আইসি ক্লোজ, একাধিক পুলিশ আধিকারিক সাসপেন্ড! সুজিত মণ্ডল খুনে সিআইডি তদন্তের ঘোষণা শুভেন্দুর
হরগোবিন্দ দাসের মতো পশুর অস্ত্র দিয়ে খণ্ড-বিখণ্ড দেহ! ধুলিয়ান খুনে জিরো টলারেন্স মুখ্যমন্ত্রীর
Truth of Bengal: মুর্শিদাবাদের ধুলিয়ানে বিজেপি সমর্থক সুজিত মণ্ডলের নির্মম ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডে কঠোর ও ‘জিরো টলারেন্স’ অবস্থান গ্রহণ করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পুলিশের ঘোর নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগে একাধিক শীর্ষ পুলিশ আধিকারিককে সাসপেন্ড ও বদলি করার পাশাপাশি পুরো ঘটনার তদন্তভার রাজ্য গোয়েন্দা সংস্থা (CID)-র হাতে তুলে দেওয়ার ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। একই সঙ্গে নিহতের পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকার আর্থিক সহায়তা এবং মৃতের স্ত্রীকে হোমগার্ডের চাকরির প্রস্তাব দিয়েছে রাজ্য সরকার।
ঘটনার সূচনা গত ২৮ আগস্ট। ধুলিয়ানের বাড়ি থেকে বেরিয়ে হঠাৎই রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে যান পেশায় বিজেপি কর্মী সুজিত মণ্ডল। নিখোঁজ হওয়ার প্রায় সাত দিন পর ফরাক্কার বল্লালপুর ফিডার ক্যানেল ঘাট থেকে তাঁর খণ্ড-বিখণ্ড দেহাংশ উদ্ধার করে পুলিশ। উদ্ধার হওয়া দেহাংশের বীভৎসতা দেখে শিউরে ওঠে এলাকা। পরিবারের অভিযোগ ছিল, ঘটনার পর স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়ি ও থানায় বারংবার অভিযোগ জানানো সত্ত্বেও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
সোমবার নবান্নে আয়োজিত সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ধুলিয়ানে ২৮ আগস্ট সুজিত মণ্ডল নামে এক ব্যক্তির রহস্যজনক অন্তর্ধান ঘটে এবং পরবর্তীতে তাঁর টুকরো টুকরো দেহ উদ্ধার হয়। এই নৃশংস ঘটনাটি অতীতে ঘটে যাওয়া হরগোবিন্দ দাস ও চন্দন দাসের হত্যাকাণ্ডের স্মৃতি মনে করিয়ে দেয়। গবাদি পশু কাটার ধারালো অস্ত্র দিয়ে এই নৃশংস কাজ করা হয়েছে। তিন মূল অভিযুক্ত সামিরুল শেখ, তাজফেরা বিবি এবং জনি শেখকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করে আদালতে তুলে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।”
পুলিশের চরম অবহেলা ও নিষ্ক্রিয়তার জন্য আইনি ও শাস্তিমূলক পদক্ষেপের ঘোষণা করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ডিজিপি ও স্বরাষ্ট্র সচিবের তদন্ত রিপোর্টের ভিত্তিতে ধুলিয়ান পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এএসআই সুমন্ত কুমার দাস এবং সামশেরগঞ্জ থানার এসআই সফিউল আলমকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। সামশেরগঞ্জের আইসি সুব্রত ঘোষকে ক্লোজ করা হয়েছে লাইনে। পাশাপাশি ফরাক্কার এসডিপিও শেখ সামসুদ্দিনকে শাস্তিমূলক বদলি এবং জঙ্গিপুরের পুলিশ সুপার (SP) সুরিন্দর সিংকে সতর্ক করা হয়েছে। স্থানীয় পুলিশের গাফিলতি রুখতেই এখন থেকে সিআইডি পুরো মামলার তদন্তভার পরিচালনা করবে বলে নবান্ন থেকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে।





