ক্যাগ রিপোর্টে বিস্ফোরক তথ্য! অভিষেকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির ‘হাতেগরম প্রমাণ’ নিয়ে দিল্লি ছুটছেন ঋতব্রত
সেবাশ্রয়'-এর টাকা সোজা কেম্যান আইল্যান্ডে? 'কেরল লবি' হাটে হাঁড়ি ভাঙতেই তোলপাড় রাজনীতি!
Truth of Bengal: সাংসদ পদের ক্ষমতার অপব্যবহার, বিপুল আর্থিক অনিয়ম এবং কেরল হয়ে বিদেশে টাকা পাচারের মারাত্মক অভিযোগে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়াল রাজ্য রাজনীতিতে। এবার তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সুর চড়ালেন ‘আসল’ তৃণমূল শিবিরের নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। সূত্রের খবর, ক্যাগ (CAG) রিপোর্টের তথ্যসূত্রকে হাতিয়ার করে অভিষেকের বিরুদ্ধে ওঠা একাধিক দুর্নীতির ‘হাতেগরম প্রমাণ’ পৌঁছে গিয়েছে ঋতব্রতের হাতে, যা নিয়ে এবার দিল্লির দরবারে নালিশ জানাতে যাওয়ার তোড়জোড় চলছে।
অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ডায়মন্ড হারবার সংসদীয় এলাকার সাতটি বিধানসভায় চালু হওয়া ‘সেবাশ্রয়’ স্বাস্থ্য শিবির। অভিযোগ, সাধারণ মানুষের চিকিৎসার নাম করে শুরু হওয়া এই প্রকল্পে মারাত্মক আর্থিক নয়ছয় হয়েছে। চিকিৎসায় গাফিলতির পাশাপাশি এই বেআইনি অর্থ আড়ালের পেছনে এক ‘কেরল লবি’র যোগসূত্রের দাবি তুলেছেন ঋতব্রত। তাঁর বিস্ফোরক অভিযোগ, সেবাশ্রয়ের বিপুল কালো টাকা কেরলের উপনির্বাচনে ব্যবহার করার পাশাপাশি একটি বিলাসবহুল বিচ রিসর্টে বৈঠকের পর ইউরোপের অন্যতম নিরাপদ ট্যাক্স হেভেন কেম্যান আইল্যান্ডে পাচার করা হয়েছে।
এর আগে তৃণমূলের প্রাক্তন আইপিএস ও বিধায়ক প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়ও বিদেশে কালো টাকা পাচারের বিষয়ে উচ্চপর্যায়ের তদন্তের দাবি জানিয়েছিলেন। এবার ঋতব্রত পুরো দুর্নীতি চক্রের নির্দিষ্ট নথি হাতে এসেছে বলে ঘনিষ্ঠ মহলে দাবি করেছেন। চলতি সপ্তাহের বৃহস্পতিবারই সেই সমস্ত নথি নিয়ে তিনি দিল্লি পাড়ি দিতে পারেন এবং কেন্দ্রীয় সংস্থা ও নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেন বলে রাজনৈতিক মহল সূত্রে খবর।
বর্তমানে জোড়াফুল প্রতীক এবং দলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ‘কালীঘাট’ বনাম ‘আসল’ তৃণমূলের মধ্যে তীব্র রাজনৈতিক লড়াই চলছে। নির্বাচন কমিশনকে দেওয়া চিঠিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যে অনুরোধ জানিয়েছেন যাতে ঋতব্রত শিবিরকে অতিরিক্ত সময় না দেওয়া হয়। এই আইনি ও রাজনৈতিক দড়ি টানাটানির মাঝেই অভিষেকের বিরুদ্ধে পাহাড়প্রমাণ দুর্নীতির নথি সামনে এনে উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেদের পাল্লা ভারী করতে চাইছেন বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞেরা।





