কলকাতা

তালা ভাঙতেই আলমারি ভর্তি ভোটার-আধার কার্ড! ট্যাংরার তৃণমূল কার্যালয় ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য

তৃণমূল অফিস যেন পরিচয়পত্রের গুদাম! ট্যাংরায় তালা ভাঙতেই আলমারি থেকে বেরোল থরে থরে আধার ও ভোটার কার্ড

Truth of Bengal: বিধাননগর বা সল্টলেকের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার খাস কলকাতার বুকে বিরাট এক কেলেঙ্কারির অভিযোগ সামনে এল। বেলেঘাটা বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত ট্যাংরা এলাকার একটি বন্ধ তৃণমূল কংগ্রেস কার্যালয়ের ভেতর থেকে উদ্ধার হল রাশি রাশি সাধারণ মানুষের আধার কার্ড এবং ভোটার আইডি কার্ড। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় ট্যাংরা ২ নম্বর লেন এলাকা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে ছুটে যেতে হয় বিশাল পুলিশবাহিনীকে। কীভাবে এবং কী উদ্দেশ্যে একটি রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ে সরকারি পরিচয়পত্র এভাবে মজুত করে রাখা হয়েছিল, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

তালা ভাঙতেই ফাঁস হল ভেতরের আসল ‘রহস্য’

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই ট্যাংরা ২ নম্বর লেনের ওই তৃণমূল কার্যালয়টি সম্পূর্ণ তালাবন্ধ অবস্থায় পড়েছিল। দীর্ঘ কয়েক দিন কোনও নেতা-কর্মীর দেখা না মেলায় বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয় বেশ কয়েকজন বাসিন্দা স্বতঃস্ফূর্তভাবে ওই কার্যালয়ের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। সেখানে থাকা একটি পুরনো লোহার আলমারি খুলতেই কার্যত চোখ কপালে ওঠে উপস্থিত সকলের। দেখা যায়, আলমারির তাকে থরে থরে সাজানো রয়েছে শয়ে শয়ে আসল আধার ও ভোটার কার্ড। কার্ডগুলির ওপর থাকা নাম এবং ঠিকানা দেখে স্পষ্ট হয় যে, উদ্ধার হওয়া পরিচয়পত্রগুলির সিংহভাগই ওই এলাকারই সাধারণ বাসিন্দাদের।

“পরিষেবার নামে কেড়ে নেওয়া হত কার্ড”, বিস্ফোরক অভিযোগ আমজনতার

এই বিপুল পরিমাণ পরিচয়পত্র উদ্ধারের খবর চাউর হতেই স্থানীয় মানুষজন ওই দলীয় কার্যালয়ের বাইরে জড়ো হয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েন এবং তীব্র বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। স্থানীয়দের একাংশের গুরুতর অভিযোগ, সরকারি নানা সুযোগ-সুবিধা এবং পুরসভার পরিষেবা পাইয়ে দেওয়ার নাম করে এলাকার কিছু প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা সাধারণ মানুষের কাছ থেকে এই কার্ডগুলি সংগ্রহ করেছিলেন। কিন্তু কাজ হয়ে যাওয়ার পরেও বারবার চেয়েও সেই কার্ডগুলি আর আসল মালিকদের ফেরত দেওয়া হয়নি। অন্যদিকে, রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে, নির্বাচনের সময় যাতে বিরোধীরা বা সাধারণ মানুষ ভোট দিতে না পারেন, সেই উদ্দেশ্যেই কি জোর করে এই কার্ডগুলি আটকে রাখা হয়েছিল?

বিধাননগরের স্মৃতি ফিরল ট্যাংরায়, তদন্তে লালবাজার

উল্লেখ্য, ঠিক কয়েক দিন আগেই বিধাননগরের ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত বাসন্তী দেবী কলোনির একটি তৃণমূল কার্যালয় থেকেও প্রায় একইভাবে বস্তাবন্দি বহু ভোটার ও আধার কার্ড উদ্ধার হয়েছিল। সেই সময় অভিযোগ উঠেছিল, ভোটদানে বাধা দিতেই দুষ্কৃতীরা পরিচয়পত্র কেড়ে নিয়েছিল। ট্যাংরার ঘটনাটি সেই পুরনো ক্ষোভের আগুনে নতুন করে ঘি ঢালল। পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া প্রতিটি আধার ও ভোটার কার্ডের সূত্র ধরে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে, শাসকদলের কোন কোন স্থানীয় নেতা এই বেআইনি মজুতের নেপথ্যে রয়েছেন, তা খতিয়ে দেখে কড়া আইনি পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়েছে পুলিশ।

Related Articles