তাজপুর গভীর সমুদ্রবন্দর বাতিল! দাদনপাত্রবাড়ে বিকল্প ১৭০০ একরে নতুন মহাপ্রকল্পের ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর
কলকাতায় আসছে ‘ওয়াটার মেট্রো’! ২২,৭০০ কোটির ‘সাগরমালা ২’ প্রকল্পে যুক্ত হয়ে ইতিহাস গড়ছে নতুন সরকার
Truth of Bengal: ছাব্বিশের বঙ্গে প্রশাসনিক রদবদলের পর এবার রাজ্যের পরিকাঠামো উন্নয়নে এক যুগান্তকারী ও বড়োসড়ো পরিবর্তনের কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বৃহস্পতিবার নবান্নে বন্দর, উপকূলবর্তী এলাকা এবং কলকাতার নদী সংলগ্ন অঞ্চলের উন্নয়ন নিয়ে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, তাজপুরে গভীর সমুদ্রবন্দর তৈরি করা আদপেই সম্ভব নয় এবং রাজ্য সরকার ইতিমধ্যেই এর বিকল্প পরিকল্পনা সাজিয়ে ফেলেছে। পর্যাপ্ত জমির অভাবের কারণেই এই প্রকল্প থেকে আদানিরা এক সময় বেরিয়ে গিয়েছিলেন উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, তাজপুর থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার দূরে দাদনপাত্রবাড়ে ১৭০০ একর সরকারি খাস জমিকে কেন্দ্র করে নতুন বাস্তবসম্মত বন্দর গড়ার কাজ শুরু করবে রাজ্য। এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় জাহাজ মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়ালের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় অনুমতিও আদায় করে নিয়েছে শুভেন্দু প্রশাসন।
১৮তম ‘ওয়াটার মেট্রো’ ও ২২,৭০০ কোটির ‘সাগরমালা ২’
এদিনের মেগা বৈঠক থেকে কলকাতার গণপরিবহনেও এক নতুন বিপ্লবের সূচনা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। দেশজুড়ে চলা জলপথ পরিবহনের আধুনিকীকরণের ছোঁয়া এবার পেতে চলেছে তিলোত্তমাও। কেন্দ্রীয় জাহাজ মন্ত্রকের উদ্যোগে দেশের ১৮তম শহর হিসেবে কলকাতা যুক্ত হতে চলেছে ‘ওয়াটার মেট্রো’ (Water Metro) প্রকল্পের সঙ্গে। এর পাশাপাশি, পূর্বতন সরকারের নীতি বদলে কেন্দ্রের ‘সাগরমালা ২’ প্রজেক্টেও পশ্চিমবঙ্গকে যুক্ত করার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে নতুন সরকার।
আগামী ৫ বছরের জন্য ২২,৭০০ কোটি টাকার একটি বিশাল উন্নয়নমূলক প্রস্তাবনা তৈরি করা হচ্ছে। যার মাধ্যমে সাগর, কাকদ্বীপ, নামখানা, নয়াচর ও খেজুরি থেকে শুরু করে ওড়িশা সীমান্ত পর্যন্ত মৎস্যজীবীদের দীর্ঘদিনের পরিকাঠামোগত কষ্ট দূর করা হবে। একই সঙ্গে গঙ্গাসাগর মেলাকে আন্তর্জাতিক স্তরে উন্নীত করতে এবং বলাগড়ে নদীভাঙন রোধে কেন্দ্র সবরকম সহযোগিতা করবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এছাড়াও রাজ্যে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা ৪৪টি নতুন জেটির মধ্যে ৪১টির অনুমোদন মিলেছে, যার কাজ দ্রুত শুরু হবে।
পুজোতেই ভোলবদল গঙ্গার ঘাটগুলির, সিন্ডিকেট দমনে কড়া টাস্কফোর্স
কলকাতা শহরকে নিয়েও এক আকর্ষণীয় সৌন্দর্যায়নের রূপরেখা তৈরি করেছে শুভেন্দু সরকার। বাগবাজার, শোভাবাজার, আহিরীটোলা, মল্লিকঘাট, বাবুঘাট, রামকৃষ্ণপুর ও বান্দা ঘাটের পুনর্নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। আগামী দুর্গাপুজোর মধ্যেই এই ঘাটগুলির নবীকরণ সম্পন্ন করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে, যেখানে শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ দেব এবং মা সারদা দেবীর পবিত্র স্মৃতিকে বিশেষ প্রাধান্য দেওয়া হবে।
শহরের বিপজ্জনক বাড়ি ও জবরদখল জমি নিয়ে পুরসভাকে কড়া নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি, কলকাতা বন্দরে অবৈধ সিন্ডিকেট ও তোলাবাজি রুখতে এক নজিরবিহীন যৌথ টাস্কফোর্স গঠনের কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। এবার থেকে বন্দর কর্তৃপক্ষ, পুরসভা, পুলিশ, সিআইএসএফ (CISF), কাস্টমস ও গোয়েন্দা বিভাগ একযোগে কাজ করে অপরাধীদের দমন করবে। সব মিলিয়ে, জলপথ ও বন্দরকে ঢেলে সাজাতে রাজ্যে একটি পৃথক ‘জাহাজ দফতর’ তৈরির বিষয়েও কেন্দ্রের সঙ্গে চূড়ান্ত আলোচনা চালাচ্ছে শুভেন্দু প্রশাসন।





