কলকাতা

দূষণের কোপে রবীন্দ্র সরোবর! জল পানের যোগ্য করতে ময়দানে মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা

জল পরিষ্কার করে ভবিষ্যতে আরও নিরাপদ ও ব্যবহারযোগ্য করে তোলার উদ্যোগ নিলেন পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল

Truth of Bengal: দূষণের চাপে দক্ষিণ কলকাতার ঐতিহ্যবাহী রবীন্দ্র সরোবরের জলমান নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। সেই জল পরিষ্কার করে ভবিষ্যতে আরও নিরাপদ ও ব্যবহারযোগ্য করে তোলার উদ্যোগ নিলেন পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। বৃহস্পতিবার সরোবর এলাকা পরিদর্শন করে একাধিক বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের নির্দেশ দেন তিনি। পরিদর্শনের সময় সরোবরের বিভিন্ন অংশে ঝোপঝাড় এবং অপরিচ্ছন্নতা নজরে পড়ে। তা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন মন্ত্রী। একই সঙ্গে সরোবর চত্বরের রাস্তা, নিকাশি ব্যবস্থা এবং সামগ্রিক পরিচ্ছন্নতা আরও উন্নত করার উপর জোর দেন তিনি। রবীন্দ্র সরোবরের মাঝের দ্বীপটির সংরক্ষণ নিয়েও বিশেষ পরিকল্পনার কথা জানান অগ্নিমিত্রা। ওই অংশের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় আলাদা ব্যবস্থাপনার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছে পুর দপ্তর। সরোবরের পাশাপাশি আশপাশের একাধিক রাস্তা ও এলাকা ঘুরেও দেখেন মন্ত্রী।

এ দিন অগ্নিমিত্রা স্পষ্ট করে বলেন, শুধু প্রশাসনের উপর পরিচ্ছন্নতার দায়িত্ব ছেড়ে দিলে হবে না। নিজের বাড়ির পাশাপাশি আশপাশের রাস্তাঘাটও পরিষ্কার রাখার দায়িত্ব সাধারণ মানুষের। নাগরিক সচেতনতা ছাড়া পরিচ্ছন্ন কলকাতা তৈরি করা সম্ভব নয় বলেই মত তাঁর। রাস্তাঘাট নোংরা থাকার জন্য শুধুমাত্র রাজ্য সরকারকে দায়ী করাও ঠিক নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। নাগরিকদেরও দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে বলে জানান মন্ত্রী। উল্লেখ্য, গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে প্রকাশ্যে রাস্তাঘাট নোংরা করলে জরিমানা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রাস্তায় থুতু ফেলা বা প্রস্রাব করলে ১০০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। পাশাপাশি বেআইনি পার্কিং, নির্মাণ সামগ্রী কিংবা আবর্জনা রাস্তার ধারে ফেলে রাখলেও তা শাস্তিযোগ্য বলে গণ্য হবে।

১২০ মাইক্রনের নিচে প্লাস্টিক ব্যাগ ব্যবহার করলেও জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। জরিমানার অর্থ নগদে নয়, ডিজিটাল পদ্ধতিতে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এবার সেই পরিচ্ছন্নতা অভিযানের পরিধি বাড়িয়ে রবীন্দ্র সরোবরকে নতুন রূপে সাজানোর পরিকল্পনা নিয়েছে পুর দপ্তর। জলাশয়ের জলমান, নিকাশি, রাস্তা এবং সবুজায়ন—সব দিকেই একসঙ্গে কাজ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

Related Articles