“সাত দিনের মধ্যে এসে দেখা করো!” প্রশ্ন ফাঁসের টোপ দিয়ে ছাত্রীকে যৌন হেনস্থার অভিযোগ অধ্যাপকের বিরুদ্ধে
এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে, বিশেষ করে এমন এক সময়ে যখন নিট ইউজি ২০২৬ প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা নিয়ে ইতিমধ্যেই সিবিআই তদন্ত চলছে।
Truth of Bengal: লখনউ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সহকারী অধ্যাপকের বিরুদ্ধে এক ছাত্রীকে লাগাতার যৌন হেনস্থা এবং পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস করার টোপ দেওয়ার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ সামনে এসেছে। প্রাণিবিদ্যা বিভাগের বি.এসসি-র এক ছাত্রী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে এই সংক্রান্ত দুটি অডিও ক্লিপ জমা দেওয়ার পরেই এই ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে। অডিও রেকর্ডিংয়ে শোনা যাচ্ছে, ওই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক পরমজিৎ সিং ওই ছাত্রীকে পরীক্ষার আগেই তাঁর সঙ্গে দেখা করার জন্য চাপ দিচ্ছেন এবং প্রশ্নপত্র পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখাচ্ছেন। যদিও ওই ছাত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে তিনি পড়াশোনা শেষ করেছেন এবং তাঁর ফাঁসের প্রশ্নপত্রের কোনও প্রয়োজন নেই। কিন্তু তার পরেও অধ্যাপক তাঁকে আগামী সাত দিনের মধ্যে দেখা করার জন্য হুঙ্কার দেন। অডিওর শেষে ওই ছাত্রীকে বলতে শোনা যায় যে, তাঁকে পুনরায় শ্লীলতাহানি করার উদ্দেশ্যেই অধ্যাপক ডেকে পাঠাচ্ছেন।
এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে, বিশেষ করে এমন এক সময়ে যখন নিট ইউজি ২০২৬ প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা নিয়ে ইতিমধ্যেই সিবিআই তদন্ত চলছে। লখনউ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ামক এই বিষয়ে স্থানীয় থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করার পর পুলিশ অভিযুক্ত অধ্যাপক পরমজিৎ সিংকে হেফাজতে নিয়েছে। তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ওই অধ্যাপক। তাঁর দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের “অভ্যন্তরীণ রাজনীতি”র শিকার করে তাঁকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হচ্ছে। অন্যদিকে, এই ঘটনার প্রতিবাদে এবং অভিযুক্ত অধ্যাপকের কঠোর শাস্তির দাবিতে অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ এর কর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ব্যাপক বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। এবিভিপি-র লখনউ বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিটের সভাপতি জয় শ্রীবাস্তব দাবি জানিয়েছেন যে, উত্তরপ্রদেশ সরকার এবং স্থানীয় পুলিশের উচিত পরীক্ষা দুর্নীতি ও যৌন হেনস্থার কঠোর ধারায় ওই অধ্যাপককে গ্রেপ্তার করা।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এই পুরো ঘটনাটিকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখছে এবং প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নকারী কোনও কাজ বরদাস্ত করা হবে না বলে সাফ জানিয়েছে। উপাচার্য জেপি সাইনি বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ অভিযোগ কমিটিকে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এই ঘটনার বিশদ তদন্ত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক আধিকারিক জানান যে, শুক্রবারই প্রক্টরের অফিসে অভিযুক্ত অধ্যাপক, ভুক্তভোগী ছাত্রী এবং আরও কয়েকজন শিক্ষার্থীর বয়ান রেকর্ড করা হয়েছে। তদন্ত প্রক্রিয়ার ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তী চূড়ান্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করবে প্রশাসন।






