দিল্লির দরবারে বাংলার জয়জয়কার! বিরল সম্মান শান্তিপুর-ফুলিয়ার দুই তাঁতশিল্পীর
বাবা পদ্যশ্রী, এবার জাতীয় পুরস্কার পেলেন ছেলেও! ফুলিয়ার বসাক পরিবারে জোড়া জাতীয় স্বর্ণকমল
মাধব দেবনাথ, নদিয়া: নদিয়া জেলার ঐতিহ্যবাহী শান্তিপুর ও ফুলিয়ার বিখ্যাত তাঁত শিল্পের গৌরবময় মুকুটে যুক্ত হল দুটি অমূল্য নতুন পালক। সুতোর নিপুণ টান আর হাতের জাদুতে নয়াদিল্লির দরবারে আরও একবার সমগ্র বাংলার নাম উজ্জ্বল করলেন শান্তিপুর ব্লকের ফুলিয়া এলাকার দুই প্রখ্যাত তাঁতশিল্পী অভিনব বসাক এবং মন্টু বসাক। জাতীয় তাঁত দিবস উপলক্ষে দিল্লির বিজ্ঞান ভবনে আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় বস্ত্র মন্ত্রকের তরফ থেকে তাঁদের হাতে এই মর্যাদাপূর্ণ জাতীয় পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।
পুরস্কারপ্রাপ্ত এই দুই গুণী শিল্পীর কাজের নিদর্শন সত্যিই নজরকাড়া। একজন ৫০০ কাউন্ট খাদি মসলিন জামদানির সূক্ষ্ম ও অলৌকিক বুননের মাধ্যমে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন, অন্যদিকে অন্যজন হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যবাহী বালুচরী শৈলীকে ফিরিয়ে এনে এবং লিনেন জামদানির নকশায় যুগান্তকারী নতুন ডিজাইন তৈরি করে ভারতের সেরা রূপকার নির্বাচিত হয়েছেন। এই দুই শিল্পীর এই রাজকীয় সাফল্যে এখন আনন্দে ভাসছে পুরো ফুলিয়া ও শান্তিপুরের তাঁত মহল।
এই বিশেষ উদযাপনের আরও একটি আবেগঘন দিক রয়েছে। জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রখ্যাত তাঁতশিল্পী তথা পদ্মশ্রী বীরেন কুমার বসাকের একমাত্র সন্তান হলেন এই অভিনব বসাক। ছোটবেলা থেকেই বাবার হাতেই তাঁর তাঁত শিল্পের মূল শিক্ষা বা হাতেখড়ি হয়। দেশভাগের পর ওপার বাংলা থেকে এপার বাংলায় এসে তিলে তিলে নিজের অসামান্য শিল্পকর্মের ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন বীরেনবাবু, যা পরবর্তীতে বিশ্বজুড়ে প্রশংসা কুড়িয়েছিল। বাবার সেই অসামান্য সৃষ্টিশীলতা এবং দেশজুড়ে নাম কুড়ানোর ঝুলিকে অনুপ্রেরণা হিসেবে নিয়ে বড় হয়েছেন অভিনব।
দীর্ঘদিন ধরেই অভিনবের মনের মধ্যে বাবার মতো জাতীয় স্তরে নিজের কারুকার্যকে বিস্তৃত করার প্রবল আকাঙ্ক্ষা ছিল। অবশেষে দিল্লির বিজ্ঞান ভবনের সম্মানজনক মঞ্চে নিজের কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখে সেই বহুপ্রতীক্ষিত স্বপ্নপূরণ করলেন তিনি। একই পরিবারে বাবা ও ছেলে, দুজনেরই জাতীয় পুরস্কার পাওয়ার এই বিরল দৃষ্টান্ত ফুলিয়ার তাঁত ঐতিহ্যকে এক নতুন মাত্রায় পৌঁছে দিয়েছে। দুই প্রতিভাবান শিল্পীর এই ঐতিহাসিক সম্মান অর্জনে শুধু নদিয়াই নয়, গোটা পশ্চিমবঙ্গ গর্বিত।






