চতুর্থ বর্ষপূর্তির পরদিনই দারুণ সুখবর! ‘প্রজেক্ট চিতা’-য় যুক্ত হল নতুন ৪ সদস্য
নতুন চার শাবকের জন্মের ফলে ভারতে চিতার সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৫৬
Truth of Bengal: মধ্যপ্রদেশের কুনো জাতীয় উদ্যানে ফের সুখবর। ভারতেই জন্ম নেওয়া মাদী চিতা ‘কেজিপি১২’ এবার চারটি শাবকের জন্ম দিয়েছে। প্রজেক্ট চিতার চার বছর পূর্তির ঠিক পরদিন শুক্রবার এই খবর জানান কেন্দ্রীয় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব। নতুন চার শাবকের জন্মের ফলে ভারতে চিতার সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৫৬। এর মধ্যে ৩৬টিই ভারতে জন্মানো। এই জন্মকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে, কারণ কেজিপি১২ নিজেও ভারতে জন্মেছিল। তার মা গামিনীকে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ভারতে আনা হয়েছিল। অর্থাৎ আফ্রিকা থেকে আনা চিতার পরবর্তী প্রজন্ম এবার ভারতে নিজেই সন্তানের জন্ম দিল। চিতা পুনর্বাসন প্রকল্পে এটিকে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এক্স হ্যান্ডলে খবরটি জানিয়ে ভূপেন্দ্র যাদব ঘটনাটিকে প্রজেক্ট চিতার জন্য ‘ঐতিহাসিক ও আনন্দের মুহূর্ত’ বলে উল্লেখ করেন। চারটি নতুন প্রাণের জন্মকে ভারতের চিতা সংরক্ষণ কর্মসূচির অগ্রগতির প্রতীক হিসেবেও বর্ণনা করেন তিনি এবং কুনো জাতীয় উদ্যানের কর্মী ও প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত সকলকে অভিনন্দন জানান। ভারতে একসময় এশীয় চিতা বিচরণ করলেও ১৯৫২ সালে দেশ থেকে চিতাকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছিল। কয়েক দশক পরে ২০২২ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর চিতা পুনর্বাসন কর্মসূচি শুরু হয়। সেদিন নামিবিয়া থেকে আনা আটটি চিতাকে কুনো জাতীয় উদ্যানের বিশেষ এনক্লোজারে ছাড়া হয়েছিল। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে আরও ১২টি চিতা আনা হয়।
পরবর্তী সময়ে প্রজননের ফলে ভারতে জন্মানো চিতার সংখ্যাও ধীরে ধীরে বেড়েছে। সাম্প্রতিক হিসেব অনুযায়ী দেশের মোট ৫৬টি চিতার মধ্যে ৫৩টি রয়েছে কুনো জাতীয় উদ্যানে এবং তিনটি রয়েছে গান্ধীসাগর অভয়ারণ্যে। বিশেষজ্ঞদের কাছে এই নতুন শাবকদের জন্মের গুরুত্ব শুধু সংখ্যাবৃদ্ধিতে নয়। দীর্ঘমেয়াদে ভারতের পরিবেশে এমন একটি চিতা-জনসংখ্যা তৈরি করাই প্রকল্পের লক্ষ্য, যারা স্বাভাবিক পরিবেশে টিকে থাকতে এবং নিয়মিত বংশবৃদ্ধি করতে সক্ষম হবে। কেজিপি১২-এর চার শাবকের জন্ম সেই লক্ষ্যে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে সামনে এল।





