রাজ্যের খবর

বন্ধুত্ব পাতিয়ে আস্থা অর্জন, তারপরই সর্বনাশ! নাবালিকা খুনের নীলনকশা তৈরি করেছিল ‘বিকৃতকাম’ প্রভাসই

এনকাউন্টারে মৃত্যুর পর এবার তিন সাগরেদের মুখোমুখি জেরা! বারুইপুর কাণ্ডে কে এই রহস্যময় ‘রাজা’?

Truth of Bengal: বারুইপুরের সেই হাড়হিম করা নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় মূল চক্রী প্রভাস মণ্ডল পুলিশি এনকাউন্টারে খতম হওয়ার পর এবার তদন্তে নেমে এলো আরও এক চাঞ্চল্যকর মোড়। পুলিশি হেফাজতে থাকা বাকি তিন ধৃত, কবীর মোল্লা, দিবাকর সর্দার ও আনন্দ সর্দারকে মুখোমুখি বসিয়ে ম্যারাথন জেরা করতেই সামনে এসেছে মৃত প্রভাসের অন্ধকার জীবনের একাধিক নজিরবিহীন তথ্য। একই সঙ্গে জেরার ভিডিওতে প্রভাসের মুখে শোনা যাওয়া রহস্যময় ‘রাজা’ নামের এক চরিত্রের উপস্থিতিতে এই হাই-প্রোফাইল মামলার রহস্য এখন আরও ঘনীভূত।

বারুইপুর জেলা পুলিশ সূত্রে খবর, প্রভাস মণ্ডল এনকাউন্টারে মারা গেলেও এই নৃশংস অপরাধের আসল চিত্রনাট্য যে তারই মস্তিষ্কপ্রসূত, তা কবুল করেছে ধৃত বাকি তিন দুষ্কৃতী। জেরায় তারা জানিয়েছে, একই এলাকার বাসিন্দা হওয়ায় ওই নাবালিকার ওপর দীর্ঘদিন ধরে কুদৃষ্টি ছিল প্রভাসের। মেয়েটির গতিবিধির ওপর নজর রাখার পাশাপাশি সুকৌশলে তার সাথে বন্ধুত্ব পাতিয়েছিল সে, যাতে ঘটনার দিন তাকে সহজে নির্জন অকুস্থলে নিয়ে যাওয়া যায়। নাবালিকাকে অপহরণ, পাশবিক অত্যাচার, খুন এবং প্রমাণ লোপাটের জন্য দেহ পুকুরে ভাসিয়ে দেওয়ার যাবতীয় ব্লু-প্রিন্ট বা ‘নীলনকশা’ প্রভাস নিজেই সুচারুভাবে তৈরি করেছিল।

“একাজ ও করেনি, জোর গলায় বলতে পারব না”, নেশা ও বিকৃতকামের পর্দাফাঁস করল পরিবার

প্রভাসের মৃত্যুর পর তার মা ও স্ত্রীর বয়ানও তদন্তকারীদের এই দাবির পক্ষে অকাট্য প্রমাণ হিসেবে খাড়া হয়েছে। প্রভাসের স্ত্রী পুলিশের কাছে ক্ষোভ উগরে দিয়ে জানান, প্রভাস কোনওদিনই সে অর্থে কোনও কাজ করত না। দিনভর বুঁদ হয়ে থাকত মারাত্মক নেশায়। তাঁর নোংরা চরিত্রের কারণে স্ত্রীর সাথেও বনিবনা ছিল না। এলাকার একাধিক মহিলার দিকে নজর দেওয়া ও উত্যক্ত করা প্রভাসের মজ্জাগত অভ্যাস ছিল। স্ত্রীর কথায়, “ও বরাবরই নোংরা আর বিকৃত মানসিকতার লোক। তাই ও এই জঘন্য কাজ করেনি, তা আমি কোনোদিন জোর গলায় বলতে পারব না।” প্রতিবেশীরাও প্রভাসের এই অপরাধী চরিত্রের বিরুদ্ধে একযোগে সরব হয়েছেন।

‘রাজা’ নামের রহস্যভেদ করতে মরিয়া পুলিশ, এবার হবে ক্রাইম সিনের পুনর্নির্মাণ

তদন্তের মাঝে নতুন করে রহস্য দানা বেঁধেছে প্রভাসের একটি ভাইরাল হওয়া জেরা ভিডিও ঘিরে, যেখানে সে জনৈক ‘রাজা’ নামের এক ব্যক্তির কথা উল্লেখ করেছিল। পুলিশ প্রাথমিকভাবে মনে করছে, গ্রেফতার হওয়া কবীর, দিবাকর বা আনন্দের মধ্যেই কারও ডাকনাম ‘রাজা’ হতে পারে, অথবা তদন্তকারীদের বিভ্রান্ত করার জন্য মৃত্যুর আগে প্রভাস এই কাল্পনিক নাম ব্যবহার করেছিল। বারুইপুর পুলিশ জানিয়েছে, মামলার পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্য মেলাতে এবং ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে খুব শীঘ্রই বাকি তিন ধৃতকে ধপধপির সেই পুকুর পাড়ে নিয়ে গিয়ে ‘ক্রাইম সিনের পুনর্নির্মাণ’ (Reconstruction of Crime Scene) করানো হবে।

Related Articles