কলকাতা

“স্টেডিয়ামের পাশে ভাল চা-সিঙাড়া পাওয়া যায়”, প্রতীক বিতর্কের মাঝেই কল্যাণকে আমন্ত্রণ বিরোধী দলনেতা ঋতব্রতর

সরাসরি কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করেন বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়

Truth of Bengal: নব তৃণমূল বনাম আদি তৃণমূল—আসল দল কোনটি? দলের নাম ও প্রতীকের উপর অধিকার কার? এই প্রশ্ন ঘিরেই এখন জাতীয় নির্বাচন কমিশনের দোরগোড়ায় তৃণমূলের দুই শিবির। প্রতীক নিয়ে ঋতব্রতপন্থীদের দাবি জমা পড়ার পর দু’পক্ষের কাছ থেকেই উত্তর চেয়ে পাঠিয়েছিল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। সেই প্রেক্ষিতে এদিন কমিশনে গিয়ে নিজেদের নথি জমা দেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, মহুয়া মৈত্র এবং সাগরিকা ঘোষ। অন্যদিকে, আগেই নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে দেখা করে নেওয়ায় এদিন আইনজীবী মারফত নিজেদের বক্তব্য পাঠায় ঋতব্রতপন্থী শিবির। এই বিষয়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “গত ২২ জুন আমাদের প্রতিনিধি দল গিয়ে দেখা করে আসে। আমরা জ্ঞানেশ কুমার-সহ ফুল বেঞ্চের সঙ্গে দেখা করি। নির্বাচন কমিশন আমাদের ই-মেইল করে সময় জানায়। আমাদের বক্তব্য আজ আমরা পাঠিয়ে দিয়েছি।”

সম্প্রতি ফেসবুক লাইভে জাতীয় নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ফের ‘ভ্যানিশ কুমার’ বলে কটাক্ষ করেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই আবহেই এদিন কমিশনে নথি জমা দিয়ে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আইনি দিক থেকে আমাদের যুক্তি পোক্ত। কিন্তু ওদের সঙ্গে বিজেপি, শুভেন্দু অধিকারীর সমর্থন রয়েছে। তাই ওদের বেআইনি কাজটাই হয়তো আইনি হয়ে যাবে। শেষ পর্যন্ত তা হলেও আদালতে দেখিয়ে দেব, জনতার আদালতে বুঝে নেব।” আদি তৃণমূলের এই অবস্থানের জবাবে পাল্টা সুর চড়ান ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য, “তৃণমূল কংগ্রেস এখন যে সরকারে নেই, সেটা অনেকে মেনে নিতে পারছেন না। তাই চোখ রাঙানি, গা-জোয়ারি রয়ে গেছে। এবার নির্বাচন কমিশন যা দেখার দেখে নেবে।” তিনি আরও বলেন, “যাঁরা আজ নানা কথা বলছেন, তাঁরা আদালতে দেখবেন না এলাকায় দেখবেন, তা আমরা দেখতে প্রস্তুত আছি। জনগণ আগেও সব দেখেছে, এখনও সব দেখছে।”

এরপর সরাসরি কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করেন বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। কটাক্ষের সুরে তিনি বলেন, “উনি আগেও আক্রান্ত হয়েছেন। কীভাবে কোথায় আক্রান্ত হয়েছেন, সেটা কেউ দেখেনি। হঠাৎ মাথায় হাত চেপে শুয়ে পড়লেন। কান্নাকাটি করলেন। যখন কাঁদেন, মিডিয়া পৌঁছে যায়। এর আগে পুজোয় কাঁদতেন। ওনার সঙ্গে অবশ্য নিরাপত্তারক্ষী থাকে। উলুবেড়িয়াতে ওনাকে আসতে বলব। স্টেডিয়ামের পাশে ভাল চা-সিঙাড়া পাওয়া যায়।” তৃণমূলের নাম ও প্রতীক নিয়ে দুই শিবিরের লড়াই এখন নির্বাচন কমিশনের টেবিলে। একদিকে আদি তৃণমূলের আইনি দাবির লড়াই, অন্যদিকে ঋতব্রতপন্থীদের পাল্টা আত্মবিশ্বাস—সব মিলিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে তাপ ছড়াল তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব।

Related Articles