রাজ্যের খবর

পড়ুয়াশূন্য বাংলার ৪ হাজারেরও বেশি স্কুল, অধিকাংশ স্কুলেই একজন শিক্ষক, লজ্জার রিপোর্ট কেন্দ্রীয় সংস্থার

৬,৭৬৯টি স্কুলে মাত্র ১ জন শিক্ষক! বাংলার শিক্ষা ব্যবস্থার কঙ্কালসার চেহারা ফাঁস রিপোর্ট কার্ডে

Truth of Bengal: বিগত ১৫ বছরে রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থায় পরিকাঠামোগত ধস কতটা মারাত্মক আকার ধারণ করেছিল, তার এক চাঞ্চল্যকর সত্য উঠে এল কেন্দ্রীয় সরকারি সংস্থা ‘ইউনিফায়েড ডিস্ট্রিক্ট ইনফরমেশন সিস্টেম ফর এডুকেশন প্লাস’ (UDISE+)-এর সাম্প্রতিক রিপোর্টে। প্রকাশিত রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে ৪ হাজারের বেশি এমন স্কুল রয়েছে যেখানে একজনও শিক্ষার্থী নেই! অন্যদিকে, রাজ্যজুড়ে ৬,৭৬৯টি এমন স্কুল রয়েছে যেখানে শয়ে শয়ে পড়ুয়ার ভরসা মাত্র ১ জন শিক্ষক।

UDISE+-এর তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যের ৪,১৩৩টি স্কুলে খাতায়-কলমে কোনও পড়ুয়াই নেই। অথচ আশ্চর্যজনকভাবে সেই স্কুলগুলিতে নিযুক্ত রয়েছেন ১৯,৫০২ জন শিক্ষক। এই তালিকায় কিছু সরকারি ও বেশ কিছু বেসরকারি বিদ্যালয় রয়েছে। যে স্কুলে কোনও পড়ুয়াই নেই, সেখানে এত বিপুল সংখ্যক শিক্ষক কী কাজ করছেন, তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠেছে। বিষয়টি প্রসঙ্গে রাজ্যের বর্তমান স্কুল শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মণ স্পষ্ট জানান, “বহু বেসরকারি স্কুল পোর্টালে তাদের সঠিক তথ্য আপডেট করেনি। তারা শিক্ষকের বিবরণ দিলেও পড়ুয়াদের ডেটা আপলোড করতে ভুল করেছে, যার ফলে এই বিভ্রাট। আমরা প্রশাসনিকভাবে দ্রুত এই গরমিল মেটানোর ব্যবস্থা করছি।”

তবে সমস্যা কেবল শূন্য পড়ুয়া স্কুলেই সীমাবদ্ধ নয়। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, রাজ্যের অন্তত ৬,৭৬৯টি স্কুলে মাত্র একজন করে শিক্ষক দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। অথচ সেই স্কুলগুলিতে পাঠরত পড়ুয়ার সংখ্যা প্রায় ২ লক্ষ ২৯ হাজার! অর্থাৎ একজন শিক্ষকের ওপর শত শত ছাত্রছাত্রীকে পড়ানোর অস্বাভাবিক চাপ রয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মণ এই প্রসঙ্গে বিগত আমলের দিকে আঙুল তুলে বলেন, “বিগত ১৫ বছরে ব্যাপক দুর্নীতি ও অনিয়মের কারণে কার্যত নতুন কোনও শিক্ষক নিয়োগই হয়নি। যার খেসারত দিতে হচ্ছে বর্তমান প্রজন্মকে। তবে আমরা এখন পুরো শিক্ষাব্যবস্থাকে নতুন করে পুনর্গঠন করছি, আশা করছি চলতি বছরের শেষের মধ্যেই এই বৈষম্য কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।”

রিপোর্টে রাজ্যজুড়ে বিদ্যালয়গুলির ছাত্র বিন্যাসের চরম বৈষম্যও প্রকাশ্যে এসেছে। বাংলায় মোট ৯৩,১৪৭টি স্কুলের মধ্যে ৮ শতাংশ স্কুলে পড়ুয়ার সংখ্যা ১০ জনেরও কম। আবার ৮.৫ শতাংশ স্কুলে ছাত্র সংখ্যা ৫০০ ছাড়িয়ে গিয়েছে। এই চরম অসমতা দূর করতে রাজ্য সরকার ইতোমধ্যে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া শুরু করেছে বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী। যে সব স্কুলে অতিরিক্ত শিক্ষক রয়েছেন, সেখান থেকে শিক্ষক ঘাটতি থাকা স্কুলগুলিতে বদলির (ট্রান্সফার) প্রক্রিয়া দ্রুত রূপায়ণ করা হচ্ছে।