“আমি গ্রেপ্তার হলে ১০০-১২০ জনও গ্রেপ্তার হবেন” — থানায় ঢোকার আগে হুঁশিয়ারি হুমায়ুনের
থানায় ঢোকার আগে ফের চ্যালেঞ্জের সুর শোনা যায় হুমায়ুনের গলায়
Truth of Bengal: ‘স্যাঁটা’ মন্তব্য ঘিরে দায়ের হওয়া মামলায় অবশেষে রেজিনগর থানায় হাজিরা দিলেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির নেতা হুমায়ুন কবীর। শনিবার সকাল সাড়ে ১১টার আগেই থানায় পৌঁছন তিনি। থানায় ঢোকার আগে ফের চ্যালেঞ্জের সুর শোনা যায় হুমায়ুনের গলায়। তিনি বলেন, “আমি গ্রেপ্তার হলে আরও ১০০-১২০ জন স্বেচ্ছায় গ্রেপ্তার হবেন। তালিকা প্রস্তুত রয়েছে।” হুমায়ুনের এই মন্তব্যের পর নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। তাহলে কি বিতর্কিত মন্তব্য মামলায় গ্রেপ্তারির আশঙ্কা করছেন তিনি? নাকি আগাম রাজনৈতিক চাপ তৈরির কৌশল হিসেবেই এই বার্তা? সেই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে।
গত ২৬ জুন রেজিনগরে আম জনতা উন্নয়ন পার্টির একটি সভা থেকে বিজেপির বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক মন্তব্য করার অভিযোগ ওঠে হুমায়ুন কবীরের বিরুদ্ধে। ওই মন্তব্য ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়। বিধানসভায় দাঁড়িয়েই তাঁকে কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি সাফ জানান, এ ধরনের মন্তব্য বরদাস্ত করা হবে না এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এরপরই রেজিনগর ও শক্তিপুর থানায় হুমায়ুনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়। বিতর্কিত মন্তব্যের মামলায় তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রেজিনগর থানায় তলব করে পুলিশ। পাশাপাশি শক্তিপুর থানার ওসিকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগেও তাঁর বিরুদ্ধে পৃথক মামলা হয়েছে। সেই মামলায় শুক্রবার তাঁকে শক্তিপুর থানায় হাজিরা দিতে বলা হলেও তিনি যাননি। তবে শনিবার বিজেপির বিরুদ্ধে ‘স্যাঁটা’ মন্তব্যের মামলায় রেজিনগর থানায় হাজিরা দেন হুমায়ুন। তাঁকে সকাল সাড়ে ১১টায় তলব করা হয়েছিল। নির্ধারিত সময়ের প্রায় ৩ মিনিট আগেই থানায় পৌঁছে যান তিনি।
মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারির পর এই মামলায় আগেই আম জনতা উন্নয়ন পার্টির তিন নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁরা রেজিনগরের ওই সভার আয়োজক ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। এবার সেই মামলাতেই জিজ্ঞাসাবাদের মুখে হুমায়ুন কবীর।হুমায়ুনের হাজিরাকে কেন্দ্র করে শনিবার সকাল থেকেই রেজিনগরে চাপা উত্তেজনা ছিল। থানার অদূরে আম জনতা উন্নয়ন পার্টির কার্যালয়ের সামনে দলের কর্মী-সমর্থকদের জমায়েত দেখা যায়। পরিস্থিতির দিকে নজর রাখতে রেজিনগর থানার বাইরে ড্রোন উড়িয়ে নজরদারি চালায় পুলিশ।






