভাষায় কটাক্ষ করে বলেন, “শকুনের শাপে কখনও গরু মরে না! সরকারি ক্ষমতা ও এজেন্সিকে অপব্যবহার করে ওঁরা সাময়িক একটা বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করেছেন ঠিকই, তবে তা নিতান্তই ক্ষণস্থায়ী।” বিজেপির বিরুদ্ধে গণতন্ত্র হত্যার অভিযোগ তুলে কুণাল বলেন, “বিজেপি আসলে নিজেদের বকলস পরা গৃহপালিত বিরোধী চায়। কিন্তু যত ষড়যন্ত্রই হোক, বাংলার মানুষ মমতাদির নেতৃত্বেই আস্থা রাখবেন।”
এদিকে নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনে জটিলতা আরও বেড়েছে। শুক্রবার নবান্নে শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠকের পর শনিবার মমতার কালীঘাট শিবিরের প্রার্থী সঞ্চিতা দে প্রধান নিজের মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেন। এরপরই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ওই আসনে কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে সমর্থনের কথা ঘোষণা করেছিলেন। কিন্তু ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ১৯ বছরের পুরনো জোড়া খুনের মামলায় গ্রেফতার করা হয় কংগ্রেস প্রার্থী মিলনকে। এই গ্রেফতারির পেছনে বিজেপির রাজনৈতিক প্রতিহিংসাকে দায়ী করে সরব হন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। রাহুলের অভিযোগ ওড়াতে হিমন্তবিশ্ব শর্মা পাল্টা প্রশ্ন তুলে বলেন, “২০০৭ সালের একাধিক খুনের আসামীকে পুলিশ গ্রেফতার করবে না তো কি ছেড়ে রাখবে? রাহুল গান্ধী কি ওঁকে প্রকাশ্যে খুনের লাইসেন্স দিয়েছিলেন নাকি?” সব মিলিয়ে উপনির্বাচনের চরম উত্তেজনায় এখন ফুটছে গোটা বাংলা।





