Truth of Bengal: বারুইপুরে নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতি আরও উত্তপ্ত। এই ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার কালীঘাটে মোমবাতি মিছিল করার পর এবার কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ৮ জুলাই বারুইপুর কাণ্ড-সহ একাধিক ইস্যুতে মিছিল করার অনুমতি চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে কালীঘাট তৃণমূল।বারুইপুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত কয়েকদিন ধরেই রাজ্যজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। তবে ঘটনার পরপরই তদন্তে নেমে দ্রুত পদক্ষেপ করেছে পুলিশ। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মূল অভিযুক্ত-সহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং আরও তিনজনকে আটক করা হয়েছে। একইসঙ্গে তদন্তের জন্য বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করা হয়েছে। ঘটনার দিনই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিহত নাবালিকার বাবার সঙ্গে ফোনে কথা বলে দ্রুত বিচার এবং দোষীদের কঠোর শাস্তির আশ্বাস দেন। মঙ্গলবার তাঁর নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করারও কর্মসূচি রয়েছে।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই আন্দোলনের কর্মসূচি নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আদালতে জানানো হয়েছে, ৮ জুলাই বালিগঞ্জ ফাঁড়ি থেকে ল্যান্সডাউন মার্কেট পর্যন্ত বারুইপুর কাণ্ড-সহ বিভিন্ন ইস্যুর প্রতিবাদে মিছিল করতে চায় কালীঘাট তৃণমূল। এই সংক্রান্ত মামলার শুনানি মঙ্গলবার দুপুর ২টার পর হওয়ার কথা। এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক তরজাও তীব্র হয়েছে। সমালোচকদের একাংশের দাবি, অতীতে পার্ক স্ট্রিট, কামদুনি, হাঁসখালি কিংবা আর জি কর-সহ বিভিন্ন নারী নির্যাতনের ঘটনায় তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। আর জি কর কাণ্ডের প্রতিবাদের সময় তিনি আন্দোলনকারীদের উৎসবমুখর পরিবেশে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন বলেও বিরোধীদের অভিযোগ। সেই প্রেক্ষাপটে বারুইপুরের ঘটনায় তাঁর সক্রিয় আন্দোলনের সিদ্ধান্তকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে।
বিরোধীদের দাবি, বর্তমান পরিস্থিতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আন্দোলনের ডাক রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। অন্যদিকে তৃণমূলের বক্তব্য, নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ গণতান্ত্রিক অধিকার এবং সেই কারণেই তারা পথে নামছে। ফলে বারুইপুর কাণ্ড এখন শুধু আইন-শৃঙ্খলার বিষয় নয়, তা রাজ্যের রাজনৈতিক লড়াইয়েরও অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।






