কলকাতা

আইনি টানাপোড়েনের অবসান! অবশেষে ‘ডিজে মামলা’য় কণ্ঠস্বরের নমুনা দিতে আদালতে অভিষেক

তাঁর উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে আদালত চত্বর কড়া নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়

Truth of Bengal: দীর্ঘ আইনি টানাপোড়েনের পর অবশেষে ‘ডিজে মামলা’য় কণ্ঠস্বরের নমুনা দিতে বিধাননগর আদালতে হাজির হলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার সকাল ১১টা নাগাদ কালীঘাটের বাড়ি থেকে বেরিয়ে নির্ধারিত সময়ের আগেই আদালতে পৌঁছে যান কালীঘাট তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কম্যান্ড। তাঁর উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে আদালত চত্বর কড়া নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়। বেশ কিছুদিন ধরেই এই মামলায় অভিষেকের কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহ নিয়ে জটিলতা চলছিল। সিআইডির তলবে একবার হাজিরা দিলেও নমুনা দেওয়ার নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তিনি। সংশ্লিষ্ট ‘ডিজে মন্তব্য’-এর কণ্ঠস্বর নিজের বলে স্বীকার করেও তাঁর প্রশ্ন ছিল, দায় স্বীকারের পর আলাদা করে নমুনা সংগ্রহের প্রয়োজন কেন।

সেই মামলার শুনানিতে অভিষেকের অবস্থান নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য। তদন্তে সহযোগিতা না করলে তাঁকে দেওয়া রক্ষাকবচ প্রত্যাহার করা হতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি। আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, নোটিস মেনে তদন্তে সহযোগিতা করতে হবে। অন্যথায় মামলা খারিজের পাশাপাশি জরিমানাও করা হতে পারে। অভিষেকের আইনজীবীর উদ্দেশে বিচারপতি প্রশ্ন করেন, রক্ষাকবচ প্রত্যাহার করা হবে, নাকি তাঁর মক্কেল কণ্ঠস্বরের নমুনা দিতে যাবেন। আদালতের এই কড়া অবস্থানের পরই নমুনা সংগ্রহের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা আবেদন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

তবে অভিষেকের পক্ষ থেকে আদালতের কাছে দু’টি আবেদন জানানো হয়েছিল। প্রথমত, এই কণ্ঠস্বরের নমুনা যেন অন্য কোনও মামলায় ব্যবহার করা না হয়। দ্বিতীয়ত, আদালতে যাতায়াতের সময় তাঁকে লক্ষ্য করে যাতে কোনও ধরনের ডিম-হামলা না হয়, তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। এরপর তাঁর আইনজীবী আদালতে জানান, নির্দেশ মেনে ১৫ জুলাই বিধাননগর আদালতে হাজির হয়ে কণ্ঠস্বরের নমুনা দেবেন অভিষেক। সেই অনুযায়ী বুধবার সকালেই কালীঘাটের বাড়ি থেকে রওনা হন তিনি। দুপুর ১২টায় হাজিরার সময় নির্ধারিত থাকলেও কিছুটা আগেই আদালতে পৌঁছে যান। অভিষেকের আগমন ঘিরে বিধাননগর আদালতের ভিতরে ও বাইরে ব্যাপক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়। মোতায়েন ছিল পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। আদালতে প্রবেশের পথেও নজরদারি জোরদার করা হয়, যাতে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়।

Related Articles