কলকাতা

‘প্রয়োজনে পুরসভা ভেঙে দিক’, অধিবেশন নিয়ে বিস্ফোরক সজল

‘বেআইনি’ আখ্যা দিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন বিজেপি নেতা তথা কাউন্সিলর সজল ঘোষ

Truth of Bengal: কলকাতা পুরসভার শুক্রবারের একটি সভাকে কেন্দ্র করে শাসক এবং বিরোধী শিবিরের দ্বন্দ্ব এক নয়া মাত্রা পেল। তৃণমূল কাউন্সিলরদের নিয়ে আয়োজিত এই বৈঠককে সম্পূর্ণ ‘বেআইনি’ আখ্যা দিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন বিজেপি নেতা তথা কাউন্সিলর সজল ঘোষ। তাঁর সাফ কথা, পুরসভা কোনও রাজনৈতিক দলের কার্যালয় কিংবা ববি হাকিমের বৈঠকখানা নয়, এখানে নির্দিষ্ট আইনকানুন মেনে অধিবেশন পরিচালনা করতে হয়। বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে প্রয়োজনে পুরসভা ভেঙে দেওয়ার দাবি তোলার পাশাপাশি মেয়রের উদ্দেশ্যে তাঁর প্রশ্ন, “অনাস্থা আনা হলে মেয়র নিজের পদ বাঁচাতে পারবেন তো?”

ঘটনার সূত্রপাত শুক্রবার সকালে, যখন পুরসভার নির্ধারিত মাসিক অধিবেশন এবং মেয়র পারিষদের বৈঠক আগেই স্থগিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তাসত্ত্বেও সকাল হতেই পুরসভায় হাজির হন তৃণমূলের কাউন্সিলররা। তবে মূল অধিবেশন কক্ষটি তালাবন্ধ থাকায় তাঁরা ভিতরে ঢুকতে পারেননি। অভিযোগ, পুরসভার চেয়ারপার্সন মালা রায় তালা খুলে দেওয়ার অনুরোধ করলেও তা খোলা হয়নি। এর পর বাধ্য হয়েই অধিবেশন কক্ষের বাইরে বারান্দায় তৃণমূল কাউন্সিলরদের নিয়ে একটি বৈঠক করেন মালা রায় এবং মেয়র ফিরহাদ হাকিম। এই বৈঠকটিকেই পুরোপুরি বেআইনি বলে দাবি করেছেন সজল ঘোষ।

বিকেলে বিজেপি কাউন্সিলরদের সঙ্গে আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠকে সজল ঘোষ অভিযোগ করেন, এ দিনের এই সভায় কোনও বিরোধী দলের প্রতিনিধিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। নিয়ম বহির্ভূতভাবে বিরোধীদের বাদ দিয়ে এভাবে অধিবেশন ডাকার কৈফিয়ত মেয়রকে দিতে হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন। তিনি আরও কটাক্ষ করেন যে, বিধানসভায় দাঁড়িয়ে যাঁরা বিরোধীদের কণ্ঠরোধের সমালোচনা করেন, তাঁরাই এখন পুরসভায় এসে সেই একই কাজ করছেন। বৈঠকে জাতীয় সঙ্গীত কিংবা নবঘোষিত রাজ্য সঙ্গীত গীত না হওয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এই বিজেপি নেতা। মেয়রের উদ্দেশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি জানান, এই বেআইনি কাজের নেতৃত্ব দিয়েছেন স্বয়ং মেয়র এবং চেয়ারপার্সন। এর সুনির্দিষ্ট উত্তর না মিললে আগামীদিনে হাউস চলতে দেওয়া হবে না বলেও তিনি স্পষ্ট করে দেন। এর আগে বিধানসভা নির্বাচনের ব্যস্ততা কিংবা ‘টক টু মেয়র’ কর্মসূচির দোহাই দিয়ে যেভাবে বারবার পুরসভার অধিবেশন বাতিল করা হয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন সজল ঘোষ। এই সামগ্রিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে বর্তমানে পুরসভার অন্দরে রাজনৈতিক পারদ তুঙ্গে।

Related Articles