দেবরাজ-অদিতির হয়ে বিকাশের সওয়াল করায় চরম অস্বস্তিতে বিকাশ
এই হাইভোল্টেজ আইনি পরিষেবা ঘিরে এখন চরম অস্বস্তিতে সিপিএমের সদর দফতর আলিমুদ্দিন স্ট্রিট।
Truth of Bengal: রাজ্যে রাজনৈতিক ক্ষমতা বদলের পর যখন দুর্নীতি মামলার তদন্তের গতি বৃদ্ধি পেয়েছে, ঠিক তখনই এক নজিরবিহীন আইনি ও রাজনৈতিক টানাপোড়েন শুরু হয়েছে আলিমুদ্দিনে। রাজারহাটের তৃণমূল কংগ্রেসের হেভিওয়েট নেতা দেবরাজ চক্রবর্তী এবং প্রাক্তন বিধায়ক অদিতি মুন্সির বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকার বেআইনি সম্পত্তি ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি বিধানসভা নির্বাচনে এই এলাকায় সিপিএমকর্মী-নেতারা তাঁদের এই দুর্নীতির বিরুদ্ধেই জোরালো প্রচার চালিয়েছিলেন। নির্বাচনে তৃণমূল ক্ষমতা হারানোর পর এবং রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠনের পর এই দুই নেতার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হতেই তাঁরা আইনি রক্ষাকবচ ও আগাম জামিনের জন্য কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। কিন্তু চরম বিস্ময় ও বিতর্কের সৃষ্টি হয় যখন দেখা যায়, আদালতে তাঁদের হয়ে সওয়াল করছেন খোদ সিপিএমের রাজ্যসভার সাংসদ তথা প্রবীণ আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। তাঁর আইনি লড়াইয়ের জেরে কলকাতা হাইকোর্ট থেকে আপাতত অন্তর্বর্তীকালীন স্বস্তিও পেয়েছেন ওই দুই তৃণমূল নেতা।
দলের ঘোষিত শত্রু তথা দুর্নীতিতে অভিযুক্তদের পক্ষে বিকাশরঞ্জনের এই আইনি সওয়াল সিপিএমের নিচুতলার কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশার জন্ম দিয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে কমরেডরা প্রবীণ এই তাত্ত্বিক নেতার বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে প্রশ্ন তুলছেন— যে শাসক দলের দুর্নীতির বিরুদ্ধে বামেরা দিনের পর দিন রাজপথে লড়াই করেছে, যাঁদের অত্যাচারে নিচুতলার কর্মীরা আক্রান্ত হয়েছেন, তাঁদের হয়েই যদি দলের শীর্ষ নেতা আদালতে দাঁড়ান, তবে সাধারণ মানুষের কাছে কী বার্তা যাবে? এই ঘটনা যে মাঠপর্যায়ের কর্মীদের মনোবল মারাত্মকভাবে ভেঙে দিয়েছে, তা সোশাল মিডিয়ার দেওয়ালে স্পষ্ট। যদিও নিজের সিদ্ধান্তের পক্ষে অনড় থেকে বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য সাফাই দিয়েছেন যে, তিনি পেশায় একজন আইনজীবী এবং তাঁর কাছে মক্কেলের আইনি অধিকারই শেষ কথা, তাঁদের রাজনৈতিক পরিচয় সেখানে গুরুত্বপূর্ণ নয়। নিজের অবস্থানের সপক্ষে তিনি আমেরিকার এক বিখ্যাত আইনজীবীর উদাহরণ টেনে সোশাল মিডিয়ায় পোস্টও করেছেন, যা নিয়ে দলের অন্দরেই তাঁকে ব্যঙ্গ ও কটাক্ষের শিকার হতে হচ্ছে।
এই হাইভোল্টেজ আইনি পরিষেবা ঘিরে এখন চরম অস্বস্তিতে সিপিএমের সদর দফতর আলিমুদ্দিন স্ট্রিট। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এবার বিধানসভায় শূন্যের গেরো কেটে খাতা খুলেছে বামেরা, এবং নতুন করে সংগঠন গোছানোর কাজ শুরু হয়েছে। ঠিক এই সময়ে বিকাশরঞ্জনের এই ভূমিকা দলের অন্দরে বিতর্ক ও অস্বস্তি কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। আলিমুদ্দিনের প্রাজ্ঞ ও শীর্ষ নেতারা প্রকাশ্যে এই বিষয়ে মুখ না খুললেও, হাবেভাবে বুঝিয়ে দিয়েছেন যে তাঁরা বিকাশের এই আচরণে মোটেও সন্তুষ্ট নন। মুজফফর আহমেদ ভবনের ভেতরে প্রবীণ নেতাদের একাংশের চাপা গুঞ্জন এবং নিচুতলার কমরেডদের প্রকাশ্য বিদ্রোহ— সব মিলিয়ে নতুন রাজনৈতিক আবহে বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের এই ‘পেশাদারিত্ব’ এখন বাম শিবিরের সবচেয়ে বড় বিতর্কের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।






