বহরমপুরে একমাসব্যাপী জনকল্যাণ মেলা, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ঋণের খতিয়ান দিলেন বিধায়ক
ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক ব্যবসায়ীদের আর্থিকভাবে স্বনির্ভর করে তোলার লক্ষ্যেই কেন্দ্র সরকার এই প্রকল্প চালু করেছে।
Truth of Bengal: বহরমপুর পুরসভা প্রাঙ্গণে সাড়ম্বরে শুরু হল জনকল্যাণ মেলা ও পিএম স্বনিধি মহোৎসব। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির স্বপ্নের প্রকল্প ‘পিএম স্বনিধি ঋণ যোজনা’-র ছয় বছর পূর্তি উপলক্ষে ১ জুন থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত চলবে এই বিশেষ উৎসব। বৃহস্পতিবার আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে প্রকল্পের বিভিন্ন দিক এবং সাফল্যের খতিয়ান তুলে ধরেন বহরমপুরের বিজেপি বিধায়ক সুব্রত মৈত্র।
ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক ব্যবসায়ীদের আর্থিকভাবে স্বনির্ভর করে তোলার লক্ষ্যেই কেন্দ্র সরকার এই প্রকল্প চালু করেছে। বহরমপুর পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, যাঁরা ইতিমধ্যেই এই প্রকল্পের আওতায় ঋণ পেয়েছেন এবং যাঁরা ভবিষ্যতে ঋণ নিতে ইচ্ছুক, তাঁদের একত্রিত করে সচেতনতা বৃদ্ধি করাই এই মহোৎসবের মূল উদ্দেশ্য।
অনুষ্ঠানে বিধায়ক সুব্রত মৈত্র জানান, প্রকল্পের আওতায় প্রথম পর্যায়ে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ১৫ হাজার টাকা ঋণ দেওয়া হয়। এক বছরের মধ্যে ১৫ হাজার ৬০০ টাকা পরিশোধ করলে দ্বিতীয় দফায় ২৫ হাজার টাকা ঋণ পাওয়া যায়। পরবর্তীতে দেড় বছরের মধ্যে দ্বিতীয় কিস্তির ঋণ শোধ করলে তৃতীয় পর্যায়ে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ মিলবে, যা পরিশোধের জন্য তিন বছর সময় দেওয়া হয়।
পুরসভা সূত্রে খবর, বহরমপুর এলাকায় এখনও পর্যন্ত মোট ৭ হাজার ৪৫৩ জন এই প্রকল্পের জন্য আবেদন করেছেন। এর মধ্যে ৪ হাজার ২০০ জনকে ইতিমধ্যেই ঋণ প্রদান করা হয়েছে।
ঋণ পাওয়ার যোগ্যতা প্রসঙ্গে বিধায়ক জানান, বহরমপুর এলাকার হকার ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কে অ্যাকাউন্ট থাকতে হবে এবং সেই অ্যাকাউন্টের সঙ্গে আধার ও মোবাইল নম্বর সংযুক্ত থাকতে হবে। তবে এই ঋণ পাওয়ার জন্য ট্রেড লাইসেন্স বাধ্যতামূলক নয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত সিটি মিশন ম্যানেজার মুনমুন ঘোষ জানান, ২০২০ সালে পথ বিক্রেতাদের আর্থিকভাবে স্বনির্ভর করার লক্ষ্যে পিএম স্বনিধি যোজনা চালু হয়। মেলায় ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা, খাদ্য নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ এবং ‘স্বনিধি সে সমৃদ্ধি’ প্রকল্পের মাধ্যমে বিভিন্ন কেন্দ্রীয় সরকারি প্রকল্পের সুবিধা সম্পর্কে সচেতন করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী সুরক্ষা বিমা যোজনা, জীবন জ্যোতি বিমা যোজনা, পিএম শ্রম যোগী মানধন, জনধন যোজনা, ‘ওয়ান নেশন ওয়ান রেশন কার্ড’, জননী সুরক্ষা যোজনা, বিওসিডব্লিউ নিবন্ধন এবং প্রধানমন্ত্রী মাতৃ বন্দনা যোজনাসহ মোট আটটি কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সঙ্গে হকার ও তাঁদের পরিবারকে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত একাধিক উপভোক্তা জানান, স্বনিধি প্রকল্পের ঋণ নিয়ে তাঁরা ঠেলাগাড়ি কিনে বা ছোট ব্যবসা শুরু করে স্বনির্ভর হয়েছেন। অনেকেই প্রথম কিস্তির ঋণ শোধ করে দ্বিতীয় ও তৃতীয় পর্যায়ের ঋণের জন্য ইতিমধ্যেই আবেদন করেছেন।






