রাজ্যের খবর

“দালালি কম করো, ভাঙার অর্ডার কে দিয়েছে?”, প্রকাশ্যে তৃণমূল চেয়ারম্যানকে নজিরবিহীন ধমক খাদ্যমন্ত্রীর!

“আমার ঘাড়ে কেন বদনাম দিলে?”, বনগাঁয় শৌচাগার ভাঙতেই তৃণমূল চেয়ারম্যানের ওপর চটলেন মন্ত্রী অশোক কীর্তনীয়া

Truth of Bengal: উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ পুরসভা এলাকায় এক জনবহুল বাজারের একমাত্র গণ-শৌচাগার বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়াকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে চরম নাটকীয় পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এই উচ্ছেদ অভিযানের জেরে তৃণমূল পরিচালিত বনগাঁ পৌরসভার চেয়ারম্যান দিলীপ মজুমদারকে প্রকাশ্য রাস্তায় দাঁড়িয়ে তীব্র ভাষায় ধমক দিলেন রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী তথা স্থানীয় বিধায়ক অশোক কীর্তনীয়া। অভিযোগ উঠেছে, মাত্র ১-২ জন প্রভাবশালী ব্যবসায়ীর ব্যক্তিগত স্বার্থ চরিতার্থ করতেই দেড় হাজার ব্যবসায়ীর ব্যবহারের এই পুরনো বাথরুমটি রাতারাতি ভেঙে ফেলা হয়েছে। এই নিয়ে ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীরা রবিবার সরাসরি মন্ত্রীর দ্বারস্থ হতেই রণক্ষেত্রের রূপ নেয় এলাকা।

রবিবার সকালেই বাজারে ঢুকল পুরসভার বুলডোজার

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার সকালে বনগাঁর বিচুলিহাতা এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে রাস্তার পাশে থাকা একটি ময়লা ফেলার ভ্যাট এবং সর্বসাধারণের ব্যবহারের শৌচালয় বুলডোজার দিয়ে ভেঙে পরিষ্কার করে পুরসভা। পুরসভার চেয়ারম্যান দিলীপ মজুমদারের দাবি, এই শৌচালয়ের কারণে বাজারের ভেতর কোনও বড় গাড়ি ঢুকতে পারত না। তাছাড়া তীব্র ময়লা, আবর্জনা ও দুর্গন্ধের কারণে বাজারে ক্রেতাদের আসাও বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। এই এলাকায় বিভিন্ন উৎসব, পুজো ও কীর্তনও অনুষ্ঠিত হয়। সেই সমস্ত দিক বিবেচনা করেই শনিবার বোর্ড মিটিংয়ে সর্বসম্মতভাবে কাউন্সিলররা এই শৌচালয়-সহ মোট পাঁচটি কাঠামো ভাঙার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।

“এতদিন কেন ভাঙোনি?” চেয়ারম্যানকে ধমক মন্ত্রীর

শৌচাগার ভাঙার পরেই ক্ষুব্ধ ও নিরুপায় ব্যবসায়ীরা ফোন করেন বনগাঁর বিধায়ক তথা মন্ত্রী অশোক কীর্তনীয়াকে। তাঁদের দাবি, বাজারে প্রায় দেড় হাজার ব্যবসায়ী ও প্রতিদিন হাজার হাজার গ্রাহক আসেন। বিকল্প কোনও ব্যবস্থা না করেই এভাবে শৌচাগার ভেঙে দেওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন সকলে।

অভিযোগ পেয়েই রবিবার দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছন মন্ত্রী অশোক কীর্তনীয়া। সেখানে পুরসভার চেয়ারম্যান দিলীপ মজুমদারকে সামনে পেয়ে তিনি বেজায় চটে যান এবং ক্ষোভে ফেটে পড়েন। চেয়ারম্যানকে প্রকাশ্যেই ধমক দিয়ে মন্ত্রী বলেন, “তোমাকে এটা ভাঙার অর্ডার কে দিয়েছে? এতদিন তোমরা ক্ষমতায় ছিলে, তখন ভাঙোনি কেন? দালালি করা কম করো। বনগাঁয় না তৃণমূলের গুণ্ডামি চলবে, আর না বিজেপির গুণ্ডামি হবে। তোমার এই কাজের জন্য আমার ঘাড়ে বদনাম কেন দিলে? বনগাঁর ব্যবসায়ীরা আমাকে কেন এসে প্রশ্ন করছে যে, বিজেপি সরকার আসার পরেই কেন এই ভাঙচুর হচ্ছে?”

“ব্যক্তি স্বার্থে সাধারণের ক্ষতি মানব না”

মন্ত্রী অশোকবাবু স্পষ্ট জানিয়ে দেন, নিয়ম অনুযায়ী কোনও অবৈধ নির্মাণ ভাঙতে হলে প্রথমে এসডিও (SDO) এবং তারপর মন্ত্রীকে জানাতে হয়। কিন্তু এখানে কোনও নিয়ম মানা হয়নি। তিনি নিজে দেখেছেন, এখানে দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের স্বার্থে এই শৌচাগারটি ছিল। কোনও বিশেষ ব্যক্তির স্বার্থে এটি ভেঙে দেওয়া তিনি কোনওভাবেই মেনে নেবেন না। একই সঙ্গে পুর প্রশাসনকে মন্ত্রীর কড়া নির্দেশ, অবিলম্বে ব্যবসায়ীরা বাজারের যেখানে বলবেন, সেখানেই পুরসভার নিজস্ব খরচে নতুন করে শৌচালয় তৈরি করে দিতে হবে। মন্ত্রীর এই কড়া অবস্থানের পর বনগাঁর রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।

Related Articles