দেশ

বিরোধী শিবিরের ২৫ সাংসদ পদ্মশিবিরে! কোন উদ্দেশ্যে বিজেপির এই ‘অপারেশন লোটাস’?

২৫ জন বিরোধী সাংসদ এখন বিজেপির পকেটে! সুকৌশলে দুই মডেলে চলছে দলবদল

Truth of Bengal: তৃণমূল কংগ্রেসের হাত ছেড়ে বিজেপিতে (BJP) যোগদানের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব ও প্রকাশ চিক বরাইকের রাজ্যসভার টিকিট পাওয়া নিয়ে বঙ্গ পদ্মশিবিরের অন্দরে ক্ষোভের আগুন জ্বলছে। আদি বনাম নব্যদের এই সুপ্ত অসন্তোষের মাঝেই এবার সামনে এল এক চাঞ্চল্যকর সর্বভারতীয় পরিসংখ্যান। হিসাব বলছে, রাজনৈতিক শত্রুতা ভুলে বিরোধী শিবিরের সাংসদদের নিজেদের দলে টানতে বরাবরই অতি ‘উদার’ মোদি-শাহ জুটি। আসলে রাজ্য বিজেপির একাংশের এই ক্ষোভকে বিন্দুমাত্র পাত্তা না দিয়ে দিল্লির নেতৃত্ব মিশন ২০২৬-এ পাখির চোখ করেছে সংসদের উচ্চকক্ষকে।

বিরোধীদের যতই চরম শত্রু মনে হোক না কেন, সংসদের অঙ্কে সরকার চালাতে বাছবিচারহীনভাবে সাংসদ ভাঙানোর খেলায় নেমেছে বিজেপি। গত কয়েক বছরে বিরোধী শিবিরের অন্তত ২৫ জন রাজ্যসভা সাংসদকে নিজেদের দিকে টেনে নিয়েছে গেরুয়া শিবির। এর জন্য মূলত দুটি নিখুঁত মডেল ব্যবহার করছে দিল্লি।

প্রথম মডেলটি কাজ করেছে আম আদমি পার্টি (AAP), টিডিপি কিংবা ওয়াইএসআর কংগ্রেসের ক্ষেত্রে। এই মডেলে বিরোধী দলের সাংসদেরা সদলবলে সরাসরি বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন। আপ-এর রাঘব চাড্ডা বা হরভজন সিংদের মতো হেভিওয়েটদের ক্ষেত্রেও এই ফর্মুলা কাজ করেছে, কারণ সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলিতে নতুন করে সাংসদ জেতানোর মতো বিধায়ক সংখ্যা বিজেপির হাতে ছিল না। দ্বিতীয় মডেলটি কাজ করেছে বাংলা বা ওড়িশার ক্ষেত্রে, যেখানে তৃণমূল বা বিজেডি-র সাংসদেরা প্রথমে পদত্যাগ করছেন এবং পরে উপনির্বাচনে বিজেপির টিকিটে ফের রাতারাতি রাজ্যসভায় ফিরে যাচ্ছেন।

২৪৫ আসনের উচ্চকক্ষে কেন ১৬৪-র জন্য মরিয়া বিজেপি? ফাঁস হল দিল্লির আসল খেলা

কিন্তু কেন নিজেদের ত্যাগী নেতাদের বঞ্চিত করে দলবদলুদের এত বড় বড় ‘ইনাম’ দিচ্ছে আরএসএস-বিজেপির শীর্ষ মহল? তার আসল চাবিকাঠি লুকিয়ে রয়েছে ভারতীয় সংবিধানের সংশোধনীর গোপন অঙ্কে। যেকোনো বড় এবং ঐতিহাসিক সংবিধান সংশোধনী বিল (Constitutional Amendment Bill) পাশ করাতে গেলে সংসদের দুই কক্ষেই দুই-তৃতীয়াংশ (2/3rd) সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রয়োজন হয়। বর্তমানে ২৪৫ আসনের রাজ্যসভায় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে প্রয়োজন ১৬৪টি আসন। এই মুহূর্তে বিজেপির একার হাতে রয়েছে ১১৭ জন সাংসদ এবং এনডিএ (NDA) জোটের মোট সাংসদ সংখ্যা ১৫২। অর্থাৎ ম্যাজিক ফিগার থেকে আর মাত্র ১২টি আসন দূরে দাঁড়িয়ে রয়েছে মোদী সরকার।

“অনিচ্ছা সত্ত্বেও করতে হচ্ছে আপস”, সংবিধান বদলের লক্ষ্যেই কি এই অল-আউট যুদ্ধ?

বিজেপির কেন্দ্রীয় সূত্র স্পষ্ট জানাচ্ছে, সংসদীয় গণতন্ত্রে বড় লক্ষ্য পূরণের জন্য অনেক সময় দলের অন্দরের অনিচ্ছা বা অসন্তোষ সত্ত্বেও বড় বড় রাজনৈতিক আপস করতে হয়। এই মুহূর্তে নরেন্দ্র মোদি ও শুভেন্দু অধিকারীদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হলো ইউনিফর্ম সিভিল কোড (UCC) বা ‘এক দেশ এক নির্বাচন’-এর মতো মেগা সংবিধান সংশোধনী বিলগুলি কোনো বাধা ছাড়াই সংসদে পাশ করিয়ে নেওয়া। আর সেই কারণেই দলীয় বাছবিচার পুরোপুরি শিথিল করে, নীতি-আদর্শের তোয়াক্কা না করে একের পর এক বিরোধী সাংসদদের নিজেদের শিবিরে ভেড়াচ্ছে বিজেপি।

Related Articles