“কোন দুর্নীতি হতে দেব না!” আবাসের দায়িত্ব পেয়েই কড়া হুঁশিয়ারি মন্ত্রী কলিতা মাজির
দায়িত্বভার গ্রহণ করার পরেই তাঁর গলায় শোনা গেল যেমন একদিকে মানুষের জন্য কাজ করার প্রবল ইচ্ছা, তেমনই অন্যদিকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে আপসহীন এক বার্তা।
Truth of Bengal: রাহুল চট্টোপাধ্যায়: সাধারণ ঘর থেকে উঠে এসে আজ তিনি রাজ্যের প্রশাসনিক চালিকাশক্তির অন্যতম অংশীদার। মন্ত্রিসভায় বড় দায়িত্ব পাওয়ার পর, এবার নিজের কাজের রূপরেখা স্পষ্ট করলেন আবাসন (আবাস) দফতরের নবনিযুক্ত রাষ্ট্রমন্ত্রী কলিতা মাজি। দায়িত্বভার গ্রহণ করার পরেই তাঁর গলায় শোনা গেল যেমন একদিকে মানুষের জন্য কাজ করার প্রবল ইচ্ছা, তেমনই অন্যদিকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে আপসহীন এক বার্তা।

একান্ত সাক্ষাৎকারে মন্ত্রী কলিতা মাজি অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে রাজ্যের চলমান উন্নয়নমূলক কাজগুলির খতিয়ান তুলে ধরেন। তিনি স্পষ্ট জানান, বর্তমান সরকার যা প্রতিশ্রুতি দেয়, তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করে। তাঁর ভাষায়, “সরকার যেটা বলেছেন, সেটা করে দেখাচ্ছেন। আস্তে আস্তে রাজ্য এগিয়ে যাচ্ছে এবং আগামী দিনেও সাধারণ মানুষের স্বার্থে সমস্ত কাজ করা হবে।” মুখ্যমন্ত্রী তাঁর ওপর যে ভরসা দেখিয়েছেন, তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি জানান, অর্পিত সমস্ত দায়িত্ব তিনি অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে পালন করবেন।
তবে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির প্রেক্ষিতে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা বা রাজ্যের নিজস্ব আবাস প্রকল্প নিয়ে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগ। সেই প্রসঙ্গেই অত্যন্ত কড়া অবস্থান নিয়েছেন নতুন প্রতিমন্ত্রী। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁর দপ্তরে কোনো প্রকার অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না। মন্ত্রীর কথায়, “আমার যে আবাসের দায়িত্ব দিয়েছেন, সেই দপ্তরে আমি কোনো দুর্নীতি হতে দেব না।”
নিজের অতীত এবং মাটির সাথে সংযোগের কথা মনে করিয়ে দিয়ে কলিতা মাজি জানান, তিনি অত্যন্ত সাধারণ এক পটভূমি থেকে উঠে এসেছেন। তাই গরিব মানুষের মাথার ওপর ছাদ পাওয়ার লড়াই এবং তাঁদের কষ্ট তিনি খুব ভালো করেই বোঝেন। তিনি বলেন, “সাধারণ মানুষের যেটা প্রাপ্য, সেটা যেন তারা অবশ্যই পায়। আমি যে জায়গা থেকে উঠে এসেছি, সেই জায়গাতেই থাকতে চাই এবং সেই সব সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাঁদের অধিকার সুনিশ্চিত করতে চাই।”
প্রশাসনিক মহলের মতে, একজন সাধারণ স্তরের নেত্রীকে আবাসনের মতো গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের দায়িত্ব দেওয়া এবং তাঁর এই দুর্নীতিমুক্ত কাজের অঙ্গীকার আগামী দিনে গ্রামীণ স্তরে গরিব মানুষের বাড়ি পাওয়ার প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও গতিশীল করে তুলবে।



