‘দুর্নীতির মাস্টারমাইন্ড খোদ অভিষেক, সব জানতেন মমতা!’, বিস্ফোরক দাবি ‘মিডলম্যান’ তাপসের
সায়নী ঘোষকে ফ্ল্যাট উপহার দিয়েছিলেন অভিষেক? নিয়োগ দুর্নীতির মিডলম্যানের নতুন দাবিতে তোলপাড় রাজ্য!
Truth of Bengal: রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন বা পালাবদল ঘটতেই শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলা এবার সম্পূর্ণ নতুন এবং চরম নাটকীয় মোড় নিল। বিগত কয়েক বছর ধরে চলা এই মেগা কেলেঙ্কারির তদন্তে প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় থেকে শুরু করে একাধিক শীর্ষ আধিকারিক গ্রেপ্তার হওয়ার পর সম্প্রতি জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। কিন্তু এতদিন ধরে যে বড় প্রশ্নটি রাজনৈতিক মহলে ঘুরপাক খাচ্ছিল, ‘কালীঘাটের কাকু’ সুজয়কৃষ্ণ ভদ্রের মুখের সেই রহস্যময় ‘সাহেব’ আসলে কে? এবার জামিনে মুক্ত হতেই সেই ‘সাহেবে’র নাম সরাসরি প্রকাশ্যে এনে হুলস্থুল ফেলে দিলেন মামলার অন্যতম অভিযুক্ত তথা মিডলম্যান তাপস মণ্ডল। একটি সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি সাফ দাবি করলেন, এই নিয়োগ দুর্নীতির আসল মাস্টারমাইন্ড আর কেউ নন, খোদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়!
তাপস মণ্ডলের এই বিস্ফোরক দাবি ঘিরে ওলটপালট হয়ে গিয়েছে বাংলার রাজনৈতিক সমীকরণ। তিনি সুনির্দিষ্টভাবে অভিযোগ তুলে বলেন, “আমি নিজে নগদে ১৯ কোটিরও বেশি টাকা দিয়েছি। টাকার আদান-প্রদান নিয়ে আমি নিয়মিত একটি ডায়েরি মেইনটেইন করতাম। টাকা না পৌঁছালে চাকরিপ্রার্থীদের ভেরিফিকেশন পর্যন্ত আটকে দেওয়া হত। তখন কালীঘাটের কাকু বলতেন, ‘সাহেব’ টাকার জন্য প্রচণ্ড চাপ দিচ্ছেন।” তাপসের দাবি, এই ‘সাহেব’ আদতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর নির্দেশেই কুন্তল ঘোষের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা সুজয়কৃষ্ণ ভদ্রের হাত হয়ে সোজা ওপরে পৌঁছে যেত।
এখানেই শেষ নয়, তাপস মণ্ডলের তিরের নিশানা থেকে বাদ যাননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তিনি অত্যন্ত চড়া সুরে দাবি করেন, “অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশ ছাড়া রাজ্যের বুকে এত বড় দুর্নীতি হওয়া কোনওভাবেই সম্ভব নয়। আর এই সবটাই জানতেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে উনি কিছু জানতেন না, এটা হতেই পারে না।” এই গুরুতর অভিযোগ তুলে অবিলম্বে অভিষেকের গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
পাশাপাশি, যুবনেত্রী সায়নী ঘোষকে নিয়েও এক নতুন জল্পনা উস্কে দিয়েছেন এই মিডলম্যান। তাঁর দাবি, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নাকি সায়নীকে একটি ফ্ল্যাটও উপহার দিয়েছিলেন, যদিও সেই ফ্ল্যাটের সঠিক অবস্থান বা বিস্তারিত তথ্য তাঁর জানা নেই। দীর্ঘদিন ধরে ধামাচাপা পড়ে থাকা এই নিয়োগ মামলায় সরাসরি শীর্ষ নেতৃত্বের নাম জড়িয়ে তাপস মণ্ডলের এই নয়া বয়ান যে কালীঘাট শিবিরের অস্বস্তি ও আইনি চাপ বহুগুণ বাড়িয়ে দিল, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।





