রাজ্যের খবর

ফিরহাদের ওএসডি-কে নিয়ে বিধানসভায় বিস্ফোরক শুভেন্দু! কে এই কালীচরণ, ক্যামাক স্ট্রিটের সঙ্গে যোগ কীভাবে?

WBCS-এ দ্বিতীয়, রাজ্য পুলিশে প্রথম! সেই ‘সুপার অফিসার’ কীভাবে হলেন কলকাতার বেআইনি বহুতলের ডন?

Truth of Bengal: তারাতলার ৫ তলা চা গুদাম ভেঙে ৯ জনের মৃত্যুর ঘটনায় কলকাতা পুরসভার ফাইল খুলতেই একের পর এক বিস্ফোরক কঙ্কাল বেরিয়ে আসছে। বৃহস্পতিবার বিধানসভায় দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কড়া সুরে প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমকে আক্রমণ করার পাশাপাশি এক রহস্যময় ‘কালী’-র নাম তুলেছিলেন। এবার সেই সূত্র ধরেই তারাতলা বিপর্যয়ের তদন্তের আঁচ সরাসরি গিয়ে পৌঁছাল ‘কালীঘাট তৃণমূল’-এর সেকেন্ড-ইন-কম্যান্ড তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দরজায়। বিধানসভায় দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি তোপ দেগে বলেন, “ক্যামাক স্ট্রিটের (অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিস) নির্দেশেই কলকাতা পুরসভায় নিয়োগ করা হয়েছিল ওই কালীকে। আর এই কালী জানে না, এমন কোনও বেআইনি বিল্ডিং কলকাতায় নেই। সব নকশার অনুমোদন হতো ওর কথায়। কালীকে ধরলেই সব সত্য সামনে চলে আসবে।”

মুখ্যমন্ত্রীর এই চরম হুঁশিয়ারির পর থেকেই রাজ্য রাজনীতি এবং লালবাজারের অন্দরে এখন একটাই প্রশ্ন, কে এই কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়? কী তাঁর আসল পরিচয়?

মেধাবী ছাত্র থেকে পুরসভার ‘সুপার ডন’ হওয়ার রোমহর্ষক সফর

খোঁজ নিয়ে জানা গিয়েছে, এই কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের অতীত রেকর্ড অত্যন্ত ঈর্ষণীয়। ২০০৩ সালে ওয়েস্ট বেঙ্গল সিভিল সার্ভিস (WBCS) পরীক্ষায় বসে গোটা রাজ্যে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছিলেন তিনি। এরপর যোগ দেন ভূমি রাজস্ব দফতরে। কিন্তু এখানেই থেমে থাকেননি, ২০০৬ সালে ওয়েস্ট বেঙ্গল পুলিশ সার্ভিস (WBPS) পরীক্ষায় বসে রাজ্য পুলিশে প্রথম স্থান পান তিনি এবং ২০০৮ সালে ডিএসপি হিসেবে যোগ দেন। কিন্তু রহস্যজনক কোনও কারণে প্রশিক্ষণের মাঝেই পুলিশের চাকরি ছেড়ে তিনি আবার পুরনো ভূমি রাজস্ব দফতরেই ফিরে যান।

ফিরহাদের ওএসডি এবং কালীর সেই দাপটের কিসসা!

প্রশাসনিক সূত্রে খবর, ২০১০ সাল থেকেই কলকাতা পুরসভার সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি হয় কালীচরণের। সেই সময় ফিরহাদ হাকিম ছিলেন পুরসভার সাধারণ মেয়র পারিষদ, আর কালীচরণ ছিলেন তাঁর আপ্ত সহায়ক। এরপর ২০১৮ সালে ফিরহাদ হাকিম কলকাতার মেয়র হতেই ভাগ্য খুলে যায় কালীর। অভিযোগ, ক্যামাক স্ট্রিটের সরাসরি সুপারিশে ফিরহাদ হাকিম এই কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিজের ওএসডি (অফিসার অন স্পেশ্যাল ডিউটি) পদে নিয়ে আসেন।

পুরসভার কর্মীদের দাবি, ওএসডি হওয়ার পর থেকেই উত্তরোত্তর বাড়তে থাকে কালীর দাপট। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, তাঁর নির্দেশ ছাড়া পুরসভার একটি ফাইল বা পাতাও নড়ত না। কোনও বড় প্রোমোটার বা ইঞ্জিনিয়ার স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারতেন না। কালীচরণ এতটাই প্রভাবশালী ছিলেন যে তাঁর বিরুদ্ধে মুখ খোলার সাহস ছিল না কারও। কারণ, মেয়রের কাছে কোনও বেআইনি কাজ নিয়ে অভিযোগ জানাতে গেলেও আগে টপকাতে হত এই কালীচরণকেই। তাঁর অনুমতি ছাড়া খোদ ফিরহাদ হাকিমের ঘরেও কেউ ঢুকতে পারত না। তারাতলার এই অভিশপ্ত গোডাউনের ত্রুটিপূর্ণ নকশাও কালীর অঙ্গুলিহেলনেই পাস হয়েছিল বলে সিটের প্রাথমিক অনুমান।

Related Articles