কলকাতা

লেনদেন বন্ধের নেপথ্যে কী? শো-কজের জবাবে ৩ পাতার চিঠিতে সরব অরূপ

মূলত দলের অন্দরে তীব্র মতবিরোধ ও বিভাজনের কথা উল্লেখ করে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের যাবতীয় লেনদেন স্থগিত করার জন্য ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছিলেন অরূপ বিশ্বাস।

Truth of Bengal: তৃণমূল কংগ্রেসের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা লেনদেন বন্ধ করতে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষকে চিঠি পাঠানো এবং তার পরিপ্রেক্ষিতে দলের দেওয়া শো-কজের কড়া জবাব দিলেন অরূপ বিশ্বাস। দলীয় সূত্রে খবর, কালীঘাট থেকে অরূপকে দেওয়া শো-কজের জবাবে তিনি একটি তিন পাতার পাল্টা চিঠি পাঠিয়েছেন। সেখানে দলের তহবিলের টাকা নিয়ে নানা ধরনের তছরুপের বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন প্রাক্তন এই মন্ত্রী। অরূপের দাবি, দলের কোষাধ্যক্ষ থাকাকালীন তিনি অগ্রিম যে সমস্ত চেকে সই করে রেখেছিলেন, সেগুলি কোথায়, কীভাবে ব্যবহার করা হয়েছে এবং কে বা কারা সেই টাকা তুলেছেন, তার কোনো তথ্যই তাঁকে জানানো হয়নি।

মূলত দলের অন্দরে তীব্র মতবিরোধ ও বিভাজনের কথা উল্লেখ করে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের যাবতীয় লেনদেন স্থগিত করার জন্য ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছিলেন অরূপ বিশ্বাস। তবে টুইস্ট হলো, এই চিঠি দেওয়ার আগেই কালীঘাট থেকে তাঁকে কোষাধ্যক্ষ পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। গত ৫ জুন দলীয় স্তরে এক রদবদলের মাধ্যমে অরূপকে সরিয়ে রাজ্যসভার প্রাক্তন সাংসদ শুভাশিষ চক্রবর্তীকে কোষাধ্যক্ষ পদের দায়িত্ব দেয় তৃণমূল। কিন্তু পদ হারানোর পরও গত ১২ জুন অরূপ নিজেকে ‘কোষাধ্যক্ষ’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে ব্যাঙ্কে চিঠি পাঠান। এই কারণেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল তাঁর কাছে জবাব চেয়ে শো-কজ করেছিল, যার উত্তর তিনি গত রবিবার দিয়েছেন।

অরূপ বিশ্বাসের এই চিঠির পর তৃণমূলের দলীয় তহবিল নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তুমুল তোলপাড় শুরু হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরও তৃণমূলের তহবিল থেকে সমস্ত লেনদেন বন্ধ করতে কোমর বেঁধে ময়দানে নেমে পড়েছে। তাঁদের পক্ষ থেকে বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেট এলাকার সংশ্লিষ্ট থানায় একটি লিখিত চিঠি দেওয়া হয়, যেখানে তৃণমূলের কোন ব্যাঙ্কে কী কী অ্যাকাউন্ট রয়েছে তার বিস্তারিত তথ্য উল্লেখ করে অ্যাকাউন্টগুলি সম্পূর্ণ ‘ফ্রিজ’ বা নিষ্ক্রিয় করার দাবি জানানো হয়েছে।

অভিযোগ ও চিঠির গুরুত্ব খতিয়ে দেখে পুলিশও দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। পুলিশের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, তৃণমূলের ওই তিনটি নির্দিষ্ট ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে আপতত সমস্ত ধরনের আর্থিক লেনদেন বন্ধ রাখতে হবে এবং সেখান থেকে কোনো টাকা তোলা যাবে না। দলীয় ও ব্যাঙ্ক সূত্রে খবর, তৃণমূলের এই তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে বর্তমানে প্রায় ৪৪০ কোটি টাকা রয়েছে, যার ওপর এই মুহূর্তে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হলো।

Related Articles