হরিশ মুখার্জি রোডে অভিষেকের সম্পত্তির চুক্তিনামা তলব পুরসভার
কলকাতা পুরসভার দাবি, প্রাথমিক অনুসন্ধানে দেখা গেছে যে সম্পত্তিটি নথিবদ্ধ মালিক সংস্থা নিজেরা ব্যবহার করছে না, বরং অন্য ব্যক্তিরা সেখানে থাকছেন।
Bangla Jago Desk: তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পারিবারিক বাসভবন ‘শান্তিনিকেতন’কে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। কলকাতা পুরসভার অ্যাসিসর-কালেক্টর (দক্ষিণ) দফতরের পক্ষ থেকে হরিশ মুখার্জি রোডের ওই সম্পত্তি সংক্রান্ত একটি নোটিস জারি করার পরেই এই শোরগোল পড়ে গিয়েছে। পুরসভার নথি থেকে জানা গেছে, সংশ্লিষ্ট প্রাঙ্গণটি প্রথমে ‘মেসার্স অনিমেষ ট্রেডলিঙ্ক প্রাইভেট লিমিটেড’ নামের একটি সংস্থার নামে কেনা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে এই সংস্থার নাম বদলে হয় ‘লিপ্স অ্যান্ড বাউন্ডস্ ইনফ্রা কনসালটেন্টস প্রাইভেট লিমিটেড’। অভিযোগ উঠেছে, পুরনো বাড়ি ভেঙে সেখানে নতুন বহুতল নির্মাণ করা হলেও সম্পত্তিটির কর নির্ধারণ করা হয়েছে ‘মালিক-অধিকৃত’ বা ‘সেলফ-অকুপাইড’ হিসেবে। অর্থাৎ, এই বাড়ির পুরকর দিচ্ছে ওই সংস্থা, অথচ সেখানে বসবাস করছে অভিষেকের পরিবার।
কলকাতা পুরসভার দাবি, প্রাথমিক অনুসন্ধানে দেখা গেছে যে সম্পত্তিটি নথিবদ্ধ মালিক সংস্থা নিজেরা ব্যবহার করছে না, বরং অন্য ব্যক্তিরা সেখানে থাকছেন। এই কারণে কর পুনর্মূল্যায়নের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট পক্ষের মধ্যে হওয়া চুক্তিপত্র, আর্থিক লেনদেনের নথি এবং দখল সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য তলব করেছে পুরসভা। অ্যাসিসর-কালেক্টর (দক্ষিণ) অরূপ মণ্ডলের স্বাক্ষরিত গত ১৯ মে-র ওই নোটিসে জানানো হয়েছে, চিঠি পাওয়ার সাত দিনের মধ্যে সমস্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হবে। এই নোটিসটি সরাসরি ‘লিপ্স অ্যান্ড বাউন্ডস্ ইনফ্রা কনসালটেন্টস প্রাইভেট লিমিটেড’-এর ডিরেক্টরের উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়েছে।
দক্ষিণ কলকাতার হরিশ মুখার্জি রোডের এই ঠিকানাতেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিবার বসবাস করায় নোটিসটি প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক চাপানউতর তুঙ্গে উঠেছে। বিরোধী শিবিরের অভিযোগ, প্রকৃত ব্যবহারকারীর নাম গোপন করে সম্পত্তি কর নির্ধারণে বড়সড় অনিয়ম করা হয়েছে। যদিও এই বিষয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত প্রাতিষ্ঠানিক স্তরে কোনও পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি। পুর প্রশাসনের একাংশের মতে, কলকাতা পুরসভা বর্তমানে শহরের বিভিন্ন বড় সম্পত্তির কর ফাঁকি ও ব্যবহার সংক্রান্ত তথ্য খতিয়ে দেখার যে সাধারণ অভিযান চালাচ্ছে, এটি তারই একটি অংশ।





