কলকাতা

“নিজের বাড়িতে নিয়ে গিয়ে রাখছেন না কেন?”, পার্ক স্ট্রিট কাণ্ডে মমতাকে চাঁচাছোলা জবাব শুভেন্দুর!

পার্ক স্ট্রিটে শিশুটির দুধ ফোটানো বন্ধের নির্দেশ অগ্নিমিত্রার! লাইভে এসে কড়া প্রতিক্রিয়া মমতার, তুঙ্গে তরজা

Truth of Bengal: পার্ক স্ট্রিটের ফুটপাথে এক বৃদ্ধার দুধ গরম করার ভিডিওকে কেন্দ্র করে গত কয়েক দিন ধরে রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। সোমবার একটি ফেসবুক লাইভে এসে সেই অসহায় পরিবারের সম্পূর্ণ দায়িত্ব নেওয়ার তীব্র ইচ্ছে প্রকাশ করেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি ঘোষণা করেন, ওই পরিবারটি রাজি থাকলে দলের কোনও কর্মীর বাড়িতে তাঁদের থাকার সুন্দর ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে এবং শিশুটির পড়াশোনার যাবতীয় খরচও বহন করবেন তিনি। কিন্তু নবান্নে আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠক থেকে মমতার এই প্রস্তাবের তীব্র সমালোচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর অধিকারী।

পুরো ঘটনাটির সূত্রপাত কয়েক দিন আগে, যখন পার্ক স্ট্রিটের ফুটপাথে নিজের নাতির জন্য দুধ ফোটাচ্ছিলেন এক বৃদ্ধা। রাস্তায় যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে এই আশঙ্কায় তাঁকে দুধ ফোটানো বন্ধ করতে বলেন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তড়িঘড়ি কাজটি বন্ধের নির্দেশ দিয়ে তিনি জানতে চান তাঁদের বাড়ি কোথায়। তখন আকুল কণ্ঠে বৃদ্ধা জানান, ৫০ বছর ধরে পার্ক স্ট্রিটের ফুটপাথই তাঁদের ঠিকানা, থাকার বিকল্প ঘর থাকলে কেউ সানন্দে রাস্তায় দিন কাটায় না। ঘটনাটির ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর অগ্নিমিত্রা পালের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন নেটিজেনদের একাংশ। পরবর্তীতে অগ্নিমিত্রা জানান, শিশুটির খাবার কেড়ে নেওয়া হয়নি, সুরক্ষার স্বার্থেই সরে যেতে বলা হয়েছিল; তবে তাঁর হয়তো বিষয়টিকে আরেকটু বুঝিয়ে বলা উচিত ছিল।

সোমবার বিষয়টিকে সামনে রেখে ক্ষোভ উগরে দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “দরিদ্র মানুষকে ঘৃণা করা উচিত নয়। যে মা বাচ্চার জন্য দুধ ফোটাচ্ছে, তার ওপর এমন আচরণ অনুচিত। মায়ের অভিশাপ কিন্তু সবচেয়ে বড় অভিশাপ।” এরপরই ওই অসহায় পরিবারটির থাকার ও বাচ্চার পড়াশোনার পুরো দায়িত্ব নেওয়ার কথা জানান তিনি।

মমতার এই বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় নবান্ন থেকে পাল্টা কড়া জবাব দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তড়িঘড়ি প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, “উনি নিজের বাড়িতে ওই পরিবারকে নিয়ে গিয়ে রাখছেন না কেন? হালিশহরে ওনার নিজের কর্মীর বাড়িতেই তো ওনাকে ঢুকতে দেওয়া হয়নি।” শুভেন্দু আরও যোগ করেন, “আমার সঙ্গে ইতিমধ্যেই মৃতের পরিবার কথা বলেছে, তাঁরা অর্থ সাহায্যও নিয়েছেন এবং চাকরির বিষয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়েছেন। যে কর্মীরা নিজেই ওনাকে ভরসা করেন না, সেই কর্মীদের বাড়িতে রাখার কথা বলে কী লাভ!” সেই সঙ্গে বয়স নিয়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে কটাক্ষ করে কথা কম বলার পরামর্শও দেন তিনি। ফলে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসক-বিরোধী রাজনৈতিক তরজা এখন তুঙ্গে।

Related Articles