“অভিষেকের সঙ্গ ছাড়লে তবেই নেত্রী মমতা!”, জোড়াফুল প্রতীক কেড়ে নেওয়ার চরম হুঁশিয়ারি আখরুজ্জামানের
৬৪ জন বিধায়ক নিয়ে নতুন তৃণমূল! ‘যুবরাজ’-এর হাত না ছাড়লে প্রতীক কেড়ে নেওয়ার ভয়ঙ্কর হুঁশিয়ারি
Truth of Bengal: ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে শোচনীয় ভরাডুবির পর তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে ‘খেলা ভাঙার খেলা’ এবার চূড়ান্ত ক্লাইম্যাক্সে পৌঁছে গেল। দলের রাশ কার হাতে থাকবে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নাকি ‘যুবরাজ’ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়? এই নিয়ে যখন বঙ্গে তুমুল টানাপোড়েন চলছে, ঠিক তখনই দলনেত্রীকে সরাসরি নজিরবিহীন শর্ত বেঁধে দিলেন ‘নব্য’ তথা আসল তৃণমূলের মুখ্য সচেতক তথা রঘুনাথগঞ্জের বিধায়ক আখরুজ্জামান। প্রাক্তন এই মন্ত্রীর সাফ হুঁশিয়ারি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে এবার অভিষেক অথবা তৃণমূল, যে কোনও একটিকে বেছে নিতে হবে। যদি তিনি ভাইপো অভিষেকের হাত না ছাড়েন, তবে তাঁরা অফিশিয়াল ‘জোড়াফুল’ প্রতীক ও নাম নিয়েই সম্পূর্ণ নতুন তৃণমূল কংগ্রেস গঠন করবেন।

৮০ জনের মধ্যে ৬৪ জনই বিদ্রোহী! স্পিকারের ঘরে নয়া সমীকরণ
নির্বাচনী বিপর্যয়ের পর বিধানসভায় তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহার নেতৃত্বে ইতিমধ্যেই তৈরি হয়েছে ‘নব্য’ তৃণমূল। ছাব্বিশের ভোটে তৃণমূলের টিকিটে মাত্র ৮০ জন বিধায়ক জয়লাভ করেছিলেন। অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর বিষয় হল, তার মধ্যে ৬৪ জন বিধায়কই এখন দলনেত্রীর সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গিয়ে আলাদা ‘ফ্রন্ট’ গঠন করেছেন।

বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বোসের কাছে চিঠি দিয়ে ইতিমধ্যেই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা এবং আখরুজ্জামানকে মুখ্য সচেতক ঘোষণা করা হয়েছে। বিদ্রোহী এই পরিষদীয় দল স্পষ্ট জানিয়েছে, তাঁরা মমতাদির ‘মেন্টরশিপ’ বা পরামর্শে কাজ করতে রাজি, কিন্তু কোনওভাবেই অভিষেকের স্বৈরাচারী নেতৃত্ব মেনে নেবেন না। ঋতব্রত তো অভিষেকের তৈরি চ্যালাদের সংগঠনকে ‘সং’ বলে প্রকাশ্যেই কটাক্ষ করেছেন।
কংগ্রেসের সঙ্গে জোটের জল্পনা, চাপ বাড়ানোর কৌশল
এরই মাঝে রাজনৈতিক মহলে তীব্র জল্পনা ছড়িয়েছে যে, নিজেদের অস্তিত্ব বাঁচাতে তৃণমূলের অবশিষ্ট অংশ ফের কংগ্রেসের সঙ্গে মিশে যেতে পারে। তেমনটা হলে এই ‘বিদ্রোহী’দের আইনি অসুবিধা হতে পারে। আর সেই কারণেই তড়িঘড়ি মমতাকে শর্ত বেঁধে চাপ বাড়ানোর কৌশল নিলেন বিক্ষুব্ধ বিধায়করা। একই সঙ্গে লোকসভাতেও কাকলি-সুদীপদের নেতৃত্বে ২২ জন বিদ্রোহী সাংসদ আলাদা ফ্রন্ট গঠনের রাস্তায় হাঁটছেন।

গত ৪ মে ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকেই মূলত এই ‘মহাবিদ্রোহ’-এর সলতে পাকানো শুরু হয়েছিল। পরিষদীয় দলের নেতা বাছাই এবং সাম্প্রতিক সই-জালিয়াতি কাণ্ডকে সামনে রেখে যা এখন দাবানলের আকার নিয়েছে। ছাব্বিশের জুনে দাঁড়িয়ে রাজনৈতিক মহলের মত, নিজের হাতে তৈরি দল বাঁচাতে মমতা এখন ভাইপোর মোহ ত্যাগ করেন, নাকি প্রতীক হারিয়ে একা পড়ে থাকেন, সেটাই এখন দেখার।





