ভোট বিপর্যয়ের পর প্রথমবার রাজপথে মমতা! মঙ্গলে ধর্মতলায় অবস্থান বিক্ষোভ তৃণমূলনেত্রীর
ভোট-পরবর্তী হিংসা, গণনায় কারচুপি এবং কেন্দ্রীয় এজেন্সির অতিসক্রিয়তার প্রতিবাদে আগামী সপ্তাহে ধর্মতলায় এক বিশাল অবস্থান বিক্ষোভ কর্মসূচির পরিকল্পনা করেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো
Truth of Bengal: বিধানসভা নির্বাচনে অভাবনীয় বিপর্যয়ের পর দলের অন্দরে যখন তীব্র কোন্দল ও ভাঙন চলছে, ঠিক তখনই দলকে চাঙ্গা করতে এবং কর্মীদের মনোবল ফেরাতে এবার নিজেই রাজপথে নামতে চলেছেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোটের ফলাফল প্রকাশের পর কালীঘাটের দলীয় কার্যালয়ে একাধিক রুদ্ধদ্বার বৈঠক বা আইনি সওয়ালের মধ্যে নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখলেও, এবার তাঁকে পুরনো মেজাজে গণআন্দোলনের পথে দেখা যেতে পারে। দলীয় সূত্রে খবর, ভোট-পরবর্তী হিংসা, গণনায় কারচুপি এবং কেন্দ্রীয় এজেন্সির অতিসক্রিয়তার প্রতিবাদে আগামী সপ্তাহে ধর্মতলায় এক বিশাল অবস্থান বিক্ষোভ কর্মসূচির পরিকল্পনা করেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। আগামী ২ জুন, মঙ্গলবার ধর্মতলার রানি রাসমণি অ্যাভিনিউতে এই একদিনের অবস্থান বিক্ষোভ কর্মসূচির আয়োজন করতে চাইছে ঘাসফুল শিবির। এই কর্মসূচির জন্য ইতিপূর্বেই পুলিশের কাছে প্রয়োজনীয় অনুমতি চাওয়া হয়েছে। নবান্ন ও পুলিশ সূত্রে সবুজ সংকেত মিললেই ২ তারিখ দিনভর রানি রাসমণিতে ধর্ণায় বসবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে দলের ভরাডুবির পর এটাই হবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রথম বড় মাপের সক্রিয় রাজনৈতিক আন্দোলন।
২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যের ২৯৪টি আসনের মধ্যে মাত্র ৮০টি আসনে জয়লাভ করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। এই হতশ্রী ফলাফলের জন্য প্রথম থেকেই ‘ভোট লুট’ ও গণনায় কারচুপির তত্ত্বকে সামনে এনেছেন তৃণমূলনেত্রী। তাঁর স্পষ্ট অভিযোগ, অন্তত ৫০টি আসনে গায়ের জোরে ভোট লুট করে জয়ী হয়েছে বিজেপি। এর পাশাপাশি, ভোট-পরবর্তী আবহে রাজ্য জুড়ে তৃণমূল নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা, মারধর এবং কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে দিয়ে রাজনৈতিক চাপ তৈরি করার মতো একাধিক জ্বলন্ত ইস্যুকে সামনে রেখেই এবার সোচ্চার হতে চলেছেন তিনি। ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকেই কার্যত মহাসংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের অন্দরে এখন চলছে তীব্র মুষলপর্ব। কেউ কেউ নেতৃত্বের ভুলত্রুটি এবং অদূরদর্শিতা নিয়ে প্রকাশ্যে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন, আবার কেউ আইনি জটিলতায় জড়িয়ে দলের বিভিন্ন পদ ও দায়িত্ব ছাড়ছেন। দলের এই কঠিন সময়ে কর্মীদের পাশে দাঁড়াতে এবং জনমানসে নিজেদের প্রাসঙ্গিকতা টিকিয়ে রাখতেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই রাজপথে নামার সিদ্ধান্ত বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। কালীঘাটের বৈঠকে তিনি বারবার জয়ী ও পরাজিত প্রার্থীদের মানুষের পাশে থাকার এবং লাগাতার আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার যে বার্তা দিয়েছিলেন, এবার নিজেই তা করে দেখাতে চলেছেন।
নেত্রীর পাশাপাশি দলের অন্দরে নিজের সক্রিয়তা বাড়াচ্ছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও। সূত্রের খবর, শনিবারই তিনি রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ভোট-পরবর্তী হিংসায় আক্রান্ত ও ঘরছাড়া দলীয় নেতা-কর্মীদের সশরীরে দেখতে যাবেন এবং তাঁদের পাশে থাকার বার্তা দেবেন। একদিকে অভিষেকের জনসংযোগ এবং অন্যদিকে ২ জুন মমতার হাইপ্রোফাইল ধর্ণা প্রদর্শন— দুইয়ে মিলে ভোট-পরবর্তী আবহে কলকাতার রাজনৈতিক পারদ যে নতুন করে চড়তে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।






