খেলা

বাথরুম বিরতিই লিখল অনুপ্রেরণার গল্প, উইম্বলডন জয় নোসকোভার

অল ইংল্যান্ড ক্লাবের ফাইনালে নিজের প্রথম গ্র্যান্ড স্ল্যাম ফাইনালেই বাজিমাতৎ করেন ২১ বছর বয়সি চেক প্রজাতন্ত্রের এই টেনিস খেলোয়াড়।

Truth of Bengal: একটি ছোট বিরতি, আর সেই সময়ে দেখা দু’টি ট্রফি বদলে দিল লিন্ডা নোসকোভার মানসিকতা। উইম্বলডনের মহিলা সিঙ্গলসেরর নতুন চ্যাম্পিয়ন জানালেন, বাথরুমে যাওয়ার পথে ক্লাবঘরে রাখা ট্রফিগুলির দিকে এক ঝলক তাকানোই তাঁকে বড় জয়ের জন্য নতুন করে অনুপ্রাণিত করেছিল।

অল ইংল্যান্ড ক্লাবের ফাইনালে নিজের প্রথম গ্র্যান্ড স্ল্যাম ফাইনালেই বাজিমাতৎ করেন ২১ বছর বয়সি চেক প্রজাতন্ত্রের এই টেনিস খেলোয়াড়। অলিম্পিক্সে তাঁর ডাবলস সঙ্গী ও স্বদেশীয় বন্ধু ক্যারোলিনা মুচোভাকে ৬-২, ৫-৭, ৬-৩ ব্যবধানে হারিয়ে জিতে নেন উইম্বলডনের মর্যাদাপূর্ণ ভেনাস রোজওয়াটার ডিশ।

ফাইনালে দ্বিতীয় সেটে হেরে যাওয়ার পর কিছুটা থমকে গিয়েছিল নোসকোভার গতি। সেই সময় তিনি বাথরুম বিরতি নেন। মুখে ঠান্ডা জল দিয়ে নিজেকে নতুন করে প্রস্তুত করেন। কিন্তু কোর্টে ফেরার আগে ক্লাবঘরে তাঁর চোখে পড়ে দু’টি ট্রফি— একটি রানার্সআপের ছোট ট্রফি এবং অন্যটি চ্যাম্পিয়নের ভেনাস রোজওয়াটার ডিশ। সেই মুহূর্তেই নিজের কাছে প্রতিজ্ঞা করেন নোসকোভা। ছোট ট্রফি নয়, তাঁকে জিততে হবে বড় ট্রফিই। তিনি জানান, তখনই মনে হয়েছিল, এই সুযোগ হাতছাড়া করা যাবে না। তৃতীয় সেটে নিজের উপর নতুন করে মনোযোগ দেওয়াই ছিল জয়ের মূল চাবিকাঠি। বিশেষ করে তৃতীয় সেটের প্রথম সার্ভ ধরে রাখার পর আত্মবিশ্বাস ফিরে পান তিনি।

নোসকোভার এই সাফল্য তাঁকে বিশেষ এক তালিকায় জায়গা করে দিয়েছে। ২০১১ সালে উইম্বলডন জেতা তাঁর আদর্শ পেত্রা কোভিতোভার পর তিনিই সবচেয়ে কম বয়সি উইম্বলডন মহিলা সিঙ্গলস চ্যাম্পিয়ন। রয়্যাল বক্সে বসে নোসকোভার জয় দেখেছেন কোভিতোভা।

উইম্বলডনে গ্র্যান্ড স্ল্যাম ফাইনালে অভিষেকেই জয় পাওয়া চেক প্রজাতন্ত্রের দ্বিতীয় মহিলা খেলোয়াড় হলেন নোসকোভা। এর আগে এই কীর্তি গড়েছিলেন কোভিতোভা। সব মিলিয়ে গ্র্যান্ড স্ল্যাম সিঙ্গলসের চ্যাম্পিয়ন হওয়া চেক প্রজাতন্ত্রের পঞ্চম খেলোয়াড় তিনি। গত ৪ বছরে উইম্বলডন জয়ী তৃতীয় চেক মহিলা খেলোয়াড়ও হলেন নোসকোভা।

ঘাসের কোর্টে ধারাবাহিক সাফল্যের নতুন নজিরও গড়েছেন তিনি। ২০০৪ সালে মারিয়া শারাপোভার পর প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে উইম্বলডনের আগে ঘাসের কোর্টের প্রস্তুতি প্রতিযোগিতা এবং মূল প্রতিযোগিতা—দুটিতেই চ্যাম্পিয়ন হওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করলেন নোসকোভা।

Related Articles