রাজ্যের খবর

“সরকারি কাজে বাধা দিলে রেহাই নেই!”, বাঘমুণ্ডির BMOH নিগ্রহ কাণ্ডে ৪ নেতার ডানা ছাঁটল বিজেপি

ডাক্তারবাবুর গায়ে হাত? উদ্ধত বিজেপি নেতাদের ঘাড় ধরে শিক্ষা দিলেন শমীক ভট্টাচার্য!

Truth of Bengal: গত ১২ মে পুরুলিয়ার বাঘমুন্ডি ব্লকের পাথরডি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক বা বিএমওএইচ (BMOH)-কে তাঁর চেম্বারে ঢুকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ, ভীতি প্রদর্শন এবং শারীরিক ও মানসিক হেনস্থা করার অভিযোগ ওঠে একদল বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে। প্রসূতি মায়েদের কেন ভিনরাজ্যের হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ বা পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, এই প্রশ্ন তুলে চিকিৎসকের ওপর চড়াও হয়েছিলেন তাঁরা। এই ঘটনার পরেই রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র শোরগোল পড়ে যায়। সরকারি কর্মচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নতুন ডবল ইঞ্জিন সরকারের ভাবমূর্তি বাঁচাতে এবার নজিরবিহীন পদক্ষেপ করল বিজেপি।

শমীক ভট্টাচার্যের নির্দেশে ৪ নেতার ডানা ছাঁটা

বিজেপির রাজ্য শৃঙ্খলারক্ষা কমিটির সুপারিশে এবং দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের সরাসরি আদেশে বাঘমুণ্ডির ৪ দাপুটে নেতাকে কারণ দর্শানোর নোটিস পাঠানো হয়েছে। এই তালিকায় রয়েছেন খোদ পুরুলিয়া জেলা পরিষদের সদস্য তথা বাঘমুন্ডি ব্লকের বিজেপির আহ্বায়ক রাকেশ মাহাতো, সহ-আহ্বায়ক বিজয়মোহন সিংহ, ৪ নম্বর মণ্ডলের সভাপতি অরুণচন্দ্র মাঝি এবং যুব মোর্চার সভাপতি মিঠুন কুমার। চিঠিতে স্পষ্ট বলা হয়েছে, সরকারি কাজের জায়গায় গিয়ে ভীতি প্রদর্শন ও হেনস্থা দলবিরোধী কাজের শামিল। আগামী ৭ দিনের মধ্যে জবাব না দিলে চূড়ান্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং আপাতত তাঁরা কোনও দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারবেন না।

“পত্রপাঠ জবাব দেব”, মুখে কুলুপ নেতাদের

এই হাই-প্রোফাইল অ্যাকশন নিয়ে বিজেপির পুরুলিয়া জেলা সভাপতি শঙ্কর মাহাতো বলেন, ‘‘রাজ্য নেতৃত্ব সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এটা সম্পূর্ণ দলীয় বিষয়, তাই এই নিয়ে বাইরে আমি কোনও মন্তব্য করব না।’’ অন্যদিকে শোকজড হওয়া প্রধান অভিযুক্ত রাকেশ মাহাতো সুর নরম করে জানিয়েছেন, “হাসপাতালের বেহাল দশা নিয়ে আমরা বিএমওএইচ-এর সঙ্গে কথা বলতে গিয়েছিলাম। সেখানে কিছুটা উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়েছিল ঠিকই, কিন্তু কোনো হেনস্থা বা মারধরের ঘটনা ঘটেনি। দল যেহেতু লিখিত আকারে জানতে চেয়েছে, আমি নিয়ম মেনে পত্রপাঠ জবাব দিয়ে দেব।” রাজনৈতিক মহলের মতে, নতুন জমানায় প্রশাসন ও দল যে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া বরদাস্ত করবে না, এই অ্যাকশনের মাধ্যমে সেই বার্তাই স্পষ্ট করে দিল বিজেপি।

Related Articles