তারাতলা ট্র্যাজেডিতে এবার মানবাধিকার কমিশনের এন্ট্রি! রাজ্যের মুখ্যসচিব ও কলকাতার সিপি-কে নোটিস
জানতে চেয়ে কলকাতার পুলিশ কমিশনার, রাজ্যের মুখ্যসচিব এবং কলকাতা পুর কমিশনারকে নোটিস পাঠিয়েছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন।
Truth of Bengal: কলকাতার তারাতলায় নির্মীয়মাণ গুদাম ধসে ১৬ জন শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় এবার স্বতঃপ্রণোদিত পদক্ষেপ করল জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (NHRC)। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এই সংক্রান্ত খবরাখবরকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক আখ্যা দিয়ে কমিশনের তরফে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কী ধরনের আইনি ও প্রশাসনিক তদন্ত হয়েছে এবং মৃত ও আহতদের পরিবারকে কতটা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে— তা বিস্তারিত জানতে চেয়ে কলকাতার পুলিশ কমিশনার, রাজ্যের মুখ্যসচিব এবং কলকাতা পুর কমিশনারকে নোটিস পাঠিয়েছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন।
প্রসঙ্গত, গত ২৪ জুন তারাতলার ট্রান্সপোর্ট ডিপো রোডে একটি নির্মীয়মাণ গুদাম ভেঙে পড়ার জেরে ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে ১৬ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়। এই বড়সড় বিপর্যয় নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন যে, নির্মাণের নকশাতে গুরুতর ত্রুটির কারণেই এই ভয়াবহ দুর্ঘটনাটি ঘটেছে বলে প্রাথমিক ভাবে পুরসভার কাছ থেকে তিনি জানতে পেরেছেন। কলকাতা বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ইজারা নেওয়া জমিতে যে বেসরকারি সংস্থাটি এই গুদাম তৈরি করছিল, ইতিমধ্যেই সেই সংস্থার মালিককে গ্রেফতার করা হয়েছে। পাশাপাশি, কলকাতা পুরসভার প্রাক্তন মেয়রের ওএসডি-কেও (OSD) এই ঘটনায় পুলিশ জালে তুলেছে।
তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, দালাল এবং সিন্ডিকেটের যোগসাজশেই এই ত্রুটিপূর্ণ ও বিপজ্জনক নকশাটি কলকাতা পুরসভা থেকে অনুমোদন করিয়ে নেওয়া হয়েছিল। এই বেআইনি নকশা অনুমোদনের পেছনে কোনও বড়সড় আর্থিক লেনদেন হয়েছিল কি না, তা-ও এখন তদন্তকারীদের আতশকাচের নীচে রয়েছে। এই ঘটনায় পরোক্ষভাবে আঙুল উঠেছে কলকাতার প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের দিকেও, যা এই বিপর্যয়কে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
অন্যদিকে, প্রশাসনিক স্তরে আইনি পদক্ষেপের পাশাপাশি তারাতলাকাণ্ডের বিজ্ঞানসম্মত তদন্ত শুরু করেছেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞরা। ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়েছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কনস্ট্রাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক পার্থপ্রতিম বিশ্বাস। তিনি জানিয়েছেন, ওই গুদামঘর নির্মাণে ঠিক কী ধরনের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছিল, অনুমোদিত নকশা ও বাস্তব কাঠামোর মধ্যে ফারাক ছিল কি না এবং নির্মাণের সময় ইঞ্জিনিয়ারিং স্তরে কোনও গাফিলতি হয়েছিল কি না, তা ল্যাব টেস্ট ও প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।






