রাজ্যের খবর

সকালে চা-বিস্কুট খেয়েই মেদিনীপুরের পথে! ভবানী ভবনের লকআপে নির্ঘুম রাত কাটল সুমিতের

কয়েকশো কোটি টাকার জমি কেলেঙ্কারি! জেরায় মুখে কুলুপ সুমিতের, কাকে বাঁচাতে এত বড় ঝুঁকি?

Truth of Bengal: আইনি রক্ষাকবচের মেয়াদ শেষ হতেই এক নাটকীয় মোড় নিল রাজ্য রাজনীতি। দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর অবশেষে সিআইডির জালে বন্দি তৃণমূল সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্ত সহায়ক সুমিত রায়। বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্ট তাঁর আইনি রক্ষাকবচ খারিজ করে দেওয়ার পরেই তৎপর হয়ে ওঠেন তদন্তকারীরা। মুহূর্তের মধ্যে অভিষেকের কালীঘাটের বাড়ি ঘিরে ফেলে সিআইডির একটি বিশেষ দল। সেখান থেকেই জমি দুর্নীতি সংক্রান্ত গুরুতর অভিযোগে সুমিতকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারের পরপরই প্রথাগত শারীরিক পরীক্ষা করিয়ে সুমিতকে নিয়ে যাওয়া হয় রাজ্য পুলিশের সদর দফতর ভবানী ভবনে। গোয়েন্দা সূত্রে খবর, ভবানী ভবনের লকআপে রাতটি অত্যন্ত উদ্বেগের মধ্যে কেটেছে তাঁর। সারা রাতে এক মুহূর্তের জন্যও চোখের পাতা এক করতে পারেননি অভিষেকের এই বিশ্বস্ত ছায়াসঙ্গী। ভবানী ভবনে গভীর রাত পর্যন্ত চলে লাগাতার জেরা। মূলত জমি দুর্নীতির কোটি কোটি টাকা কোথায় গেল, কার কার মাধ্যমে এই বিপুল অঙ্কের অর্থ পাচার হয়েছে এবং এতে হাওয়ালা চক্রের সরাসরি ভূমিকা রয়েছে কি না, এই সমস্ত বিস্ফোরক প্রশ্নই তাঁর সামনে তুলে ধরেন গোয়েন্দারা।

তবে তদন্তকারীদের দাবি, দীর্ঘ জেরাতেও প্রায় মুখ খোলেননি সুমিত। বেশিরভাগ প্রশ্নের উত্তরেই তিনি নীরবতা অবলম্বন করেছেন। আধিকারিকদের তীব্র সন্দেহ, তদন্তের আসল গতিপথ ঘুরিয়ে দিতে এবং প্রভাবশালী কাউকেই বাঁচাতেই চরম অসহযোগিতা করছেন তিনি। জেরা শেষে রাতে সামান্য খাবার খেলেও, দুশ্চিন্তায় সারারাত সেলের মধ্যে পায়চারি করে কাটান সুমিত। চোখে-মুখে ছিল স্পষ্ট ভয়ের ছাপ।

শুক্রবার সকালে তাঁকে চা ও বিস্কুট দেওয়া হয়। প্রাতরাশ শেষ হতেই আর সময় নষ্ট করেননি সিআইডি আধিকারিকরা। কড়া নিরাপত্তায় মুড়ে তাঁকে নিয়ে মেদিনীপুরের উদ্দেশ্যে রওনা দেয় সিআইডির কনভয়। বেলা ৩টেয় তাঁকে মেদিনীপুর জেলা আদালতে পেশ করা হবে।

গোয়েন্দাদের ধারণা, সুমিত একাই এই বিপুল অঙ্কের কারচুপি করতে পারেন না। তৎকালীন প্রশাসনিক ও সরকারি আধিকারিকদের প্রত্যক্ষ মদত ছাড়া এহেন বিশাল জমি দুর্নীতি কার্যত অসম্ভব। কারা জড়িত ছিলেন এই মেগা স্ক্যামে, কার কাছে পৌঁছেছিল কত টাকা, তা জানতেই সুমিতকে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার জন্য আদালতে আবেদন জানাবে সিআইডি। অন্যদিকে, এই দুর্নীতির সূত্রে কয়েকশো কোটি টাকার আর্থিক লেনদেনের গন্ধ পেয়ে ইতিমধ্যেই সমান্তরাল তদন্তে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডিও)। সব মিলিয়ে সুমিতের গ্রেপ্তারিতে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে তীব্র শোরগোল পড়ে গিয়েছে।

Related Articles