কলকাতা

“ভেতরে কি আরও দেহ?”, তারাতলার ধ্বংসস্তূপে পচা গন্ধে আঁতকে উঠল যাদবপুরের বিশেষজ্ঞ দল

ধ্বংসস্তূপে এখনও পচা গন্ধ! উদ্ধারকাজ শেষ হতেই তারাতলায় যাদবপুরের বিশেষজ্ঞ দল

Truth of Bengal: তারাতলার ট্রান্সপোর্ট ডিপো রোডের নির্মীয়মাণ গোডাউনটির ধসে পড়ার নেপথ্যে যে প্রতি পরতে পরতে বেআইনি নকশা ও নিম্নমানের নির্মাণকাজ লুকিয়ে ছিল, তা প্রাথমিক তদন্তেই স্পষ্ট। কিন্তু এত বড় গলদ থাকা সত্ত্বেও কীভাবে দিনের পর দিন এই বহুতলটির নির্মাণকাজ চলছিল, তা নিয়ে তোলপাড় পুরো কলকাতা। এই মেগা কেলেঙ্কারির আসল বৈজ্ঞানিক কারণ খুঁজে বের করতে এবার ময়দানে নামানো হল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচ প্রথিতযশা ইঞ্জিনিয়ারকে। উপাচার্যের বিশেষ অনুমতি নিয়ে কনস্ট্রাকশন ইঞ্জিনিয়ার পার্থপ্রতিম বিশ্বাসের নেতৃত্বে এই দল শনিবার দুপুরে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। এই স্পেশাল টিমে রয়েছেন:

অধ্যাপক পার্থপ্রতিম বিশ্বাস (কনস্ট্রাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং)

আর্কিটেক্ট মৈনাক ঘোষ (আর্কিটেকচার)

অধ্যাপক মহম্মদ বশিরউদ্দিন শেখ (মেটালার্জি ও মেটেরিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিং)

অধ্যাপক দীপঙ্কর চক্রবর্তী (সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং)

অধ্যাপক সম্রাট সেনগুপ্ত (সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং)

শনিবার দুপুরে দুর্ঘটনাস্থল ঘুরে দেখার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে টিমের প্রধান পার্থপ্রতিম বিশ্বাস এক হাড়হিম করা তথ্য জানান। তিনি বলেন, “আমরা এখানে এসে প্রাথমিক পরিদর্শনের কাজটা করলাম ঠিকই, কিন্তু এখনও ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে তীব্র পচা গন্ধ বেরোচ্ছে। খুব সম্ভবত ভেতরে এখনও কোনও দেহাংশ আটকে রয়েছে।” তবে শেষ পাওয়া খবরে জানা গিয়েছে, শনিবার দুপুর ২টো নাগাদ পুলিশ, দমকল, সেনা ও এনডিআরএফ (NDRF) আপাতত উদ্ধারকাজে ইতি টেনেছে। প্রশাসনের দাবি, ধ্বংসস্তূপের নিচে আর কোনও মানুষ আটকে নেই।

মাটি পরীক্ষা থেকে ল্যাব টেস্ট, দু’টি পর্যায়ে হবে আসল তদন্ত

বিশেষজ্ঞ দলটির কাজ কীভাবে এগোবে, তার একটি রূপরেখা দিয়েছেন অধ্যাপক বিশ্বাস। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, এই তদন্ত কোনও জাদুবলে হবে না, এর পেছনে নিখাদ বিজ্ঞান রয়েছে। তদন্তটি মূলত দুটি পর্যায়ে করা হবে।

প্রথম পর্যায়ে, উদ্ধারকাজ এবং ধ্বংসস্তূপ সরানোর প্রক্রিয়া পুরোপুরি মিটে গেলে তাঁরা আবার সাইটে আসবেন ও পুঙ্খানুপুঙ্খ পরিদর্শন করবেন। দ্বিতীয় পর্যায়ে, দুর্ঘটনাস্থলের মাটি, ভেঙে পড়া লোহা, ইস্পাত, কংক্রিট ও সিমেন্টের চাঙড়ের নমুনা (Samples) সংগ্রহ করে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব অত্যাধুনিক ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করা হবে। মাটির ভারবহন ক্ষমতা বা সয়েল টেস্টিংয়ের গলদ ছিল কিনা, তাও খতিয়ে দেখা হবে। এই সমস্ত ল্যাব রিপোর্টের বিশ্লেষণের পরেই কলকাতা পুলিশের কাছে চূড়ান্ত তদন্ত রিপোর্ট জমা দেবে এই বিশেষজ্ঞ টিম, যার ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী কড়া আইনি পদক্ষেপ নেবে লালবাজার।

Related Articles