রাজ্যের খবর

মমতা-ই ‘সুপ্রিম লিডার’, চরম হুঁশিয়ারি গুলশনের, ঋতব্রতর বিদ্রোহী ব্লকে ২৪ ঘণ্টায় তুমুল ফাটল

ঋতব্রতর চালে জল ঢাললেন সঙ্গীতা-গুলশনরা? ‘পরামর্শদাতা’ তত্ত্বে জল ঢেলে বিদ্রোহের মাঝেই মমতার জয়গান!

Truth of Bengal: ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটে তৃণমূলের ভরাডুবির পর ঘাসফুল শিবির ভেঙে যে ‘বিদ্রোহী ব্লক’ তৈরি হয়েছে, তার অন্দরে এবার চওড়া ফাটল দেখা দিল। ৫৮ জন বিধায়ককে সঙ্গে নিয়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় যখন নিজেকে বিরোধী দলনেতা ঘোষণা করে সমান্তরাল ‘আসল তৃণমূল’ চালানোর চেষ্টা করছেন, ঠিক তখনই তাঁর শিবিরের অন্দরে মাথাচাড়া দিল তীব্র ভিন্নসুর। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Mamata Banerjee) কেবল ‘পরামর্শদাতা’ হিসেবে রাখার যে প্রস্তাব ঋতব্রত দিয়েছিলেন, তা ২৪ ঘণ্টাও টিকল না। খোদ বিদ্রোহী ব্লকের হেভিওয়েট বিধায়করাই এবার সরাসরি ঋতব্রতর সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে জানিয়ে দিলেন, মমতাই তাঁদের সর্বোচ্চ নেত্রী। অন্যথায় এই নতুন ব্লকে তাঁরা থাকবেন কি না, তা নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে!

“সই করার আগেও যা বক্তব্য ছিল, আজও তাই আছে”

বৃহস্পতিবার বিদ্রোহী ব্লকের হাই-ভোল্টেজ বৈঠকের পর সংবাদমাধ্যমের সামনে কার্যত বোমা ফাটান পাঁচলার দীর্ঘদিনের তৃণমূল বিধায়ক গুলশন মল্লিক। বুধবার ঋতব্রতর ডাকা চিঠিতে সই করলেও, আজ তাঁর সুর ছিল সম্পূর্ণ উল্টো। গুলশন স্পষ্ট বলেন, “আমাদের বলা হয়েছিল, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বেই দল চলবে। উনি শুধু পরামর্শদাতা নন, আমরা চাই ওনার নেতৃত্বেই দল চলুক। যদি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে এই ব্লকে সর্বোচ্চ নেত্রী হিসেবে মান্যতা না দেওয়া হয়, তবে আমরা এই ব্লকে থাকব কি না তা নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে।”

একই সুর শোনা গিয়েছে সিতাইয়ের তৃণমূল বিধায়ক সঙ্গীতা রায় বসুনিয়ার গলাতেও। বৈঠক থেকে বেরিয়ে তিনি এক লাইনে সাফ জানিয়ে দেন, “মমতাই আমাদের সর্বোচ্চ নেত্রী।”

অভিষেকের ছবি চলবে না, কিন্তু মমতার ছবি চাই-ই চাই!

গুলশন মল্লিকের এই মন্তব্য ঘিরে এখন নব্য তৃণমূলের অন্দরে তুমুল শোরগোল। পাঁচলার বিধায়ক আরও জানান, হাওড়া জেলার ৭ জন বিধায়ক, যার মধ্যে সমীর পাঁজা, রাজা সেন ও অরূপ রায়ও ছিলেন। তাঁরা সবাই মিলে নিজেদের মধ্যে আলাদা আলোচনা করেছেন। তাঁদের দাবি, ৫৮ জন বিধায়কের এই ব্লকের কোনও মিটিং-মিছিলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি রাখা যাবে না, এই শর্তে তাঁরা রাজি। অভিষেকের ক্ষেত্রে তাঁদের কোনও বাধ্যবাধকতা নেই। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি এবং তাঁর সর্বোচ্চ নেতৃত্বকে কোনওভাবেই বাদ দেওয়া যাবে না।

এদিনের বৈঠকে মূলত এলাকার সমস্যা, বিভিন্ন কেস-কাছারি এবং পুলিশের অত্যাচার নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এই বিষয়গুলি নিয়ে রাজ্য পুলিশের ডিজি এবং খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কথা বলার জন্য একটি বিশেষ টিমও তৈরি করা হয়েছে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় যেখানে মমতাকে মেন্টর বা পরামর্শদাতা করে দলটার রাশ নিজের হাতে নিতে চাইছিলেন, সেখানে প্রথম বৈঠকেই বিধায়কদের এই ‘মমতা ভক্তি’র জেরে নব্য তৃণমূলের ভবিষ্যৎ এখন বড়সড় প্রশ্নের মুখে পড়ে গেল।

Related Articles