ব্রিটেনের হাতে আটক রুশ জাহাজের ভারতীয় ক্যাপ্টেন, দেশে ফেরাতে কেন্দ্রের হস্তক্ষেপ চাইল পরিবার
‘এমভি স্মিরটোস’ নামে ওই জাহাজটিকে গত ১৪ জুন আটক করা হয়।
Truth of Bengal: ইংলিশ চ্যানেলে রাশিয়ার তথাকথিত ‘শ্যাডো ফ্লিট’-এর একটি তেলবাহী জাহাজ আটক করল ব্রিটিশ নৌসেনা। ‘এমভি স্মিরটোস’ নামে ওই জাহাজটিকে গত ১৪ জুন আটক করা হয়। ব্রিটেনের দাবি, এটি রাশিয়ার নিষিদ্ধ ‘ভূতুড়ে জাহাজ’-গুলির মধ্যে অন্যতম। ঘটনাচক্রে, জাহাজটির ক্যাপ্টেন উত্তরাখণ্ডের নৈনিতালের বাসিন্দা ভারতীয় নাগরিক অজয় পন্থ। তাঁকেও আটক করেছে ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ।
সূত্রের খবর, ১৬ জুন অজয় পন্থকে ব্রিটিশ আদালতে পেশ করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে ব্রিটিশ নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে রুশ তেল পরিবহণ এবং অনুমতি ছাড়া ব্রিটিশ জলসীমায় প্রবেশের অভিযোগ আনা হয়েছে। এই ধরনের অপরাধে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে বলে জানা গিয়েছে।
আদালতে পন্থের আইনজীবী জেমস ডায়মন্ড দাবি করেছেন, অজয় শুধুমাত্র মালিকপক্ষের নির্দেশ পালন করেছেন। তাঁর কথায়, ‘জাহাজের ক্যাপ্টেন হিসেবে তিনি কেবল দায়িত্ব পালন করেছেন। সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা তাঁর হাতে ছিল না। মালিকদের নির্দেশ মেনেই কাজ করেছেন তিনি।’
এ দিকে, অজয়ের গ্রেফতারির ঘটনায় উদ্বেগে তাঁর পরিবার। তাঁকে দ্রুত এবং নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের হস্তক্ষেপ চেয়েছে পরিবার। উত্তরাখণ্ডের স্বরাষ্ট্রসচিব শৈলেশ বাগাউলি জানিয়েছেন, বিষয়টি ইতিমধ্যেই বিদেশ মন্ত্রকের নজরে আনা হয়েছে এবং অজয় পন্থকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের আবেদন জানানো হয়েছে।
ব্রিটেনে অবস্থিত ভারতীয় হাই কমিশনকেও পন্থের সঙ্গে যোগাযোগের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। জাহাজটিতে মোট ২৪ জন নাবিক রয়েছেন, যাঁদের মধ্যে ভারত ও জর্জিয়ার নাগরিকরাও আছেন। অজয়ের স্ত্রী ঋতু পন্থ জানিয়েছেন, স্বামীর গ্রেফতারির খবর তিনি প্রথমে সমাজমাধ্যম থেকেই জানতে পারেন। তাঁর দাবি, গত ১৫ বছর ধরে সমুদ্রপথে কর্মরত অজয়ের বিরুদ্ধে এর আগে কখনও কোনও অভিযোগ ওঠেনি। তিনি বলেন, ‘অজয় শুধুমাত্র নিজের দায়িত্ব পালন করেছে। এতে তাঁর ব্যক্তিগত কোনও ভূমিকা নেই।’ উল্লেখ্য, ‘এমভি স্মিরটোস’ জাহাজটিকে ২০২৫ সালে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ব্রিটেন। ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের দাবি, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে তেল রফতানির জন্য রাশিয়া ‘শ্যাডো ফ্লিট’ বা নাম-পরিচয় গোপন রাখা জাহাজের বহর ব্যবহার করছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্রের দাবি, এই ধরনের প্রায় ৭০০টি জাহাজের মাধ্যমে রাশিয়া বিশ্বের বাজারে বিপুল পরিমাণ তেল সরবরাহ করছে, যা ইউক্রেন যুদ্ধে অর্থ জোগানোর অন্যতম উৎস বলে মনে করা হচ্ছে।






