রাজ্যের খবর

পাণ্ডবেশ্বরে যুব তৃণমূল সভাপতির গাড়িতে দেদার ‘ডিম বৃষ্টি’! আদালত চত্বরেই ‘চোর চোর’ স্লোগান ক্ষুব্ধ জনতার

উত্তেজনা চরমে পৌঁছালে পরিস্থিতি সামাল দিতে স্থানীয় পুলিশের পাশাপাশি দ্রুত নামানো হয় কেন্দ্রীয় বাহিনী।

Truth of Bengal: তোলাবাজি, সন্ত্রাস, ভোট-পরবর্তী হিংসা এবং বালি পাচারের মতো একাধিক গুরুতর অপরাধে এবার শ্রীঘরে গেলেন পাণ্ডবেশ্বরের যুব তৃণমূল সভাপতি শেখ আলাউদ্দিন। শনিবার সকালে তাঁকে থানা থেকে দুর্গাপুর মহকুমা আদালতে নিয়ে যাওয়ার সময় ক্ষুব্ধ জনতার চরম রোষের মুখে পড়তে হয় এই শাসক নেতাকে। প্রিজন ভ্যানে তোলার সময় তাঁকে লক্ষ্য করে ধেয়ে আসে একের পর এক ডিম। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে, বিক্ষুব্ধ জনতা ‘চোর চোর’ স্লোগান তুলে থানা চত্বর কাঁপাতে শুরু করে। উত্তেজনা চরমে পৌঁছালে পরিস্থিতি সামাল দিতে স্থানীয় পুলিশের পাশাপাশি দ্রুত নামানো হয় কেন্দ্রীয় বাহিনী। আধা সামরিক বাহিনীর জওয়ানেরা কোনওমতে ঘেরাটোপ তৈরি করে উত্তেজিত জনতার হাত থেকে বাঁচিয়ে আলাউদ্দিনকে পুলিশের গাড়িতে তোলে। তবে এই গ্রেপ্তারি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে পড়ে যুব তৃণমূল নেতা নির্বিকার চিত্তে দাবি করেন, তিনি এই বিষয়ে কিছুই জানেন না।

ধৃত শেখ আলাউদ্দিনের বিরুদ্ধে মূল অভিযোগ, তাঁর প্রত্যক্ষ মদতেই দীর্ঘদিন ধরে অজয় নদ থেকে শয়ে শয়ে ট্রাক্টর ও ডাম্পার বোঝাই করে অবৈধভাবে বালি পাচার করা হতো। বালি মাফিয়াদের সিন্ডিকেট চালানোর পাশাপাশি এলাকায় সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের থেকে তোলাবাজি এবং রাজনৈতিক সন্ত্রাস ছড়ানোর অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, পূর্বতন তৃণমূল সরকারের আমলে এই দোর্দণ্ডপ্রতাপ নেতার বিরুদ্ধে একাধিকবার লিখিত অভিযোগ জানানো হলেও পুলিশ কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। তবে রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর নতুন সরকার আসতেই তাঁর বিরুদ্ধে পুনরায় অভিযোগ জমা পড়ে এবং সেই সূত্র ধরেই শুক্রবার রাতে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর থেকে একের পর এক তৃণমূল নেতা দুর্নীতি ও ভোট-পরবর্তী হিংসার অভিযোগে শ্রীঘরে যাচ্ছেন, সেই তালিকায় এবার জুড়ল পাণ্ডবেশ্বরের এই যুব নেতার নাম।

বর্তমানে পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে, তৃণমূলের ছোট-বড় যে কোনও স্তরের নেতাকে প্রকাশ্যে দেখলেই সাধারণ মানুষ ‘ডিম থেরাপি’র আশ্রয় নিচ্ছেন। গণরোষের হাত থেকে বাঁচতে শাসকদলের অনেক নেতাকে এখন মাথায় হেলমেট পরে রাস্তায় বেরোতে হচ্ছে, আবার কাউকে পুলিশের জালি ঢাকা গাড়ির ভেতরে আশ্রয় নিতে হচ্ছে। রাজ্যের এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে নবান্ন। এই অবস্থায় আমজনতার উদ্দেশে আইন নিজের হাতে না তুলে নেওয়ার জন্য কড়া বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার নবান্নে আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠক থেকে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট নির্দেশ দিয়ে বলেন, “এই নতুন সরকারের আমলে দুর্নীতিগ্রস্তদের বিরুদ্ধে সরাসরি পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করুন এবং প্রশাসনের ওপর আস্থা রাখুন। আজকেও একজন প্রাক্তন বিধায়ক গ্রেপ্তার হয়েছেন। আইন অনুযায়ী সবার বিচার হবে।”

মুখ্যমন্ত্রী আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটিয়ে যৌথভাবে জড়ো হয়ে কারও বাড়িতে চড়াও হওয়ার বা আইন হাতে তুলে নেওয়ার কোনও প্রয়োজন নেই। সাধারণ মানুষের উদ্দেশ্যে তাঁর স্পষ্ট বার্তা, “দুর্নীতিবাজদের শাস্তি দিতে প্রয়োজনে রাজ্য পুলিশের পাশাপাশি সিআইডি (CID)-র সাহায্য নেওয়া হবে। ইতিমধ্যেই এই ধরণের অপরাধ দমনে এসটিএফ (STF)-এর একটি বিশেষ নতুন টিম গঠন করা হয়েছে। তাই কারও বাড়ি বা কারও কাছে গিয়ে ব্যক্তিগতভাবে বিচার চাওয়ার দরকার নেই, অপরাধী যেই হোক না কেন প্রশাসন তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবেই।” তবে মুখ্যমন্ত্রীর এই আশ্বাসের পরেও পাণ্ডবেশ্বরে তৃণমূল নেতার ওপর ডিম বৃষ্টির এই ঘটনা প্রমাণ করে দিচ্ছে যে, দুর্নীতিগ্রস্ত নেতাদের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ কোন পর্যায়ে পৌঁছেছে।